ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

খুমেকে ভর্তি হয়ে বিপাকে রোগীরা, মাস যায় তবুও হয় না অস্ত্রোপচার
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৮:০৮ পিএম  (ভিজিট : ২০২)
অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সংকটে মাসের পর মাস ধরে অপেক্ষা শুধুমাত্র অস্ত্রোপচারের জন্য। এরপরও রোগীরা জানেন না আসলে কবে নাগাদ হবে অস্ত্রোপচার আর কবেই বা সুস্থ হয়ে ফিরবেন বাড়ি। আবার সময়মতও অস্ত্রোপচার না হওয়ায় অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। এছাড়া অর্থ সংকটসহ নানা অসুবিধায় পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। 

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল, যন্ত্রপাতি ও ওটি না থাকায় দিনে দিনে তৈরি হয়েছে এমন জটিলতা। কত দিনে এই জটিলতার নিরসন হবে তা জানা নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালেরই এমন পরিস্থিতি।

সাংবাদিক দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন রূপসার দিনমজুর মো. জাহাঙ্গীর। গত ১৪ মে খুমেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে সাত বছর বয়সী মেয়ে তাহমিদাকে ভর্তি করেন তিনি। সেই থেকে স্ত্রী খাদিজা বেগম সাথে আরও এক বছর বয়সী এক মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে পড়ে আছেন। মেয়র শরীরের নার্ভে সমস্যা। করতে হবে অপারেশন। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও অপারেশনের তারিখ জানা নেই তাদের। চোখের পানিতে ফুটে ওঠে অভাব-অনটন আর অসহায়ত্বের কথা। বলেন, হাসপাতালে আসার পর আমার মেয়ের শরীর আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

ওই ওয়ার্ডেই দেখা মিলল মাথায় টিউমার নিয়ে ভর্তি হওয়া ফিরোজা বেগমের (৩৮)। তার অপারেশন তিন মাসের আগে হবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। বাইরে ক্লিনিকে দ্রুত সময়ে হবে অপারেশন, প্রয়োজন দেড় লাখ টাকা। কিন্তু গৃহকর্মী ওই নারীর সামর্থ্য না থাকায় নিরুপায় হয়েই থাকতে হচ্ছে হাসপাতালে। আর সীমা খাতুন (৩০) মেরুদণ্ডের অপারেশনের জন্যে অপেক্ষা করছেন প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে। এছাড়া অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই মাস আগে থেকে আছেন প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস (৪৫)। ইউরোলোজি ওয়ার্ডে আড়াই মাস ধরে একই বিছানায় আব্দুর রাজ্জাক (৮৫)। এমন অবস্থা হাসপাতালের ইউরোলজি, নিউরোলোজি, অর্থপেডিক্স, বার্ন, কিডনিসহ প্রায় সকল বিভাগের। যেখানে কয়েকশ’ রোগী মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন অপারেশনের জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে নিয়মিত তিনটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও একটিতে লাইট, এসি, টেবিলসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সেটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আর জরুরি রোগীদের জন্য আরও তিনটি ওটির মধ্যে একটি ব্যবহার হচ্ছে স্টোর রুম হিসেবে। আরও একটি কক্ষের সামনে ওটি লেখা থাকলেও সেটি কোন দিনই ব্যবহার হয়নি।

চার মাস আগে ঘাটভোগ থেকে আসা কোমরের শিরায় সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া বাবুল খাঁ (৩৫) বলেন, বার বার তারিখ পড়ে কিন্তু অপারেশন হয়না। তাই কবে অপারেশন করে সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবো জানিনা। এখানে থাকতে প্রতিদিন ওষুধ, সাথের দুই জনের খাবার, মাঝে মাঝে পরীক্ষাসহ সবকিছু মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। কোথায় পাবো এই টাকা।

আর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যেমন এসেছিলাম এখন তার থেকে আরও খারাপ হয়েছি। হাতে পায়ে পানি জমে যাচ্ছে। আগে হাঁটা চলা করতে পারতাম এখন পারছিনা। দ্রুত অপারেশন হলে হয়ত আরও কিছু দিন বাঁচতে পারতাম।

খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, ছয়টি ওটির মধ্যে চারটি চলমান রয়েছে। ফলে সপ্তাহে এক বিভাগকে এক বেলার জন্য সিডিউল দেওয়া হয়। যেখানে দুইটার বেশি অপারেশন সাধারণত করা যায় না। সেদিন আবার কোন কারণে ছুটি থাকলে ওই রোগীকে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে শয্যা আটকা থাকায় নতুন রোগীদের দিনের পর দিন দিন থাকতে হচ্ছে বারান্দা, লবি কিংবা হাসপাতালের কোন ফাঁকা স্থানে। 

তিনি আরও বলেন, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও জনবল কাঠামো দিয়ে প্রতিদিন দেড় হাজারের ওপরে রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অপারেশনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক সার্জারি চিকিৎসকও নেই।

এ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের ইনচার্জ ডা. দিলীপ কুমার কুন্ডু বলেন, শুধু অবকাঠামো আর যন্ত্রপাতি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এই বিভাগে ৪৫ জন জনবল থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। এর মধ্যে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট পদে ১৯ জনের বিপরীতে মাত্র দুই জন কাজ করছেন। এছাড়া রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও মেডিকেল অফিসারের ২১টি পদ থাকলেও একজনও নাই এই বিভাগে। কিছু চিকিৎসক পদ দখল করে কাজ করছে অন্য বিভাগে। তিনি আরও জানান, এতো কিছুর পরেও প্রতি মাসে অপারেশন হয় পাঁচ শতাধিক।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. গৌতম কুমার সরকার বলেন, সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা চলছে। লিখিত ও মৌখিক দুই ভাবেই জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ইতোমধ্যে সব কিছু পরিদর্শনও করেছেন। কবে নাগাদ সংকটের অবসান হবে এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি সঠিক ভাবে কিছু বলতে পারেননি। বললেন, দ্রুত হয়ত হবে।

সময়ের আলো/আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  জনবল-যন্ত্রপাতি সংকট   খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক)   




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close