ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানার প্রধান জাভেদ গ্রেফতার
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৭:৩০ পিএম  (ভিজিট : ২২৪)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার বরপা এলাকায় জঙ্গি আস্তানার প্রধান মো. জাবেদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এবং তিনি আলসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। গত ৩ জুলাই বরপা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি চারতলা বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনটি শক্তিশালী আইডি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের আগেই ওই আস্তানা থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে যান জাভেদ এবং তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলায় দায়ের করা হয়। ওই মামলায় প্রধান আসামি জাভেদ।

গত মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাভেদকে গ্রেফতার করা হয়। জাবেদ নেত্রকোনায় ‘আনসার আল ইসলাম’র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেয়। সেখানে বোমা তৈরিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে রূপগঞ্জের ভাড়া বাসায় বোমা তৈরি করে আসছিল। সেই বোমা ব্যবহারে দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে প্রস্ততি গ্রহণ করেছিল জাভেদ। 

বুধবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত এটিইউ সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এটিইউ’র পুলিশ সুপার (অপারেশনস) মো. ছানোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, গত ৯ জুন নেত্রকোণা মডেল থানার ৭ নম্বর কাইলাটি ইউনিয়নের বাসাপাড়া গ্রামের স্থানীয় একটি খামারবাড়ি ভাড়া নিয়ে মৎস্য খামার পরিচালনার অন্তরালে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’র একটি বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান পায় এটিইউ। এটিইউ’র বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও সোয়াট টিম সেখানে অভিযান পরিচালনা করে আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলি, ওয়াকি-টকি সেট, হাতকড়া, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ উগ্রবাদী প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। এরপর নেত্রকোণা মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

ওই মামলার সূত্র ধরে ৩০ জুন কক্সবাজার সদর থানা এলাকা থেকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নারী সমন্বয়কারী পারভীন আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার বরপা এলাকার একটি বাসায় জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে তথ্য দেন পারভীন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে বরপা এলাকার বাসাটি শনাক্ত করা হয়। এটিইউ’র বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও সোয়াট টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩টি তাজা আইইডি (বোমা), বোমা তৈরির বিভিন্ন উপাদান ও সরঞ্জামাদিসহ ছোরা, চাপাতি, ডায়রি, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করে। পরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়।

এটিইউ কর্মকর্তা ছানোয়ার আরও বলেন, বরপা এলাকায় জাবেদের বাসায় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করতেন এবং গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রথম শ্রেণির সদস্য হওয়ায় তাদের স্ত্রীরাও তাদের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০১৬ সালে জাভেদ দাওরা হাদিস পাশ করেন। এরপর তিনি অনলাইনে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যক্রম চালাতেন। এ ঘটনায় ২০১৭ সালে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তিনি গ্রেফতার হন। জেল থেকে বেরিয়ে ২০২০ সালে তিনি ‘আনসার আল ইসলামে যোগ দেন এবং সক্রিয়ভাবে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সময়ের আলো/জিকে




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close