ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:৪৭ এএম  (ভিজিট : ৩৩০)
ইতিমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের শেষ হচ্ছে না। এমনিতেই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনেও দুর্ভাবনার শেষ থাকে তারপর যদি কোনো বড় দল অংশগ্রহণ না করে তা হলে সমস্যা আরও বেড়ে যায় নিঃসন্দেহে। কী হচ্ছে? কী হবে? হাজারো প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপি কি নির্বাচনে আসবে নাকি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। 

যতই দিন ঘনিয়ে আসছে উত্তেজনা যেন ততই বাড়ছে। পাশাপাশি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার শেষ নেই। যদি বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন হয় তা হলে পরবর্তীতে কী হবে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী করবে পরবর্তীতে? অনেক প্রশ্নের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনের দিকে। সময় যতই সামনে আসছে মানুষের মনে ভয়ভীতিও ততই বেড়ে চলছে। গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা একটি উৎসব কিন্তু এক পক্ষ আরেক পক্ষকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

রাজনীতির প্রধান বিষয়ই হলো মানুষের পাশে থাকা। জনগণের মন জয় করে ভোট আদায় করা কিন্তু কোথায় যেন এই তালটা হারিয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। চলছে এক পক্ষের
কথার বানে অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার প্রক্রিয়া। কথার প্রক্রিয়াটা ঠিক ছিল কিন্তু চলে এসেছে হামলা-মামলা। চলছে দেশের ক্ষতি করার নগ্ন কার্যক্রম। কোনো দল আবার নিজের কর্তৃত্বের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে অন্য দেশের কাছে নিজেদের হতাশার কথা ব্যক্ত করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দেশের প্রতি ভালোবাসার জায়গাটা ক্ষমতার লোভের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সবাই অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চায়। 
বিরোধী শিবির সরকার পক্ষের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না অন্যদিকে সরকারি দল সংবিধানের বাইরে যেতে চাচ্ছে না। যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অবিচল সরকার।

পৃথিবীর কিছু প্রভাবশালী দেশ এ দেশের নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে অনেক বেশি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তাদের নিজের দেশের নির্বাচন নিয়েও তাদের এত মাথাব্যথা নেই। এসব দেশে এমন চাপ প্রয়োগ করছে যে নির্বাচন তাদের কথা মতোই হতে হবে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমঝোতার অভাবেই তৃতীয় পক্ষ এ সুযোগটা নিচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাচ্ছে বারবার। এতসব ঝামেলার মধ্যেও নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতির ঘাটতি রাখছে না। নির্বাচন কমিশন বারবার নিরপেক্ষতার কথা বললেও সেদিকে বিশ^াস স্থাপন করতে পারছে না বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি, এই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় যদি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন হয়।

অন্যদিকে সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। আজকে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হয়েছে তা নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। তাই এ বিষয়টি নিয়ে একটু পূর্বে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। বর্তমান মাঠের বিরোধী দল তখনকার সময়ে সরকারি দলে ছিলেন। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন সংবিধান যেন সংশোধন না করতে হয়। কিন্তু তখনকার বিরোধী দলের চাপে পড়ে তড়িঘড়ি করে সংবিধান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল। 

১৯৯৬ সালে  অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয় এবং ষষ্ঠ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। কিন্তু সারা দেশে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর সরকার ২১ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল সংসদে উত্থাপন করেন। ২৬ মার্চ সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল জাতীয় সংসদে পাস করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মূল বিষয় হলো দুটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ দেশের শাসনভার গ্রহণ করবেন। বিরোধী দলে থাকলেই কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুপস্থিতি টের পাওয়া যায়। বলা চলে বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অধুনালুপ্ত একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা।

২০১১ সালের ১০ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেয়। এ ছাড়াও বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। প্রতিবারই নির্বাচনের সময় একটি অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং শুরু হয় বিদেশিদের দৌড়ঝাঁপ। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। চলছে হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস ঘটনা। সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি হচ্ছে প্রাণহানি। অর্থনীতির চাকা চলছে উল্টো পথে। এদিকে কারও তাকানোর সময় নেই যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা প্রয়োজন। মানুষের চাওয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সবাই নিজের পথেই হাঁটছে। 

সাধারণ মানুষের চাওয়া একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় মাঠের বড় বিরোধী দল এখন অস্থির হয়ে পড়ছে। বিগত দুটি নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তাই তারা বর্তমান সরকারের অধীনে আর নির্বাচন করতে ইচ্ছুক নয়। অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর ফিরিয়ে আনতে নারাজ বর্তমান সরকার। অন্যদিকে বিদেশিরা চায় বাংলাদেশ সবসময় নিচু গলায় কথা বলুক, মাথা তুলতে না পারুক। 
এতসব উন্নয়ন তাদের চোখে জ্বালা ধরেছে। তাই এ দেশে শান্তি আসতে দেওয়া যাবে না। মানবাধিকারের নাম করে বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন চলছে এ দেশের ওপর। বড় দেশগুলোতে বারবার মানবাধিকার হরণ করা হলেও অন্য দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে বড় করে দেখা হচ্ছে। এর দায়ভার সবচেয়ে বেশি আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের। তাই এখান থেকে একে অন্যের প্রতি আস্থা বাড়িয়ে সংবিধানের আলোকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ খোঁজা উচিত। সবার প্রত্যাশামাফিক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক উৎসবমুখর।


প্রভাষক, আলীনগর কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ
ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

সময়ের আলো/আরএস/ 




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close