ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

ভাগ্য আজ কার পাশে?
ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডসকে ডাকছে দ্বিতীয় ফাইনাল
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৭:৪৬ এএম  (ভিজিট : ১৯০)
ডর্টমুন্ডে লড়াইটা যখন ইংল্যান্ড আর নেদারল্যান্ডসের, তখন এমন প্রশ্ন চাউর হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভাগ্য পাশে ছিল বলেই না এবারের ইউরোর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দল দুটি।

গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার পর ভাগ্যের জোরেই নকআউটে নাম উঠে নেদারল্যান্ডসের। রোমানিয়াকে হারিয়ে দলটি অনায়াসে শেষ ষোলো পার হলেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ঘণ্টা প্রায় বেজেই গিয়েছিল। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও তুরস্ককে ২-১ গোলে হারায় রোনাল্ড কোম্যানের শিষ্যরা। এই ইউরোতে ইংল্যান্ডের গল্পটা তো আরও রোমাঞ্চকর। ‘সি’ গ্রুপ সেরা হলেও নকআউটে গ্যারেথ সাউথগেটের দল ছিল বড্ড নড়বড়ে। স্লোভাকিয়া ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে তাদের। অন্তিম মুহূর্তে জুড বেলিংহাম আর বুকায়ো সাকা ত্রাণকর্তা না হলে বিদায় দেখত হতো ইংলিশদের।

ভাগ্য পাশে ছিল বলেই অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আরেকটি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড। সাউথগেটের অধীনে খেলা চারটি মেজর টুর্নামেন্টের তিনটিতেই এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছে দলটি। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া কেনদের এই সাফল্যযাত্রায় একমাত্র ব্যর্থতা ২০২২ বিশ্বকাপ। ফ্রান্সের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তারা। তবে ইউরোর গল্পটা ভিন্ন। ২০২০ সালে আগের আসরে ইংল্যান্ড খেলেছে ফাইনাল, ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে সাউথগেটের দল শিরোপাস্বপ্ন জলাঞ্জলি দিলেও এবার টানা দ্বিতীয় ফাইনাল হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাদের। দ্বিতীয় ফাইনাল ডাকছে নেদারল্যান্ডসকেও।

ভাগ্য যদি আজও ডাচদের পাশে থাকে, তা হলে ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে মহাদেশীয় ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নাম তুলবে তারা। ১৯৮৮ সালে কমলা জার্সিধারীরা কেবল ফাইনালই খেলেনি, সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। ওই আসরটিও বসেছিল জার্মানিতে। সেবারও ডাচরা গ্রুপসেরা ছিল না। আসর শুরু করে ওই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে হার দিয়ে। এরপর রূপকথার গল্পের মতোই একেকটি সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙে ডাচরা। ওই যাত্রায় ইংল্যান্ডও দেখেছিল তাদের দাপট, মার্কো ফন বাস্তেনের হ্যাটট্রিকে গ্রুপ পর্বে ইংলিশদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল কমলা জার্সিধারীরা।
ইউরোয় তিনবারের সাক্ষাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই একটিই জয় নেদারল্যান্ডসের। তবে সামগ্রিক পরিসংখ্যানে তারা পিছিয়ে নেই বরং কিছুটা এগিয়েই আছে। দুই দলের ২২ সাক্ষাতে ইংল্যান্ডের ছয় জয়ের বিপরীতে সাতবার জিতেছে নেদারল্যান্ডস। বাকি ম্যাচগুলো হয়েছে ড্র। ডাচদের জন্য এর থেকেও ইতিবাচক দিক-সবশেষ ৯ দেখায় ইংলিশদের কাছে কেবল একবারই হার দেখেছে তারা। সেটাও ২০১৮ সালের এক প্রীতি ম্যাচে। আজকের লড়াইয়ে তাই ফেবারিটের নিক্তিকে নিজেদের কিছুটা এগিয়ে রাখতেই পারে কোম্যানের শিষ্যরা। তবে আসরটা ইউরো বলেই সাউথগেটের ইংল্যান্ডকে পিছিয়ে রাখারও উপায় নেই। 

বড় মঞ্চে হ্যারি কেনের উপস্থিতি ইংল্যান্ডের বড় শক্তির জায়গা। গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে থ্রি-লায়ন্স অধিনায়ক দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ৪৫ ম্যাচে করেছেন ৪৪ গোল। তাই ইংলিশ সমর্থকরা চলমান ইউরোতে তাকে ঘিরে বাড়তি আশাই দেখেছিল। আসরে এখন পর্যন্ত দুটি গোল করেছেন কেন-তবুও প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটাতে পেরেছেন, এমনটা বলা যাবে না। অন্যদিকে প্রত্যাশার থেকেও বেশি কিছু করে দেখাচ্ছেন কোডি গ্যাকপো। তিন গোল করে ডাচদের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এই মিডফিল্ডার।

গ্যাকপো-কেনরা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, তা হলে দুর্দান্ত এক সেমিফাইনালই হওয়ার কথা। নেদারল্যান্ডস কিংবা ইংল্যান্ড, তা ভাগ্য যাদের পাশেই থাকুক।

সময়ের আলো/আরএস/




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close