ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিশ্ব সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত স্মরণ দিবস ২০২৩
সড়কে প্রাণ হারানো স্বজনদের কান্না আর শুনতে চাই না!
প্রকাশ: বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:৩৯ পিএম আপডেট: ২২.১১.২০২৩ ৩:২৩ পিএম  (ভিজিট : ৪৪৩)
প্রতি বছর নভেম্বরের তৃতীয় রবিবারে বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত স্মরণ দিবস পালিত হয়। এবার ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ রবিবারে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘সড়কে হতাহতদের ন্যায়বিচার।’

বিশদভাবে বলতে গেলে, কোন একটি রোড এক্সিডেন্টের ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা এবং আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা সেটা খুঁজে বের করার জন্য যথাযথ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

এছাড়া রোড এক্সিডেন্টের ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে ফৌজদারি বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যা পরোক্ষভাবে রোড ক্র্যাশ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দিবসের জন্য আরও কয়েকটি শ্লোগান নির্ধারিত করা হয়েছে যেগুলো হচ্ছে- স্মরণ করো, সমর্থন করো ও ভূমিকা রাখো। অর্থাৎ রোড ক্র্যাশে হতাহতদের স্মরণ করো, তাদের প্রতি ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ও নিরাপদ সড়কের জন্য কার্যক্রমকে সমর্থন করো এবং উক্ত পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার পেতে ও ক্ষতিপূরণ পেতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখো।

পাশাপাশি রোড ক্র্যাশ কমানো তথা সড়ককে নিরাপদ করতে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে উদ্বুদ্ধ কবতে হবে। কারণ প্রত্যেক নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

সড়কে মৃত্যুর বিষয়টি এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিআরটিএ তথা সরকারী হিসাবমতে এখন প্রতিদিন সড়কে ১৩-১৫ জনের মৃত্যু ঘটছে এবং আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করছে তার প্রায় দুই-তিনগুণ। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৬,০০০ লোক নিহত ও ১২,০০০-১৫,০০০ লোক আহত/পংগুত্ববরণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মতে  প্রতি বছর বিশ্বে রোড ক্র্যাশে ১.৩ মিলিয়ন মানুষ নিহত ও ২০-৫০ মিলিয়নের মত মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছে এবং অনেকে  মারাত্মক দুর্ঘটনার ফলে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই রোড ক্র্যাশ/সড়ক দুর্ঘটনার ফলে আহত ও নিহতদের পরিবার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি দেশের অর্থনীতিও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যার পরিমাণ দেশীয় জিডিপি’র প্রায় ৩%-৫%। 

আশংকার বিষয় এই যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী রোড ক্র্যাশ/সড়ক দুর্ঘটনা ০১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর জন্য প্রধান কারণ এবং সকল বয়সী মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটি অষ্টম প্রধান কারণ। অর্থাৎ দেশের সবচেয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিই রোড ক্র্যাশ/সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, ফলে হতাহতদের পরিবার এক অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে এবং দেশ ও জাতির জন্য এক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রোড ক্র্যাশ/সড়ক দুর্ঘটনার মুল কারণ / ঝুঁকিসমূহ হচ্ছে- ১) বেপরোয়া গতি, ২) মানসম্পন্ন হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা, ৩) মাদকাসক্ত হয়ে গাড়ি চালনা, ৪) গাড়িতে সিটবেল্ট না বাঁধা ও ৫) শিশুদের জন্য নিরাপদ আসনব্যবস্থা না রাখা। পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অসচেতন সড়ক ব্যবহারকারী এবং ফিটনেসবিহীন অনিরাপদ যানবাহনও রোড এক্সিডেন্টের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশে বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ দিয়ে উপরোক্ত সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। কারণ এতে শুধু যানবাহন বা পরিবহনের ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক কিংবা সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

তাই জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি ৩.৬ ও ১১.২ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং গ্লোবাল সেকেন্ড ডিকেড অব একশন প্ল্যান (২০২১-২০৩০) বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকারকে ২০৩০ সালের মধ্যে রোড ক্র্যাশ/সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ৫০% এ কমিয়ে আনতে হলে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সেইফ সিস্টেম এপ্রোচ এর আলোকে (১. মাল্টি -মোডাল ট্রান্সপোর্ট, ২. সেইফ রোড, ৩. সেইফ ভেহিক্যাল, ৪. সেইফ রোড ইউজার ও ৫. পোস্ট-ক্রাশ ম্যানেজমেন্ট) একটি ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা আইন’ বা ‘কমপ্রিহেনসিভ রোড সেফটি ল’ প্রণয়ন করা অপরিহার্য। আসুন আমরা সবাই মিলে সড়ককে সবার জন্য নিরাপদ করতে একযোগে কাজ করি এবং রাষ্ট্র তথা সরকারকে বিশ্ব স্বীকৃত সেইফ সিস্টেম এপ্রোচের আলোকে একটি যুগোপযোগী ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নে উদ্বুদ্ধ করি।


সময়ের আলো/এএ/




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close