ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

নিতুন ও টুনটুনি
প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪, ১:৫৭ এএম  (ভিজিট : ১৪২)
নিতুনদের বাড়িতে গাছের অভাব নেই। ফলদ, বনজ ও ঔষধি-সব ধরনের গাছ আছে তাদের বাড়িতে। বাড়ির আঙিনায় আছে লাউয়ের মাচা, শিমের মাচা। গাছগাছালি বেশি থাকায় পাখির অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে বাড়িটি। নিতুন পাখিদের খুব ভালোবাসে। কাক, বক, শালিক, চড়ুই সব পাখিই নিতুনের চেনা। পাখি দেখলেই সে বলে দিতে পারে এটি কোন পাখি। এত পাখির মধ্যে নিতুনের কাছে সবচেয়ে প্রিয় পাখি হলো টুনটুনি। নিতুন টুনটুনি খুব ভালোবাসে। একদিন নিতুন তার মায়ের সঙ্গে উঠোনের পাশে শিমের মাচা থেকে শিম পাড়ছিল, হঠাৎ দেখতে পেল একটি ছোট পাখির বাসা। নিতুন তার মাকে আনন্দের সঙ্গে বলল-‘মা, দেখ একটি পাখির বাসা!’ নিতুনের মা এগিয়ে এসে দেখল, সত্যি একটি ছোট বাসা। নিতুন তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘মা, এটি কোন পাখির বাসা?’
এটা টুনটুনির বাসা। 
বাসাটা কত সুন্দর! 
হ্যাঁ, থাক তুই এটা ধরিস না, টুনটুনিদের বাসা এমন সুন্দরই হয়। 
মা, এখানে টুনটুনিরা রাতেও থাকে?
হ্যাঁ, রাতেও থাকে। এখানে ওরা ডিম পাড়বে, ডিম থেকে বাচ্চা হবে।
তাই! তা হলে তো খুব মজা হবে! আমি প্রতিদিন এসে দেখে যাব।
দেখতে পার, তবে ওদের কোনো ক্ষতি করো না। তাদের বেশি বিরক্ত করলে অন্য কোথাও চলে যাবে, এখানে আর কোনো দিন আসবে না।
ঠিক আছে, আমি বিরক্ত করব না। আচ্ছা-মা, পাখির বাসাটা খালি কেন, টুনটুনিটা বাসায় নেই কেন?
আশপাশে কোথাও আছে। চল, আমরা চলে যাই। আমাদের দেখে টুনটুনিটা কোথাও লুকিয়ে আছে।
ঠিক আছে চল, আমরা চলে চাই।
নিতুন আর নিতুনের মা শিম পেড়ে মাচার কাছ থেকে চলে এলো। নিতুন ঘর থেকে একটু পরপর বাসাটার দিকে খেয়াল রাখছে। কিছুক্ষণ পর নিতুন দেখতে পেল একটা টুনটুনি উড়ে এসে মাচায় বসেছে। তারপর বাসায় ঢুকেছে। নিতুন টুনটুনিটা দেখে খুশি হলো এবং তার মাকে বলল,
মা টুনটুনিটা বাসায় ঢুকেছে।
তুমি আর এখন সেখানে যেও না।
ঠিক আছে আমি যাব না।
পরের দিন নিতুন স্কুল থেকে এসে আবার টুনটুনির বাসার কাছে গিয়ে দেখতে পেল টুনটুনিটা বাসায় বসে আছে। নিতুন কোনো শব্দ না করে টুনটুনিটা দেখে চলে এলো। ঘর থেকে একটা বাটিতে করে কিছু সরিষা নিয়ে মাচায় রেখে আসে। ঘরে বসে নিতুন দেখতে লাগল সরিষাগুলো টুনটুনিটা খাচ্ছে কি না। কিছুক্ষণ পর নিতুন দেখতে পেল টুনটুনিটা বাসা থেকে বেরিয়ে সর্ষেগুলো খাচ্ছে। তারপর থেকে নিয়মিত নিতুন টুনটুনিটাকে খাবার দেয়। কোনোদিন সর্ষে কোনো দিন চালের খুদ বাটিতে করে দিয়ে আসে। আর টুনটুনিটাও নিতুনকে দেখামাত্রই বাসা থেকে বেরিয়ে এসে টুনটুন করতে থাকে, নিতুনের মাথার ওপর উড়তে থাকে। নিতুনের সঙ্গে টুনটুনিটার বেশ ভাব গড়ে ওঠে। নিতুন টুনটুন করে ডাক দিলে টুনটুনিটা বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। এক মাস পর নিতুন টুনটুনির বাসায় দুটো ডিম দেখতে পেল, ডিমগুলো দেখে নিতুন খুশি হলো এবং তার মাকে এসে ডিমগুলোর কথা বলল।
মা, বলল, ডিম থেকে ছা হবে, তুমি বারবার বাসার কাছে যেও না।
ঠিক আছে মা। আমি যাব না।
আরও কিছুদিন পর নিতুন যখন টুনটুনিকে খাবার দিতে গেল নিতুনের কানে চিক চিক শব্দ ভেসে এলো, নিতুন একটু এগিয়ে টুনটুনির বাসার কাছে গিয়ে দেখতে পেল, বাসায় দুটো টুনটুনির ছানা।
নিতুন তার মাকে এসে ছানাগুলোর কথা বলল। নিতুনের মা নিতুনকে সঙ্গে নিয়ে ছানাগুলো দেখে এলো। নিতুন পরের দিন থেকে বাটিতে খাবার আগের চেয়ে বাড়িয়ে দিতে লাগল। এভাবেই নিতুন টুনটুনি ও তার ছানাগুলোকে দেখাশোনা করতে লাগল। সপ্তাহ দুয়েক পর ছানাগুলো যখন একটু বড় হলো তখন এক রাতে দক্ষিণ আকাশ কালো হয়ে ঝড়ো হাওয়া বইতে লাগল, প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে গাছের ডালপালা মটমট করে ভেঙেচুরে গেল। সকালে ঘুম থেকে ওঠে নিতুন দেখতে পেল শিমের মাচাটা ঝড়ে ভেঙে গেছে। টুনটুনির বাসাটাও নেই। নিতুন এদিক-সেদিক খুঁজতে লাগল, কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না, ছানা আর টুনটুনির বাসাটা। নিতুন খুঁজতে খুঁজতে উঠোনের একপাশে হঠাৎ দেখতে পেল একটি ছানা পড়ে আছে, ছানাটার সমস্ত শরীর ভেজা, শীতে কাঁপছে। নিতুন ছানাটা যত্ন সহকারে হাতে নিয়ে অপর ছানাটাকে খুঁজতে লাগল, খুঁজতে খুঁজতে উঠোনের পূর্ব পাশে বাসাসহ অপর ছানাটি পেল।
নিতুন ছানা দুটোকে ঘরে নিয়ে এসে যত্ন করতে লাগল। নিতুন মা টুনটুনিটাকেও খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও পেল না। নিতুন ভাবলো মা টুনটুনিটা যদি বেঁচে থাকে তা হলে এখানে আসবেই। তাই নিতুন পরের দিন আবহাওয়া ভালো হলে উঠোনের পাশে ডালিম গাছে বাসাটা সুতো দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ছানাগুলো বাসায় রেখে দিল আর কিছু খাবার দিল। দুপুরবেলায় নিতুন দেখতে পেল মা টুনটুনিটা ডালিম গাছে এসেছে, বাসায় ঢুকেছে। নিতুন ঘর থেকে বের হয়ে উঠোনে গিয়ে টুনটুন করে ডাকতেই বাসা থেকে টুনটুনিটা বের হয়ে এসে নিতুনের মাথার ওপর উড়তে লাগল আর টুনটুন ডাকতে লাগল।
ডালিম গাছে টুনটুনি তার ছানাগুলো নিয়ে সুখে দিন কাটাতে লাগল।

সময়ের আলো/আরএস/ 




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close