বহুল আলোচিত বৃহৎ জলাশয় আড়িয়ল বিলের ২০১০ ও ২০২২ সালের স্যাটেলাইট এরিয়াল ম্যাপ তলব করেছে হাইকোর্ট। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অবস্থিত এই বিলের প্রকৃত ম্যাপ দাখিলের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি জে. বি. এম. হাসান এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিল এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
আদেশে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), শ্রীনগরের ইউএনও এবং পরিবেশের এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরকে আড়িয়ল বিলে আর যেন মাটি ভরাট, নির্মাণ কাজ, দখল কার্যক্রম করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বলেছে আদালত।
তিন মাসের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে রুলসহ নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রুলে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অবস্থিত বৃহৎ এই জলাশয় ‘আড়িয়ল বিল’ দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাউজিং কোম্পানি কর্তৃক মাটি ভরাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে দখল বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন মনজিল মোরসেদ। আর সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাইনুল হাসান।
গণমাধ্যমে বিল বেদখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর জনস্বার্থে গত ১৩ আগস্ট রিটটি দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। এতে আড়িয়ল বিল সংরক্ষণের নির্দেশনা এবং সব দখল, মাটি ভরাট, বালু ভরাট অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে আদালত আড়িয়ল বিল বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং জলাশয়টি মূল অবস্থান অনুযায়ী সংরক্ষণের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানাতে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করে হাইকোর্ট।
এই রিটের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ঢাকা শহরের বন্যা প্রতিরোধে অন্যতম ভূমিকা রাখে আড়িয়ল বিল এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন, ২০০০, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ পানি আইন, ২০১৩ এর বিধান অনুসারে জলাশয় ভরাট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে জলাধার আইনের ৮ ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে দিনে দিনে গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়টি ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
রিট পিটিশনাররা হলেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ফর বাংলাদেশ পক্ষে আইনজীবী মো. সারওয়ার আহাদ চৌধুরী।
সময়ের আলো/জেডআই