ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থার মধ্যেও ‘বাংলা ব্লকেড’, দুর্ভোগে নগরবাসী
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৬:২৪ পিএম  (ভিজিট : ১৫৮)
সরকারি চাকরিতে কোটা বহালে হাইকোর্টের রায়ের ওপর চার সপ্তাহের ‘স্থিতাবস্থা' দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে দুই শিক্ষার্থীর দায়ের করা পৃথক আপিলের শুনানি করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে ও পরীক্ষায় অংশ নিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদেরকে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বলেছেন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদনের শুনানির সময় আমরা সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আইনজীবীদের মাধ্যমে যুক্তি শুনব। অনেক হয়েছে, রাস্তা থেকে ক্লাসে যান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, আপনাদের আর আন্দোলন করার যৌক্তিক কারণ নেই। যেহেতু আদালত একটি অন্তবর্তী আদেশ দিয়েছেন। আপনারা সবাই রাস্তা ছেড়ে দেন। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবেন না, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে মানুষের সমস্যা হয়। মানুষের সমস্যা হলে রাষ্ট্রকে দেখতে হয়। এ কথাগুলো বিবেচনা করে অবশ্যই আপনারা আপনাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

অন্যদিকে আপিল বিভাগের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীরা বলেছেন, আদালতের সঙ্গে তাদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা সরকারের কাছে কোটা-সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান চাইছেন। যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

এদিকে সংসদে আইন পাস করে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে সারা দেশে সড়ক অবরোধের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ফলে আজ রাজধানীর সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। স্বল্প দূরত্বের পথ যেতে ঘণ্টার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড়, অ্যালিফেন্ট রোড, শাহবাগ, হাই কোর্টের কাছে মৎস্য ভবন মোড়, হানিফ ফ্লাইওভারের নিমতলী, বাংলা মোটর, ফার্মগেট, আগারগাঁও এবং মহাখালীর আমতলীতসহ বিভিন্ন স্থান অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মিরপুর রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, রামপুরা- বাড্ডা রোড শহর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় যান চলাচল একরকম বন্ধ হয়ে যায়। ফার্মগেটে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার মুখ, জিরো পয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগগুলো অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছেন। দুপুরে ঢাকার কারওয়ানবাজারেও রেলপথ আটকে দেওয়া হয়।

এই অবরোধের ঘোষণায় অনেক যানবাহন বের না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি এয়ারপোর্ট, মহাখালী, রামপুরা, মতিঝিল, মোহাম্মদপুরসহ অন্যান্য রুটের বাসও কম দেখা গেছে।
ফলে সকালে বাস না পেয়ে অফিসগামী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বাইকে করে যারা অফিস গেছেন, তারা ফাঁকা রাস্তার সুফল পেয়েছেন।

বেলা সাড়ে ১০টার পর আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামতে শুরু করে। এরপর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, গুলিস্তানসহ আশপাশের এলাকার সড়কে যানজট শুরু হয়।

এর আগে রোববার ও সোমবার চার দফা দাবিতে সংক্ষপ্তি সময়ের জন্য ‘বাংলা ব্লকেড’ পালন করে আন্দোলনকারীরা। ওই দুই দিনও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজটে ভুগতে হয় মানুষকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবিতে এক দফা দাবিতে নামিয়ে আনেন তারা। তাদের দাবি হল- ‘সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।’

এই দাবিতে বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা আসে ওই সংবাদ সম্মেলনে।

আন্দোলনকারিরা এ্যাম্বুলেন্স, রোগীর পরিবহন, সংবাদপত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবহনসহ জরুরি সেবার পরিবহন ছেড়ে দিচ্ছেন। বাকিদের চলাচল করতে হচ্ছে হেঁটে। রাস্তা ধরে হাজারো মানুষ কেউ অফিস শেষে কেউ বা অন্য কাজ শেষে হেঁটে বাসায় ফিরছেন।

তাদের একজন জামিল হোসেন। ফার্মগেট মনিপুরী পাড়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, ফার্মগেট বেরিকেড দেয়ায় খামারবাড়ি পর্যন্ত গাড়ি আটকে আছে। সেখান থেকে শাহবাগ হেঁটে আসলাম। কারণ সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত বাস পাবো না। 

যাত্রী পরিবহন শ্রমিকেরা আছেন সন্ধ্যার অপেক্ষায়। অ্যাপ ভিত্তিক কার চালকেরা অনেকেই যানযটে আটকে ঘন্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন।  

অ্যাপ ভিত্তিক কার চালক সুমন মোল্লা বলেন, দুই ঘণ্টা হলো সার্ক ফোয়ারার উলটা পাশের রোডে আটকে আছি। ছাত্ররা যেতে দিচ্ছে না। এখন সন্ধ্যার অপেক্ষায় আছি। সন্ধ্যায় তারা ব্যারিকেড ছাড়লে শান্তিতে গাড়ি চালাতে পারবো।

মোহাম্মদপুর থেকে সবজির ভ্যান নিয়ে এক ঘণ্টা একজায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে বিরক্ত মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থেইকা সবজি আইনা বাংলামোটর যাওয়ার রাস্তায় আইটকা আছি এক ঘণ্টা হলো। আন্দোলন শেষ না হওন পর্যন্ত মনে হচ্ছে না যাইতে পারুম। বেশ কয়েকটি বাস চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারাও সকাল থেকে রাস্তায় বাস নামাননি। আছেন সন্ধ্যার অপেক্ষায়। আন্দোলন সন্ধ্যায় শেষ হলে বাস নামাবেন। 

শুধু ঢাকা না ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া, পাবনা, গাজীপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সময়ের আলো/জিকে




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close