ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

বাংলা ব্লকেড
অচল বন্দর নগরী, ট্রেন চলাচল শিডিউল এলোমেলো
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৬:৫৮ পিএম  (ভিজিট : ২৯২)
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী দিনভর অচল ছিল। বুধবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের কিছু কাছে দেওয়ানহাট ওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। এরপর চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকা-সিলেটগামী ও ঢাকা সিলেট চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনমুখী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চারটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয় বলে জানান রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পোহান। ট্রেন শিডিউল এলোমেলো হয়ে গেছে। 

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরের পর থেকে কোটা বিরোধী আন্দোলনরত ছাত্রদের একটি দল নগরীর টাইগার পাস এলাকায় অবস্থান নেয়। এরপর আগ্রাবাদ থেকে বহদ্দারহাটমুখী এবং বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদমুখী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা পথে পথে আটকা পড়েন। যানবাহন না পাওয়ায় অনেকে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেন গন্তব্যের দিকে। এদিন বিকেলের দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই-রাঙ্গুনিয়া সড়কে অবরোধ করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই সড়ককে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। 

বুধবার দিনের শুরুতে সকাল ১০ টার দিকে কোটা বাতিল করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে দেওয়ান হাটে জড়ো হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও চবি অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টায় নগরীর দেওয়ান হাটে রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দেওয়ান হাটের রেলপথে অবস্থান করেন। ট্রেন লাইনে বড় বড় গাছ ফেলে রাখা হয়। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান দেন। তারা বলেন, ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘মেধা না কোটা ? মেধা- মেধা’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না। দুপুরে কোটা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার পরও আন্দোলকারীরা রেলপথ থেকে সরে যায়নি। দুপুরের পর নগরীর টাইগার পাস এলাকায় অবস্থান নেয়ার পর পুরো এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধ পরিস্থিতি দেখে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকা ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। 

শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কর্মসূচি চলবে। কোটা বৈষম্যের কারণে মেধাবীদের কর্মসংস্থান ছোট হচ্ছে। আমরা মেধাবী দ্বারা পরিচালিত একটি স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেখানে কোন বৈষম্য থাকবে না।

এদিকে অবরোধের কারণে ট্রেন আটকা পড়ায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে যাত্রীরা দিনভর ভোগান্তির মুখে পড়েন। অনেকে স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে বসে থাকেন। কেউ কেউ ট্রেনের আসনে বসে খবর নেন কখন অবরোধ প্রত্যাহার হবে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে যাত্রীদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে অবরোধ প্রত্যাহার হলেই ট্রেন চলাচল শুরু হবে। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ট্রেন চলাচল শিডিউল এলোমেলো হয়ে গেছে। যাত্রীদের অনেকেই স্টেশন ত্যাগ করেছেন। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রী নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রেনটি অবরোধের কারণে পাহাড়তলী ডক ইয়ার্ড থেকে স্টেশনের দিকেই আসতে পারেনি। মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রীরা ট্রেনের অপেক্ষায় স্টেশনে বসে আছেন। 

ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ

কোটা বিরোধী আন্দোলনে রেল পথ অবরোধ করায় চট্টগ্রাম থেকে অন্তত চারটি ট্রেন গন্তব্যের স্টেশনে যেতে পারেনি। বুধবার ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি। এছাড়াও বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যেতে পারেনি ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন। বিকেল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশে ‘গৌধুলী এক্সপ্রেস’ ট্রেনও ছাড়তে পারেনি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার পরও স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেনি ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন। ট্রেনটিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট স্টেশনে অবস্থান করতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) সাইফুল ইসলাম বলেন, রেল পথে অবরোধের কারণে একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু ট্রেন সময়মত ছাড়তে পারেনি চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে। আশা করি পরবর্তীতে ট্রেনগুলোর যাত্রা নিশ্চিত করা হবে। 

স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষে চড়াও যাত্রীরা

অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন পৌঁছতে পারেনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ট্রেন না পেয়ে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা বুধবার দুপুর ২টার দিকে স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষে পৌঁছে যান। যাত্রীদের তোপের মুখে স্টেশন ম্যানেজার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে টিকিটের মূল্য ফেরতের ঘোষণা দেন। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা শান্ত হন। স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান যাত্রীদের কাউন্টারে যোগাযোগ করতে বলেন। আর যারা অনলাইনে টিকিট কেটেছে তাদেরও টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেন। এসময় তিনি বলেন, অনলাইনে রিফান্ড অপশন থাকবে, সেখান থেকে টাকা ফেরত পাবেন।

চুয়েট শিক্ষার্থীদের অবরোধ

চুয়েট থেকে সংবাদদাতা জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা ৩ টা থেকে কাপ্তাই-রাঙ্গুনিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সারাদেশের চলমান বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির আওতায় এই আন্দোলনে যুক্ত হয় চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কুয়েট রুয়েট বুয়েটের পর বুধবার আন্দোলনে যোগদান করল চুয়েট শিক্ষার্থীরা। চলমান কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১ দফা দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে  ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী। 

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাশাক আল আবিদ বলেন, আমাদের দাবি একটাই। এই অযৌক্তিক ৫৬ শতাংশ কোটা বহাল না রেখে সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, নারী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানদের জন্য যৌক্তিক কোটা রাখা হোক। অর্থাৎ একটি সংগতিপূর্ণ কোটা সংস্কার করে মেধাবীদের দেশ গড়ার সুযোগ করে দেয়া হোক।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফুজার রহমান মোহাব্বত বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও এই বৈষম্যমূলক কোটা আমরা সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থি বলে মনে করি। আমরা চাই সরকার সকল গ্রেডের চাকরিতে অনগ্রসর এলাকা, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার  প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে কোটা সংস্কার করবে।

সময়ের আলো/আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কোটা বিরোধী আন্দোলন   বাংলা ব্লকেড   অচল বন্দর নগরী   ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়  




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close