ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

অদৃশ্য স্বার্থে লিবিয়ায় জনশক্তি রফতানি
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৭:১০ এএম আপডেট: ১০.০৭.২০২৪ ৬:৪৫ পিএম  (ভিজিট : ৬০৩)
স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্ন পূরণে যেসব বাংলাদেশি লিবিয়া যান তাদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবছর কমপক্ষে ৪০০ জন মারা যান। লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে গিয়ে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৪০৪ জন বাংলাদেশি ফিরে আসেন। চলতি বছরের শুরু থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬ মাসে লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ৭৩৯ জন। গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফায় সরকারি প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০০ জন চিকিৎসক ও নার্স লিবিয়া গেছেন। কিন্তু তাদের কেউই এখন পর্যন্ত বেতন-ভাতা পাননি এবং তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন-কার স্বার্থে লিবিয়ায় জনশক্তি রফতানি?

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর থেকে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০০ জন চিকিৎসক ও নার্স লিবিয়ায় কাজ করতে যান। তারা সবাই বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া গেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে চুক্তি অনুযায়ী যে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা ছিল তারা সেখানে কিছুই পাচ্ছেন না। বাংলাদেশি এ স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে কোনোরকম জীবন রক্ষা করে চলছেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো উচ্চবাচ্য না করেন এ জন্য তাদের বিভিন্নভাবে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই লিবিয়া থেকে ফিরে আসছেন। কিন্তু সবাই ফিরে আসতে পারছেন না। দেশে ফিরতে গেলেও রয়েছে নানা জটিলতা (প্লেনের ভাড়া, সহজেই দেশে ফেরার অনুমতি ইত্যাদি)। এ সবকিছুই ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস জানে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্র্যাক সময়ের আলোকে জানায়, ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যাদের লিবিয়ায় নেওয়া হয় তাদের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত চাকরিই পায় না। উল্টো তাদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় অর্থ। এত কিছুর পরেও লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপের যাওয়ার প্রবণতা থামছে না। গত এক দশকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যেসব দেশের নাগরিক ইউরোপে গেছেন সে দেশগুলোর তালিকার শীর্ষ দশে রয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিরা। এ রুট সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুট হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পযর্ন্ত এ পথে অন্তত ৭০ হাজার ৯০৬ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রচুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

লিবিয়া গিয়ে যেসব বাংলাদেশি নির্যাতনের শিকার হন বা যারা অবৈধপথে লিবিয়া যান আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত পাঠায় ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস। আইওএমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটি সময়ের আলোকে জানায়, এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আইওমের চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সরকারের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে আইওএম কোনো মন্তব্য করতে পারবে না। তবে একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে, লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে গিয়ে গত ২০২৩ সালে ১ হাজার ৪০৪ জন বাংলাদেশি ফিরে আসেন। চলতি বছরের শুরু থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ৭৩৯ বাংলাদেশি।

লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি হাফিজ খান সময়ের আলোকে গত ৯ জুন বলেন, আমি ১০ মাস হলো লিবিয়া এসেছি। আসার আগে বেতন-ভাতাসহ পারিশ্রমিক বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, এখানে তার কিছুই মানা হচ্ছে না। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বেতন পাইনি। এ বিষয়ে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেও কোনো ফল পাইনি। উল্টো লিবিয়া কিছু বাংলাদেশি দালাল দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যাতে আমরা সব মুখবুজে মেনে নিই। আমাদের বলা হচ্ছে, বেশি বাইরো না এবং গুম করার থ্রেট দেওয়া হচ্ছে। আমার মনে হয়, এ সবকিছুই দূতাবাস জানে এবং আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর পেছনেও দূতাবাসের যোগসাজশ আছে। অথচ আমরা যখন লিবিয়ায় এসেছি তখন এখানকার বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত নিজে উপস্থিত হয়ে আমাদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছে।

লিবিয়ার একটি হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. জয়দেব নন্দী সময়ের আলোকে গত ১১ জুন বলেন, এখানে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের প্রথম ব্যাচ আসে গত বছরের জুলাইয়ে। এরপর আরও কয়েক দফায় চিকিৎসক ও নার্স আনা হয়। সব মিলিয়ে মোট ২০২ জন বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্স আসেন। কিন্তু তাদের কেউই এখন পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী কোনো বেতন পাননি। এমন অবস্থায় প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। আরও অনেকেই এখন ফিরে যেতে চাচ্ছেন কিন্তু সেটাও অনেক জটিল। এ বিষয়ে আমরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

লিবিয়ার একটি হাসপাতালে নার্স পদে কাজ করতেন আবদুল্লাহ আল-জাফর। তিনি গত ২৪ মে দেশে ফিরে আসেন। আবদুল্লাহ আল-জাফর গত ১৯ জুন সময়ের আলোকে বলেন, আমি লিবিয়ায় ৯ মাস কাজ করেছি কিন্তু কোনো বেতন পাইনি। তাই অনেক কায়দা-কানুন করে দেশে ফিরে এসেছি। সেখানে গিয়ে পরিশ্রমের পাশাপাশি আমি নগদ টাকাও খুইয়েছি। দূতাবাস থেকে কোনো সাহায্য পাইনি। আর কোন জায়গায় অভিযোগ দেব সেটাও জানি না। আবার এরা সবাই মাফিয়া চক্র, আমাদের লিবিয়া থাকাকালেই বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। তাই ভয়ও আছে। লিবিয়ায় যাওয়ার সময় সরকার ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঠিক করে দিলেও এজেন্সিগুলো আমাদের থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে নেয়। টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে চাইলে নেয়নি, হাতে হাতে নিয়েছে। আমাদের ভোগান্তির কথা রিক্রুটিং এজেন্সিকে জানালেও ওরা কিছু বলেনি।

লিবিয়া থেকে বাংলাদেশি আবদুর রহমান গত ২৪ জুন সময়ের আলোকে বলেন, আমি বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে লিবিয়ার হাসপাতালে কাজ করতে আসি। কথা ছিল ৩ মাস শিক্ষানবিস সময় শেষে চাকরি স্থায়ী হবে এবং বেতন-ভাতাসহ পারিশ্রমিকের বিষয়ে চুক্তিও হয়। কিন্তু ১০ মাস কাজ করেও আমি বেতন পাইনি। তাই কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছি। কাজে ইস্তফা দেওয়ায় এখন আমি লিবিয়ায় অবৈধ। কীভাবে বাংলাদেশে ফেরত যাব জানি না। চোখে অন্ধকার দেখছি। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছি, ফল আসেনি। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আপনাদের অল্প কয়েকজনের জন্য লিবিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না। আবদুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের ভোগান্তির ক্ষতিপূরণ চাই।
প্রসঙ্গত, প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

রাজধানীর বনানীর ইএসআরএম এজেন্সি, নয়াপল্টনের আজুর বেঙ্গল লিমিটেড, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, মোক্তার ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি লিবিয়ায় বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্স পাঠানোর কাজ করছে।

ইএসআরএম এজেন্সির পরিচালক সাবেক মেজর আদনানের মোবাইল ফোনে কল করলেও ওই অফিসের ম্যানেজার মাহবুব ফোন ধরে গত ২৯ জুন বলেন, স্যার দেশে নেই। আমাকে বলেন। লিবিয়ায় চিকিৎসক ও নার্স পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাঠিয়েছিলাম। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এখন তারা কী অবস্থায় আছেন বা তারা যে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না-এটা কী জানেন? তিনি বলেন, পাঠানোর পর কী হয়েছে তা জানি না।

আজুর বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাজী আবদুল্লাহ আল মামুন গত ২৯ জুন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা গাদ্দাফির আমল থেকে লিবিয়ায় লোক পাঠাই। এখন লিবিয়ার পরিস্থিতি ভালো না। তাই নির্বাচিত লোক পাঠাই। গত বছর কিছু স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়েছি। তাদের নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সেটা খুব দ্রুত সুরাহা হয়ে যাবে। লিবিয়ার সরকার বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ বিষয়ে তৃতীয়পক্ষকে যুক্ত করায় এ সমস্যা হয়। এখানে বাংলাদেশ সরকার সবকিছু দেখে করলে সমস্যা এড়ানো যেত। যাই হোক, তারা সবাই সর্বোচ্চ ২০-২৫ দিনের মধ্যে বেতন পেয়ে যাবে।

রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক বশির আহমেদ ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে লিবিয়ায় বাংলাদেশি একাধিক স্বাস্থ্যকর্মীকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলে কয়েকজন ভুক্তভোগী সময়ের আলোর কাছে অভিযোগ করেছেন। গত ২৯ জুন বশির আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ায় ২৪ জনের মতো লোক পাঠিয়েছি। তারা সবাই ভালো আছে। কারও কোনো অভিযোগ নেই।’ তারা নাকি বেতন পাচ্ছে না-এমন প্রসঙ্গ ওঠালে তিনি বলেন, ‘কে বলল? না, না, তারা সবাই ভালো আছে। বেতনও পাচ্ছে।’ ফোনে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এগুলো মিথ্যা কথা। সব বানোয়াট। আমি ১৯৯১ সাল থেকে এ কাজ করছি এবং সুনামের সঙ্গেই করছি।’ বেতন না পাওয়ায় অনেকে দেশে ফিরে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আরে না। এগুলো ভুয়া। অনেকে ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে সেখানে গেছেন। তারা কোনো কাজ করতে না পারায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলি সাবরিনের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপির কাছে জানতে চাইলে তার দফতর থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে আপনি বোয়েসেলের (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লি.) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লিবিয়ার ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ খায়রুল বাশারের কাছে গত ২৫ জুন জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে দূতাবাসের মিনিস্টারের (শ্রম) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (শ্রম) গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির সময়ের আলোকে গত ২৬ জুন বলেন, লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে গেছে। তাদের বেতন লিবিয়ার স্থানীয়দের থেকে বেশি হওয়ায় সমস্যা বাধে। এ জন্য তারা এতদিন বেতন পাননি। সর্বশেষ গত ১৩ জুন লিবিয়ার সরকার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। শিগগিরই তারা বেতন পেয়ে যাবে। সেই সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগের বকেয়া ভাতাও পাবেন।

লিবিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি কী? লিবিয়ার পরিস্থিতিতে সেখানে শ্রমশক্তি রফতানি কতটা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতার বিষয়টি ফয়সালা না করেই তাদের লিবিয়া আনা কতটা যৌক্তিক? স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তির ক্ষতিপূরণ কে দেবে? এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

চলতি বছর লিবিয়া থেকে মোট কতজন বাংলাদেশি দেশে ফেরত গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আনুমানিক ৫৭৭ হবে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান গত ২৯ জুন সময়ের আলোকে বলেন, লিবিয়া বাংলাদেশিদের ইউরোপযাত্রার একটি নিয়মবহির্ভূত রুট। দালাল চক্র লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখান থেকে সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। মূলত আশির দশক থেকে লিবিয়ায় বাংলাদেশিরা কাজ করতে যায়। এরপর ২০১০ সালে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। এখনও সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে ৩টি সরকার দেশ চালাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটেও ভালো না। ফলে সেখানকার লোকজন নিরাপদে নেই। এমন পরিস্থিতিতে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ নেই। সেখানে জনশক্তি পাঠাতে হলে সেখানকার পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে প্রতি বছর লিবিয়ায় ৪০০-৫০০ জনের মতো বাংলাদেশি মারা যায়। আবার মধ্যপ্রাচ্য বাদে লিবিয়া থেকেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি ফেরত আসে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর সময়ের আলোকে বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চোখ-কান খোলা রাখলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় না। লিবিয়ার যে পরিস্থিতি সেখানে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি ঠিক না। এটা অব্যাহত রাখায় পাচারকারীরা সেই সুযোগ নিচ্ছে।

লিবিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে জনশক্তি রফতানি বন্ধ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ২০১১ সালের পর লিবিয়া থেকে ৩৫ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিল। সেই সময়ে আমি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় কাজ করতাম। আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। দেশবাসীকে বিপদে ফেলা ঠিক নয়। আমাদের বিমানবন্দরেও লিবিয়া বিষয়ে রেডবেল থাকা উচিত।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল হক গত সোমবার সময়ের আলোকে বলেন, আমি গত ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত ছিলাম। আমি যখন ছিলাম তখনও দেখেছি মানব পাচারকারীরা কীভাবে বাংলাদেশিদের লিবিয়া আটক করে নির্যাতন করে মুক্তিপণ নিত। আমি তখন সরকারের কাছে এ সবকিছুই লিখিতভাবে জানিয়েছি। এখনও লিবিয়ার পরিস্থিতি আগের মতোই আছে। এখন মানব পাচারকারীরা বাংলাদেশিদের ইউরোপ পাঠাতে লিবিয়াকে ব্যবহার করে এবং নির্যাতন করে মুক্তিপণ চায়। লিবিয়া এখনও অস্থিতিশীল। সেখানে এখনও শিল্প-কারখানা চালু হয়নি। সেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কেন লিবিয়ায় জনশক্তি রফতানি করছে তা বোধগম্য নয়।

সময়ের আলো/আরএস/




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close