ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২ অক্টোবর ২০২৩ ১৭ আশ্বিন ১৪৩০
ই-পেপার সোমবার ২ অক্টোবর ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin-Mohammad-City-(Online).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/SA-Live-Update.jpg
সামাজিক সুন্নত হাদিয়া
হুসাইন আহমদ
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩, ৩:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 116

হাদিয়া বা উপহার একটি সামাজিক আমল। উপহার, গিফট, হাদিয়া, উপহার বা উপঢৌকন যাই বলি না কেন, তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরস্পরের ভেতর ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন উপলক্ষে মানুষ উপহার দিয়ে থাকে।

উপহারের সুফল তখনই লাভ হবে, যখন তা দেওয়া হবে কেবল আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। পাশাপাশি যখন আত্মীয়তার হক আদায়, আখেরাতের সফলতা অর্জন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে মর্যাদা লাভই উদ্দেশ্য থাকবে। পার্থিব কোনো বেনিফিট, সুনাম, বাহবা লাভের উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হাদিয়া ও উপহার বিনিময়ের উদ্দেশ্য এমন হয় না। বিয়ে-শাদিতে লক্ষ করে দেখুন, অধিকাংশই কেবল প্রথা পালন থাকে লক্ষ্যবস্তু। রসম-রেওয়াজ ছাড়া এভাবে আত্মীয়স্বজনকে হাদিয়া দেওয়ার তওফিক হয় না। অথচ হাদিয়া সারা বছর আদান-প্রদানের জিনিস। আসলে স্বাভাবিক সময়ে হাদিয়া লেনদেনের মাধ্যমেই আসল অন্তরঙ্গতা প্রকাশ পায়। তখন অন্তরে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। তখন হাদিয়া লেনদেন হয় অমলিন এবং বরকতপূর্ণ।

উপহারের ক্ষেত্রে উপহারের মূল্য নয়, অন্তরের আবেগ ও নিয়ত বিবেচ্য। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা হলো হাদিয়া-তোহফা কী জিনিস দেওয়া হচ্ছে সে দিকে লক্ষ করো না; বরং কী আবেগের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে তাই দেখো। মহব্বতের সঙ্গে ক্ষুদ্র কোনো জিনিসও যদি দেওয়া হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা নাম-ডাকের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বহুমূল্যের যেকোনো বস্তু অপেক্ষা হাজার গুণ শ্রেয়।

এ বিষয়ে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো প্রতিবেশী যেন তার অন্য প্রতিবেশীর পাঠানো হাদিয়াকে তুচ্ছ মনে না করে, তা ছাগলের একটা পায়াই হোক না কেন’ (বুখারি : ৫৫৫৮; মুসনাদে আহমাদ : ৭২৭৪)। অর্থাৎ কী দিল সেদিকে তাকিও না। বরং যেই আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে দিয়েছে তা উপলব্ধি করো। যদি মহব্বতের তাগিদে দিয়ে থাকে, তবে তার মূল্য বোঝার চেষ্টা করো। কেননা তা অত্যন্ত বরকতপূর্ণ। পক্ষান্তরে অত্যন্ত মূল্যবান কোনো উপহারও যদি কেবল মানুষকে দেখানোর জন্য দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তাতে কোনো বরকত থাকে না। বাস্তবেও দেখা যায়, সাধারণত অল্প দামের জিনিস হাদিয়া দিলে তাতে কৃত্রিমতার সম্ভাবনা কম থাকে, কিন্তু দামি জিনিসে লোক-দেখানোর একটা ব্যাপার থাকে। সব ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা এমন হবে তাও নয়। অন্যদিকে হাদিয়া হিসেবে ছোট জিনিস পেলে অবজ্ঞা করা ঠিক নয়; বরং কদর করা চাই।

এ ছাড়াও আত্মীয়স্বজনের বহু হক আছে, যেমন কারও দুঃখ-বেদনায় সহমর্মী হওয়া, কারও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। এতেও প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা হলো, আত্মীয়স্বজনের জন্য যে কাজই করো না কেন, তা কেবল আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির লক্ষ্যেই করবে। প্রশংসা পাওয়া যাবে, সুনাম অর্জিত হবে বা প্রতিদান পাওয়া যাবে, এ জাতীয় কোনো বিষয় যেন না থাকে। অতএব আমরা আমাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, মুরুব্বি ও উস্তাদদের সামর্থ্যানুযায়ী উপহার বা হাদিয়া দিতে চেষ্টা করব। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করব এবং আল্লাহর কাছে এর বিনিময় প্রত্যাশা করব। আল্লাহ বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com