ই-পেপার শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪
শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪

মার্কিন ভিসানীতির প্রভাব রাজনীতিতে
দুই দলেরই নরম সুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩, ৬:৩৩ এএম  (ভিজিট : ৪৭৬)
কয়েক দিন আগেও যেখানে হুঙ্কার আর আক্রমণাত্মক মনোভাব ছিল; আমেরিকার ভিসানীতির পর হঠাৎ তা বদলে গেছে। দেশের রাজনীতির মাঠে এখন বেড়েছে শান্তিপূর্ণ শব্দের ব্যবহার। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউই সংঘাত চাচ্ছে না। প্রতিহতের কথা বলে সুর বদলেছে আওয়ামী লীগের। প্রতিরোধের বদলে তারা বিএনপিকে শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করতে চায়। বিএনপিও বলছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের কথা। আর জাতীয় পার্টিসহ অন্যরা সংলাপের তাগিদ দিচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের বেশ আগে বাংলাদেশ নিয়ে হঠাৎ আমেরিকার নতুন ভিসানীতির পর বদলাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক চিত্র। মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোর কথাবার্তায় এখন শান্তিপূর্ণ সুর। হুঙ্কার, লাঠির উত্তাপ অনেকটা কমেছে।

সূত্র বলছে, মার্কিন ভিসানীতির পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখে একে অন্যকে দোষারোপ করলেও ভেতরে সতর্ক তারা। সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এ ভিসানীতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তারা ধারণা করছে, এটা বিএনপির দীর্ঘ লবিংয়ের ফসল। এর পেছনের কারণে বের করার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা। তাই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করছে। এ ছাড়া সংঘাতে না জড়াতে মাঠ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ক্ষমতাসীনরা।

আর মার্কিন ভিসানীতিতে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি বেশ উৎফুল্ল হলেও নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি আরও গভীর পর্যবেক্ষণ করছেন। নতুন এ ভিসানীতি সামনে রেখেই চূড়ান্ত আন্দোলনের কৌশল ও কর্মসূচি ঠিক করতে যাচ্ছে দলটি। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, আমরা মনে করি ভিসানীতি গণতন্ত্রের পক্ষে আছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক হবে। তবে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। আন্দোলন অহিংসভাবে চালিয়ে যেতে হবে। নেতাকর্মীদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক দিক মাথায় রেখে এখন আমাদের কর্মসূচি প্রণনয় করা হচ্ছে। আগেভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। মার্কিন ভিসানীতি বিষয়ে যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি ঠিক করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এখন মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবে বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও প্রলোভন সামনে আসবে। এগুলো রুখে দিতে হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির আগেই পরিকল্পনা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা, যা গত মে দিবসে শ্রমিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র, তরুণ, যুবা ও কৃষকদের নিয়ে সমাবেশ করার চিন্তা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী সব ছাত্র সংগঠনকে অভিন্ন ছায়ায় আনার চেষ্টা করছি। নব্বইয়ে সব ছাত্র সংগঠন এক হয়ে মাঠে নেমেছিল। এবারও সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের আন্দোলনে তরুণদের আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা থাকবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক মনে করেন, ভিসানীতির ফলে সরকার ভয়ভীতি না পেলেও তারা কিছুটা নিবৃত হবে। কারণ বিদেশিরা সবাই এবার সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে। ভিসানীতির ফলে সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এই আবহ ধরে রেখে আন্দোলন চাঙ্গা করতে হবে। ভিসানীতি বিএনপির আন্দোলনের জন্য সতর্কবার্তা কি না- এর কৌশলী জবাব দেন ফারুক। তিনি বলেন, আমরা তো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন করতে চাই। নির্বাচন ঠেকানোর চিন্তা আমাদের নেই। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন।

তবে ২০১৪ সালে আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল। আন্দোলন মোকাবিলা করেই তখন সরকার একতরফা নির্বাচন করেছিল। ২০১৪ সালে বিএনপির আন্দোলন এক পর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল। আর ২০১৮ সালে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, এখন থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ হলে পুলিশের ভিডিও জাতিসংঘে পাঠানো হবে।

এদিকে সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, সংঘাতে নয়। বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার সবই আমরা করব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কেরানীগঞ্জ এবং খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর নাটক করেছে। এসবের মধ্য দিয়ে তারা ভুল বার্তা দিচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের বলব, আপনারা শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু করব না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ মনে করেন, এই ভিসানীতি বিএনপিকে ভোটে আনতে বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কারণ তারা নির্বাচনে না এলে এফেক্টেড হবে। আমরা বিএনপির কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করছি।

আর সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ভিসানীতি বিষয়ে আমরা ইতিবাচক। তবে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট দূর করা জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভিসানীতির প্রভাব ইতিমধ্যে পড়েছে। বড় দুই দলের নরম সুর দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, সরকার ছাড় দিয়ে হলেও বিএনপিকে ভোটে আনবে। তবে তত্ত্বাবধাযক সরকার হয়তো দেবে না। অন্য কোনো ফর্মূলা আসতে পারে। আর বিএনপিকেও নির্বাচন ঠেকাও মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখন সবকিছু হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার মনে করেন, মার্কিন ভিসানীতি সরকারের জন্য প্রত্যক্ষ বার্তা। আর বিএনপির জন্য পরোক্ষ বার্তা। সরকার এটিকে স্মার্টলি মোকাবিলা করছে। ছাড় দিতে হবে উভয়কে। তবে অনড় থাকলে সময়ই বলে দেবে ভিসানীতির পাশর্^প্রতিক্রিয়া কী হবে। তাই সবাইকে সিরিয়াসলি নিতে হবে।




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close