ই-পেপার বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

স্যালুট আপনাকে
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩, ৭:৪৮ এএম  (ভিজিট : ১৬৩)
খাল-বিল, নদী-নালা-জংলা একটি দেশ। নদীকূলে বাস টাইপের জীবনযাপন ছিল আমাদের পূর্বপুরুষ-পূর্বনারীদের। নদীতে মাছ, মাঠে ধান এ রকমই ছিল তো? দেশকাল-রাজনীতি ভাবাভাবির চর্চা ছিল না। একদিকে সুন্দরবন, অন্যদিকে সমুদ্র ও পাহাড়, মধ্যে সমতল। সমতলে অনেক নদী, তারা হিমালয় দুহিতা, তারা সমুদ্রে ধাবিত। এ রকম একটা জনপদ কখনো রাজনৈতিক-ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন ছিলই না। সেই স্বাধীনতা বিশ শতকের সত্তরের দশকের শুরুতেই। ১৯৭১ সালে। ব্যাপারটা তো একদিনে ঘটেনি, এমনি এমনিও ঘটেনি।

১৯৭১-এর আগে তো ১৯৪৭ সাল। ব্রিটিশের শাসন থেকে ভারত স্বাধীন হলো এবং ভাগ হলো। সবাই যাকে বলে দেশভাগ। আবার পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগ হলো মানে পাঞ্জাবি ভাষা ও বাংলা ভাষাও ভাগ হলো। ১৯৪৭ সালের সেই স্বাধীনতা তদানীতন পূর্ব পাকিস্তানের কাজে আসেনি। তেইশ-চব্বিশ বছর পরে পূর্ব পাকিস্তান হলো বাংলাদেশ। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৯ মাস পার করেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাড়ে ৭ কোটি মানুষ। লাখো প্রাণ গেল। মান গেল। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। সেই স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

বাঙালি তেমন যোদ্ধা জাতি নয়, ওই যে, নদীকূলে করি বাস জাতি, জঙ্গলে মধু ও কাঠ সংগ্রহ করা জাতি, নদীতে মাছ ধরা জাতি, মাঠে ধান ফলানো জাতি, কৃষক-কৃষাণী। কামার-কুমার। তাঁতি-জোলা জাতি; তাই সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে জাতিগতভাবে স্বাধীন হওয়ার অভিপ্রায় এখানে তেমন পরিলক্ষিত ছিল না। বিচ্ছিন্ন কিছু লড়াই-সংগ্রাম ছিল না, তা নয়, তবে সেগুলোকে দানা বাঁধিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেটা পেরেছেন, করে দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা অর্থবহভাবে অর্জিত হতে এখনও অনেক দূর যাওয়ার বাকি আছে আমাদের, আমরা যাব। যে জাতি জীবন ঢেলে স্বাধীনতা অর্জন করে, তাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাঙালি, একে পুনরায় পরাধীন করা অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ হয়ে আছেন সেই খালবিল জলার টুঙ্গিপাড়া থেকে আসা ছেলেটি। আজ তাঁর জন্মদিন। এ রকম সাহসী বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েও ও রকম সাহসী বাঙালি পাওয়া যাবে না আর? 

বাংলার সুযোগ্য সন্তান তিনি। দায়িত্ব নিয়েছিলেন একটি পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানোর। সাধারণ মানুষ তাঁকে বিশ্বাসে করতে পেরেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিদান তিনি দিয়েছেন। নিজের বুকের রক্ত ঢেলেই দিয়েছেন। কত শিশুই তো ঘরে ঘরে জন্মাচ্ছে প্রতিদিন। ঠিক ও রকম সাহসী সন্তান যেন বা বাংলা আর পায়নি আজও। হিমালয়ের মতো ও রকম বুকের পাটা উঁচু করে দাঁড়ানো রাজনীতিবিদ আজ আর কই? গোটা পৃথিবীতে অনেক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু খুব কম দেশেরই এমন নেতা আছেন, যাদের ভূমিকা প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও অনেক বড়, বঙ্গবন্ধু সে রকম বড় একজন মানুষ। একজন রাজনীতিবিদ। একজন নেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বাঙালি জাতি, বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করবে চিরদিন, শ্রদ্ধা করবে। এটি তাঁর প্রাপ্য। প্রাপ্য দিতেই হবে। বড়কে বড় বলাটাই সত্য ও সুন্দর। গ্রেট লিডার, স্যালুট আপনাকে।





https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close