ই-পেপার বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাঁধ সংস্কারে স্বেচ্ছা উদ্যোগ
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩, ৬:০৭ এএম  (ভিজিট : ১২৬)
উজানের ভারী বৃষ্টির পানি এসে প্রবেশ করছে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার নজরখালী বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে। পাহাড়ি ঢল ঠেকিয়ে হাজারো হেক্টর জমির ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছা উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে সাড়া না পেয়ে কৃষকরা নিজেরাই বাঁধটির সংস্কারকাজ শুরু করেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে তারা বাঁধের জন্য বস্তা, বাঁশসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে কয়েক দিন ধরে কাজ করছেন। 

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে যাদুকাটা, বৌলাই, রক্তি, পাটলাই ও পইকরতলা নদীর পানি অনেক বেড়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার নজরখালী বাঁধটি ভেঙে যায়। এসব নদীর পানি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পাউবোর তত্ত্বাবধানে জেলার ১২টি উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু জীববৈচিত্র্য রক্ষার কথা বলে টাঙ্গুয়ার হাওরের ভেতরে অবস্থিত নজরখালী বাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কারে আপত্তি জানায় পাউবো ও জেলা প্রশাসন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকী জানান, পরিবেশ রক্ষার কথা বলে বাঁধটি সংস্কার করা হচ্ছে না। তাই নিজেদের ফসলি জমি রক্ষায় বাধ্য হয়ে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বাঁধটি সংস্কারের কাজ করছেন। গত ১৫ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নিজ উদ্যোগে নজরখালী বাঁধের সংস্কারকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজ শুরুর এক দিন পর তা বন্ধ করতে বাধ্য হন। 

এ বিষয়ে জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, যখন বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয় তখন হাওর অঞ্চলে ফসল ছিল না। তাই জেলা প্রশাসন থেকে বাঁধটি পাউবোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তা ছাড়া বাঁধটি রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে অবস্থিত হওয়ায় তাদের কিছু করার নেই।

এদিকে জেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল রক্ষার জন্য সম্প্রতি নির্মিত বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বলছেন, বাঁধগুলোতে ভালো করে দুর্মুজকরণ (কমপেকশন) না করায় অল্প বৃষ্টিতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে বাঁধগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

হাওর আন্দোলনের নেতা ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে সরকার বিপুল বরাদ্দ দিলেও কমপেকশন ও দূর্বা লাগানোয় নজরদারি কম ছিল। ফলে কাজ শেষ হয়েছে দাবি করলেও এখনও এই জরুরি কাজগুলো অসমাপ্তই রয়েছে। ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার বেশিরভাগ বাঁধেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল দেখা গেছে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বেশিরভাগ বাঁধেও। 

ধর্মপাশা উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মজুমদার বলেন, ‘আমাদের ধর্মপাশা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিয়ম মেনে কাজ হলে অল্প বৃষ্টিতে ফাটল সৃষ্টি হতো না। তা ছাড়া এখনও বাঁধগুলোতে দূর্বা লাগানো হচ্ছে না।

জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ শামসুদ্দোহা বলেন, ‘অল্প বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেসব বাঁধে সামান্য ফাটল দেখা গেছে, তা সংস্কারসহ দূর্বা লাগানোর কাজ চলছে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close