ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
অফিসে সুনসান নীরবতা, নেই কোনো নেতাকর্মীর ভিড়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩, ১:২৬ এএম  (ভিজিট : ৫২৬)
দেশের রাজনীতিতে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। বিশেষ করে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের জোট ছেড়ে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার পর থেকেই নানামুখী আলোচনা চলছে। কিন্তু এত আলোচনার মধ্যেও দলটির মহাখালীর নিউ ডিওএইচএস কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোনো সাড়াশব্দ নেই। যেখানে ছোট-বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে নির্বাচনি হাওয়া বইছে, সেখানে একেবারে সুনসান নীরবতা। নেই নেতাকর্মী কিংবা সমর্থকদের ভিড়। বাইরে কিংবা কার্যালয়ের ভেতরে কোনো ধরনের পোস্টার, ফেস্টুন কিংবা ব্যানারও চোখে পড়েনি। রাজনীতির কিংস পার্টি খ্যাত কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘুরে সোমবার এমনটাই দেখা যায়।

দুপুর ১ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টায় তিনজন মনোনয়ন নেন। তাদের সঙ্গে ছিল চারজন সমর্থক। এ ছাড়া আর কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী দেখা যায়নি। অফিসের কর্মচারীরা জানান, মহাখালীর নিউ ডিওএইচএসের ২২ নম্বর রোডের ৩২৫ নম্বর বাড়িটি মূলত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীকের বাড়ি হিসেবে পরিচিত। তবে বাড়িটির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্লোরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও চেয়ারম্যানের অফিস। এ অফিসে দলের সভা হয়। তবে নয়াপল্টনের একটি কার্যালয় থেকে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে নানা সমীকরণ, হিসাব-নিকাশ চলছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দেশে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল, তার একটি ছিল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।

সে সময় ‘কিংস পার্টি’ নামে যে কয়টি দল আলোচনায় আসে, তার একটি ছিল এই দল। আর গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করেছেন জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টি। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন জোট ও দল আন্দোলন করছে। এর মধ্যে ১২ দলীয় জোট অন্যতম। এতে যোগ দেয় কল্যাণ পার্টিও। আর বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন জোট ও দল আন্দোলন করছে। কিন্তু দীর্ঘদিনে জোট ভেঙে গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বে তিনটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তারপর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সোমবার দুপুর ১টা সময় মহাখালীর নিউ ডিওএইচএসের কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় তলার গিয়ে দেখা যায়, চারজন অফিস স্টাফ মনোয়নয়নপত্র যাছাই-বাছাইসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করছেন। আর দুজন এসেছেন মনোনয়ন ফরম নিতে। তাদের সঙ্গে ছিলেন দুজন।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনতে আসা শহীদুল ইসলাম স্বপন সময়ের আলোকে বলেন, আমি দলের একজন প্রাথমিক সদস্য। কোনো কমিটিতে নেই। আমার দল নির্বাচনে যাওয়ায় সিন্ধান্ত নেওয়ায় মনোনয়ন নিতে এসেছি।

মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, দেশে অনেক অনেক দল আছে এবং তারা একাধিকবার ক্ষমতায়ও ছিল কিন্তু তাদের প্রতিই মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। বড় দলের এমপিরা দেশকে অপশাসন দিয়েছে সুতরাং জনগণ কাকে ভোট দেবে। তাই বিকল্প রাজনৈতিক দল হিসেবে কল্যাণ পার্টিকে মানুষ বেছে নেবে এবং আমাকে ভোট দেবে।

দুপুর ২টার পরে কেন্দ্রীয় কার্যারয়ে প্রবেশ করেন দলটির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন। এ সময় দুজন নেতাকর্মীর সঙ্গে দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি এবং বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে হঠাৎ নির্বাচনে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এর কিছুক্ষণ পর দুজন মনোনয়ন ফরম কিনতে আসেন। তাদের একজন হলেন গাইবান্দার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহ সুলতান সুজন।

তিনি সময়ের আলোকে বলেন, পাশ-ফেল কোনো বিষয় না। তবে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তা হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। কিন্তু এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট হবে কি না মানুষের মধ্যে যেমন শঙ্কা কাজ করছে তেমনি আমার মধ্যে উৎকণ্ঠা আছে।

বেলা ৩টার পর কার্যালয়ে আসেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। এ সময় কার্যালয়ে এসে তিনি অফিস সহকারীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, কল্যাণ পার্টির মনোনয়ন ফরম বিক্রির শুরু থেকে সোমবার পর্যন্ত ১০০টি ফরম বিক্রি হয়েছে। এখন মনোনয়ন যাছাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আগামী ৩০ তারিখের আগেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

দীর্ঘদিন বিএনপি জোটের যুগপৎ আন্দোলন করে হঠাৎ করে জোট থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন সময়ের আলোকে বলেন, জোট থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমাদের নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। কারণ নির্বাচনে ভোটের কোনো বিকল্প নেই। আমরা নতুন দল। তাই নির্বাচন না করলে তো নেতাকর্মী তৈরি হবে না। নির্বাচন নিয়ে বড় প্রত্যাশা নেই, তবে দলের পরিচিতি ও ভোটের পার্সেন্টেজ বাড়াতেই ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যুক্তফ্রন্ট করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কল্যাণ পার্টি ছাড়াও নিবন্ধিত দুটি দল এই জোটে থাকবে। তবে আমরা আমাদের নির্বাচনি প্রতীক হাতঘড়ি নিয়ে নির্বাচন করব। আমরা ৫০টি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম সময়ের আলোকে বলেন, প্রস্তুতি কতটা ভালো তা তো আপনি নিজ চোখেই দেখতে পারছেন। আমি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আছি। আমার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল খুঁজে পাচ্ছি না। তাই এখন আর কথা বলতে পারব না।

সময়ের আলো/জেডআই




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close