ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০ আশ্বিন ১৪৩০
ই-পেপার সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin-Mohammad-City-(Online).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/SA-Live-Update.jpg
আসন্ন শীতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে ঢাকার তৎপরতা
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৭:০৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 136

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন এবং নিপীড়নে জীবন বাঁচাতে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশটির রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে নেওয়ার ৭ বছর চলছে। তাদের প্রত্যাবাসনে গত ২০১৮ সালে মিয়ানমার সম্মতি প্রকাশ করে চুক্তি করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ফেরত নেয়নি। 

অন্যদিকে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক তহবিলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তার পরিমাণও কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন শীত মৌসুমে স্বল্পপরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় ঢাকা। এ জন্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করতে চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারের শিবিরগুলো পরিদর্শন করতে পারেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা।

স্বল্পপরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে সহযোগিতা করছে চীন। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশটির ক্ষমতা দখল করলে ঢাকা-নেপিডো যোগাযোগ যখন বন্ধ হয়ে যায়। পরে চীনের সহযোগিতায় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ আবার সচল হয়

এবার চীনের মধ্যস্থতায় স্বল্পপরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় ঢাকা। চীনের সহযোগিতা নেওয়ায় প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ঢাকা-নেপিডো যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। স্বল্পপরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে ঢাকা মূলত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করতে চায়। গত এপ্রিল মাসে চীনের মধ্যস্থতায় প্রথমে ১ হাজার ১৭৬ জন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করেছিল মিয়ানমার। পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজারের মতো হয়েছে।

মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম মনোয়ার হোসেন জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য উত্তর রাখাইনের পরিবেশ উন্নতিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা গত ৩ সেপ্টেম্বর ইয়াঙ্গুনে কর্মরত দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কূটনীতিকদের ঘুরিয়ে দেখিয়েছে মিয়ানমার। এ সময় মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী ব্রিফও করেছেন। মূলত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতেই এ আয়োজন। রাষ্ট্রদূত জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী এবং মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার ইস্যু ছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। এ সময় জেনারেল মিন অং হ্লাইং খুব দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুতে সম্মতি প্রকাশ করেন।

এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিদর্শন করবে। মূলত রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা গড়তেই তারা শিবিরগুলো পরিদর্শন করবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের জানাবে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য তারা কী কী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশ জোর করে কোনো রোহিঙ্গা সদস্যকে মিয়ানমার পাঠাতে চায় না। বাংলাদেশ স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায়।

পাইলট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে চীনের দুজন দূত এরই মধ্যে ঢাকা ও নেপিডো সফর করেছেন। পাইলট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের উদ্যোগে গত ১৫ মার্চ টেকনাফ হয়ে মিয়ানমার সরকারের ১৭ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল কক্সবাজার সফর করে। প্রতিনিধি দলটি ওই সময়ে টানা সাত দিন টেকনাফের স্থলবন্দর রেস্ট হাউসে অবস্থান করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৪৭ রোহিঙ্গা পরিবারের মোট ৪৮৬ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। এরপর গত ৫ মে জলপথে মিয়ানমারের উদ্দেশে ২০ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল সরেজমিন রাখাইন সফর করে সন্ধ্যায় আবার টেকনাফে ফিরে আসে। তবে ওই সময় রাখাইন সফর করা রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়নি। তাই রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্টরা আবারও কক্সবাজারের শিবিরগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে এটা তৃতীয়বারের মতো প্রচেষ্টা। আগের দুবারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এবারও কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না। অল্প কিছু রোহিঙ্গা ফেরত গেলেও গোটা সংকটে এ পদক্ষেপ কোনো উপকারে আসবে না। আমার কাছে স্বল্পপরিসরে প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে মিয়ানমারের তৈরি ফাঁদ মনে হচ্ছে।

সাবেক মেজর জেনারেল এবং মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক সামরিক অ্যাটাশে মো. শহীদুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট খুবই জটিল সমস্যা। এভাবে উদ্যোগ নিয়ে স্বল্পপরিসরে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানিয়েছে, রাখাইনে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আমার মনে হয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমাদের নীতিগুলোর সংস্কার করা প্রয়োজন।

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন এবং নিপীড়নে জীবন বাঁচাতে বাস্তুচ্যুত হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টে কম-বেশি সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়। একই কারণে তার আগে থেকেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় অনেক রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলোতে সাড়ে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আশ্রয় নিয়ে আছে।

সময়ের আলো/আরএস/




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com