ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দাবি
প্রকাশ: বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:৫২ এএম  (ভিজিট : ২৬২)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এককালে মৃৎশিল্পের বেশ সুনাম ছিল। কালের বিবর্তনে নানা প্রতিকূলতার পাশাপাশি প্লাস্টিক, মেলামাইন, অ্যালুমিনিয়াম আর স্টিলের সামগ্রী ব্যবহার বাড়ার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প।

নবীনগর উপজেলার নারায়ণপুর, শ্রীঘর, শ্রীরামপুর, বিটঘর, ইব্রাহিমপুর, ভোলাচং ছিল মৃৎশিল্পের প্রাণকেন্দ্র। এসব গ্রামের মৃৎশিল্পীরা সুনিপুণভাবে তৈরি করতেন হাঁড়ি, পাতিল, বাসন, কলসসহ বিভিন্ন ধরনের তৈজষপত্র। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নান্দনিক এসব তৈজসপত্র এখন আর খুব বেশি চোখে পড়ে না। দিনকে দিন এসব তৈজসপত্রের চাহিদা কমছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে নবীনগরের বহু মৃৎশিল্পীর জীবন-জীবিকায়। একটা সময়ে নানা ধরনের তৈজসপত্র নির্মাণে যেসব মৃৎশিল্পী ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারা এখন প্রায় বেকার। মৃৎশিল্প জৌলুস হারানোর কারণে তাদের আয়-উপার্জনে ভাটা পড়েছে। আর্থিক অভাব-অনটন এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

একদিকে বেড়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত মাটি ও জ্বালানির দাম। অন্যদিকে কমেছে মৃৎশিল্পীদের তৈরি পণ্যের চাহিদা। এসব কারণে বাপ-দাদার পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। নানা ধরনের প্রতিকূলতা চোখের সামনে দেখে তারা রীতিমতো শঙ্কিত। নতুন করে কেউ আর ঐতিহ্যবাহী এই পেশায় নিজেকে জড়াতে চাইছেন না। মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা দাবি করছেন তারা। তাদের মতে, সরকারি সহায়তা পেলেই কেবল টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্পকে। অন্যথায় কালের বিবর্তনে চিরতরে হারিয়ে যাবে গ্রাম-বাংলার এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না গৌরবময় গ্রামীণ এই ঐতিহ্যের কথা।

এদিকে পেশাগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকেও ঋণ পাচ্ছেন না মৃৎশিল্পীরা। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন তাদের চোখে-মুখে। স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, নবীনগরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে বাঁচানোর জন্য সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

কথা হয় পৌর মেয়র শিব শংকর দাসের সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের নবীনগরের অনেকগুলো গ্রামে মৃৎশিল্পের রমরমা অবস্থা ছিল এক সময়ে। কিন্তু বর্তমানে যারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত তারা খুবই হতদরিদ্র। মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা সরকারি কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা কোনো দিন পেয়েছেন কি না আমি জানি না। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। মৃৎশিল্পীদের শিল্প জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যদি আধুনিক রূপ দেওয়া যায় তা হলেই কেবল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম সময়ের আলোকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার সবসময় সচেষ্ট। সরকারি প্রণোদনা আছে। মৃৎশিল্পীরা আগ্রহী হলে সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে।

মৃৎশিল্পীদের অনেকেই এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। একদিকে বয়স বাড়ায় কাজ করতে পারছেন না, অন্যদিকে পরিবারের কেউ এই পেশায় এগিয়ে আসছে না। কোনো রকম বয়স্ক ভাতাও পাচ্ছেন না। সবমিলিয়ে জীবন সায়াহ্নে এসে নিদারুণ অর্থকষ্টে কাটাতে হচ্ছে প্রতিটি দিন। আবার কেউ কেউ আর কোনো কাজ না জানায় বাধ্য হয়েই আঁকড়ে ধরে আছেন বাপ-দাদার কাছ থেকে শেখা এই পেশা।

কথা হয় ভোলাচং গ্রামের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নেপাল পালের সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাপ-দাদার এই পেশায় জড়াই। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এক পেশাতেই আছি। বর্তমানে কেউ নতুন করে এই পেশায় আর আসছে না। এই পেশায় পরিশ্রম অনেক বেশি। পরিশ্রমের তুলনায় আয়-রোজগার কম। নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং কুমারপাড়ার বাসিন্দা শুধাংশু পাল বলেন, বাপ-দাদার কাছ থেকে শেখা এই পেশায় প্রায় ৩০ বছর ধরে আছি। অন্য কোনো কাজ জানা না থাকায় চাইলেও আর অন্য কিছু করতে পারছি না।

প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল আর অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ভিড়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা এখন তলানিতে ঠেকেছে। দীর্ঘদিন অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তাই ইদানীং স্বাস্থ্যবিদরা মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত সুফলের প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন।

সময়ের আলো/আরএস/




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close