ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

নীতিমালা বাস্তবায়নে শম্বুকগতি
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৫:০২ এএম  (ভিজিট : ১৩৮)
রফতানি নীতি ২০২৪-২৭ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো খাত ধরে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ১৫টি খাতের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে গত ২০২০ সালে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়-দায়িত্ব থাকলেও গড়িমসিতে থমকে রয়েছে বাস্তবায়নের গতিধারা। যে কারণে গত ৩ জুলাই শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য নীতিমালা বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, সব অংশীজনের সক্রিয় সম্পৃক্ততা। যে কারণে সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ খাতের বিকাশের জন্য বেসরকারি খাতের যেমন সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পর্যাপ্ত ও কার্যকর অবকাঠামো গঠন থেকে শুরু করে অর্থায়ন ও অন্যান্য আইনকানুন নিশ্চিত করার জন্য সরকারি খাতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার যে কার্যক্রম তা বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিষয়ক আইনকানুন, বিধিবিধান, পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন উৎপাদনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একইভাবে এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্যে রয়েছে-সিইটিপির কার্যকর ব্যবস্থা, বর্জ্য সংরক্ষণ, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা করা বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও বেশি করে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগে আর্কষণ করার জন্য বেশ কিছু সংস্থার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য বর্তমানে যে আইন রয়েছে তার জন্য বিদ্যমান আইনকে পরিমার্জন বা সংযোজন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব থাকলেও বেসরকারি খাত ও বিসিক সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আবার আন্তর্জাতিক মান পূরণ করার জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা নিরুপণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিসিকের সঙ্গে বেসরকারি খাতও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নীতিমালায় যে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে তা হলো, টেকসই পরিবেশবান্ধব বিষয়গুলো পরিপালন। এখানে বেশিরভাগ দায়-দায়িত্ব পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের। এ ক্ষেত্রে রয়েছে-শিল্প কারখানা দূষণ প্রতিরোধ কার্যকর পদ্ধতি চালু ও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে ট্যানারি ও ট্যানারি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। তবে নীতিমালায় পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে শক্তিশালী ও একীভূত করা।

নীতিমালা অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত জোরদার ও প্রয়োগ করার বিষয়টি এখনও অবহেলিত। ট্যানারিগুলো বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার সভা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে বিসিক ও বেসরকারি খাত এখনও বেশিদূর এগোতে পারেনি। এমনকি যেসব বিষয়গুলো কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে বাধা তা চিহ্নিত করে সুপারিশমালা তৈরি কথা থাকলেও এখন তা ধীরলয়ে এগোচ্ছে। পরিবেশবিষয়ক অপরাধগুলো তদন্ত করার কথা থাকলেও তা এখনও উপেক্ষিত। শুধু তাই নয়, অনুসন্ধান করার কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে ভাটা পড়েছে।

নীতিমালায় যুক্ত হয়েছে শিল্প কারখানার সর্বোচ্চ চাহিদা পূরণের জন্য শিক্ষাবিষয়ক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি। এখানে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব পড়েছে কারিগরি শিক্ষা, মাদরাসা বিভাগ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের। একই দায়িত্ব পড়েছে মানবসম্পদ যেন পরিবেশ সুরক্ষার চাহিদা পূরণ করতে পারে। এ ছাড়াও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়টি দায়িত্বে এসেছে। কিন্তু অগ্রগতি তেমন হয়নি বলে জানা গেছে।

নীতিমালায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সিইটিপি প্রত্যয়ন করার বিষয়টি বিসিক আর পরিবেশ অধিদফতরের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অগ্রসর তেমন হয়নি বলে জানা গেছে। তবে এখানে বিএসটিআই ও ব্যবসায়ী সংগঠনের বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে বলে নীতিমালায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
কুরবানি এলে চামড়ার দর সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু নীতিমালায় বলা হয়েছে চামড়ার মূল্য শৃঙ্খলে আরও পরিচ্ছন্ন আসতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন পদ্ধতি প্রয়োগে সহায়তা করতে প্রত্যায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থ বিভাগের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রম আইন বলবৎ ও শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির বিষয়ে নীতিমালায় বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তবে এর সঙ্গে আইএলও, বেসরকারি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড কাজ করবে। ট্যানারি, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্যের কারখানায় শ্রম আইন নিশ্চিত করতে একটি উপকমিটি কাজ করবে বলে বলা হয়েছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তেমন কমিটির কাজ পরিলক্ষিত হয়নি। কারখানায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মানকে যুক্ত করতে শ্রম মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানা গেছে।

নীতিমালায় করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা, বর্তমানে চলমান জবাই করার পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস অবকাঠামো উন্নত করা, উৎপাদনের পারফমেন্স মূল্যায়ন ও উন্নত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেলেও তার কার্যক্রম এখনও গতিশীল নয়।

বাজার প্রবেশ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে। বিশেষ করে ইউরোপসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় দেশে বড় বড় ব্র্যান্ড ও রিটেইলারের সঙ্গে রফতানির ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে বিশেষায়িত বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা।

চামড়ার ভ্যালু চেইন নিয়ে কাজ করার কথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও ট্যারিফ কমিশন। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখভাল করছে বলে জানা গেছে। পণ্য উন্নয়ন ও ডিজাইন ইনস্টিটিউট বাস্তবায়ন করার জন্য বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল ও বিজেএমইএকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। কিন্তু এ বিষয়ে বেশিদূর অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সময়ের আলো/আরএস/




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close