ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
চট্টগ্রামে কিডনি হাসপাতালেও ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের হুমকি
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ২:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 56

চট্টগ্রামের পর এবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (নিকড) ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে ভারতীয় কোম্পানি স্যানডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারের কাছে তাদের ৩০ কোটি টাকা পাওনা। আর্থিক সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। কাঁচামালের মজুদও শেষ পর্যায়ে। ফলে পাওনা পরিশোধ না করলে যেকোনো সময় ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর আগে চট্টগ্রামে তারা সেবা বন্ধ করলেও পরে আবার চালু করে।

অন্যদিকে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ করার ঘোষণায় সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। এর আগে বকেয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে জটিলতা থাকায় গত দুই দিন সাময়িকভাবে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিয়েছিল স্যানডো। তার মধ্যে রোববার ৬ ঘণ্টা এবং সোমবার ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। তবে মঙ্গলবার সেবা কার্যক্রম বন্ধ না করলেও রোগী ও স্বজন ভোগান্তি ছিল চরমে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করার কথা থাকলেও ১ ঘণ্টা দেরিতে চালু হয়। আবার দুপুর ১২টার শিফট শুরু হয় দেড়টায়। এ ছাড়াও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেকে বাড়ি ফিরে যান বলে ভুক্তভোগীরা জানান। নতুন করে ডায়ালাইসিস শিডিউল বন্ধ থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হতদরিদ্ররা।

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সপ্তাহে আমাদের দুবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। এখন চট্টগ্রামের মতো যদিও ঢাকায়ও বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে মরা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।

কম খরচে দেশের দরিদ্র কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা দিতে আট বছর আগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চালু হয় স্যানডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে এই সুবিধা চালু রেখেছে সরকার। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি হাসপাতালে সেবা দেয় তারা। মোট ডায়ালাইসিসের ১০ শতাংশ করছে তারা। বকেয়া পরিশোধ নিয়ে গত সপ্তাহে স্যানডোর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিলেও এখনও পরিশোধ করা হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কিডনি ইনস্টিটিউটে সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার শিফটে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু থাকে। এর মধ্যে সরকারিভাবে যাদের কার্ড ইস্যু করা আছে তাদের ডায়ালাইসিস করতে খরচ ৫৩৫ টাকা। আর যাদের কার্ড নেই তাদের খরচ হয় ২৯৩৫ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০ জন রোগী এখান থেকে ডায়ালাইসিস করে থাকেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৬০ জনের মতো রোগী ডায়ালাইসিস নিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় জাতীয় কিডনি রোগ ইনস্টিটিউটে ৬৯টি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫টি মেশিনে সেবা দেয় স্যানডোর। রোগীদের কাছ থেকে সরকারি খরচের কাছাকাছি অর্থ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। আর বাড়তি খরচ ভর্তুকি হিসেবে স্যানডোরকে দেয় সরকার। এ ছাড়াও দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে ১৩০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭০০টি ডায়ালাইসিস মেশিনে দৈনিক ১০ হাজার রোগীর সেবা দেওয়া হয়। এর বেশিরভাগই ঢাকায়। রাজধানীর বাইরে ডায়ালাইসিসের সুযোগ তেমন নেই। এ ছাড়া সরঞ্জাম আমদানি এবং কিছু ওষুধের দাম অত্যধিক।

গত তিন বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন মানিকগঞ্জের ফারুক হোসেন। গত অক্টোবর থেকে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। কিন্তু ডায়ালাইসিসের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে তিনি। 

তার ছেলে মারুফ হোসেন জানান, চার মাস আগে শিডিউলের জন্য আবেদন করেছেন তিনি; কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি। তাকে জানানো হয়েছে-  শিডিউল প্রক্রিয়া বন্ধ আছে, ফলে নতুন কোনো কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে না। আর কার্ড না থাকায় সপ্তাহে দুই বার ডায়ালাইসিস করাতে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে প্রতি মাসে ডায়ালাইসিস, ইনজেকশন ও যাতায়াত মিলে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে হয় তাকে। কিন্তু কার্ড থাকলে এত টাকা খরচ হতো না।

কাজী রহিম সাঈদ বলেন, শিডিউল পাওয়ার জন্য দরজায় দরজায় ঘুরছি; কিন্তু পাইনি। আমার মতো অনেকেই আছে। আমি শিডিউলের ফরম পূরণ করেছি গত ডিসেম্বরে। এখনও জমা দিতে পারিনি। যে রুমে ফরম জমা নেওয়া হয়, সেখানে গেলেই বলে নতুন কোনো কার্ড ইস্যু হচ্ছে না। তাই ফরম জমা নেওয়া হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ থেকে ডায়ালাইসিস সেবা নিতে আসা মুজিবর রহমান  বলেন, গত মাসে আমি এখানে ভর্তি ছিলাম। এর পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে এখানে দুবার ডায়ালাইসিস নিচ্ছি। ডায়ালাইসিসের তারিখ ও সময় পূর্বনির্ধারিত থাকে। সে অনুযায়ী সকাল ১২টার আগে আসি। কিন্তু আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এখন দুপুর দেড়টা বাজে এখনও শুরু হয়নি। ৪ ঘণ্টা  ডায়ালাইসিস করা হয়,  আমি খুবই অসুস্থ মানুষ। বসেও থাকতে পারি না। ডায়ালাইসিস কখন শুরু হবে- আর কখন বাড়ি যাব?
দীর্ঘক্ষণ ডায়ালাইসিস শুরু না হওয়ায় রহিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই কষ্ট আর সহ্য হয় না।

তিনি বলেন, শুনছি চট্টগ্রামের মতো এ হাসপাতালেও ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে আমাদের মরা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা জুবায়ের হোসেন বলেন, আমার মাকে সকাল ১০টায় নিয়ে এসেছি। রিসিপশনের লোকজনকে বারবার বলার পরেও ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে না। তারা বলছে শয্যা নেই। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ডায়ালাইসিসের জন্য নেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে আমরা আছি।

এর আগে গত বছর জাতীয় কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (নিকড) ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই সেবা বন্ধ করে দিয়েছিল স্যানডোর। এ ছাড়াও এ মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে কিডনি ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে স্যানডোর বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা। একপর্যায়ে সেবা বন্ধ করে দিলেও পরে তা আবার চালু করা হয়।

কিডনি ইনস্টিটিউটে নিয়োজিত স্যানডোরের ব্যবস্থাপক নিয়াজ খান সময়ের আলোকে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে সরকারের কাছে বকেয়া আছে ৩০ কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ চিঠিতে ঢাকায় ২১ জানুয়ারির পর সেবা বন্ধের কথা বলা হয়। এখনও আমাদের কর্মকর্তারা প্রতিদিন যোগাযোগ করছেন; কিন্তু এখনও সাড়া পাচ্ছি না। আর টাকা না পেলে  তো সেবা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

তিনি বলেন, ডায়ালাইসিস করতে ২৫ ধরনের ইকুইপমেন্ট লাগে। দেশের বাইরে থেকে কাঁচামাল আনতে হয়। আর্থিক সংকটের কারণে কাঁচামাল আনতেও সমস্যা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছি না। এ অবস্থায় সেবা চালিয়ে যাওয়া তো কঠিন। তবুও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু এভাবে আর কত দিন চালাব?  
কিডনি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এফ এম আক্তার হোসাইন সময়ের আলোকে বলেন, স্যানডো ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানিয়েছি। মনে হয় একটা সমঝোতা হয়েছে। আজ সকাল থেকে ডায়ালাইসিস চলছে। আশা করি আর কোনো সমস্যা হবে না।


https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com