ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

ব্রহ্মপুত্র নদের হিংস্রতায় নিঃস্ব শতাধিক পরিবার
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪, ৮:২৯ পিএম  (ভিজিট : ৪৯০)
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই উজানের ঢলে যৌবন ফিরে পায় ব্রহ্মপুত্র নদ। এ সময়ে নদের উত্তাল স্রোত তরঙ্গে বেড়ে যায় দুই পারে তীর ভাঙনের হিংস্রতা। এতে শত শত একর ফসলি জমি ও বাপ-দাদার স্মৃতি বিজড়িত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পশ্চিম ভাটিপাড়া, উজান কাশিয়ার চর ও খোদাবক্সপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার। উপজেলার ৯ নম্বর ভাংনামারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী ভাঙন কবলিত এই তিনটি গ্রামের দৃশ্য।

ভুক্তভোগীরা জানায়, বছরের বেশির ভাগ সময় নদ শুকিয়ে হাটুজল থাকলেও বর্ষা মৌসুমে উজানে ঢলে পানি বেড়ে শুরু হয় ভাঙন। গত কয়েক বছরে এই ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় কয়েক শত একর ফসলি জমি নদ গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বসতভিটা হারিয়েছে শতাধিক পরিবার। চলতি মৌসুমে গত তিনদিনে খোদাবক্সপুর ও উজান কাশিয়ার চরের প্রায় ১০টি পরিবারের বসতভিটা ভেঙ্গে পড়েছে নদীগর্ভে। এতে বসত ঘরগুলোর ভাঙ্গা চালা বেড়া রক্ষা করা গেলেও নেই বসতভিটার স্মৃতি চিহ্নটুকুও। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো করছে নতুন ভিটার সন্ধান। কিন্তু তাদের মধ্যে কারো কারো সামান্য জমি থাকলেও অনেকের বসতভিটা করার মত কোন জমি নেই। ফলে তারা এখন দিশেহারা হয়ে দিনযাপন করছে নদের তীরেই ভাঙ্গা চালা বেড়ার খোপড়ি সাজিয়ে। 

ভুক্তভোগী আব্দুল রশিদ বলেন, সবকিছু গাঙ্গে (নদ) খাইছে। ধান-চাউল কিছু রক্ষা করছি, বাকি সব শেষ। বেশির ভাগ জমি অহন (এখন) গাঙ্গে। কি খাইয়াম, বাড়িঘর লইয়া কই যাইয়াম কিছুই জানি না। 

মো. রতন মিয়া (৩৮) নামের আরেক যুবক বলেন, আগে একবার বাড়িঘর সব গেছে। এখন ফসলি জমিও ভাইঙ্গা পড়তেছে। নদের ওই পাড়ে কিছু জমি আছে কিন্তু সেগুলোতেও পানি। এখন আমরা কই যামু, কি খামু, যা করে আল্লাহ। স্থানীয় খেলার আলগী গ্রামের কৃষক এলাহী বক্সের ছেলে মো. লিটন মিয়া (৩৮) বলেন, নদের তীরে আমাদের পাঁচ একর ফসলি জমি ছিল। এখন চার একর নদের গর্ভে চলে গেছে। বাকি আছে এক একর। সেটিও হুমকির মুখে। স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে কিছুই আর থাকবে না মনে হয়।

নূরুল হক নুরু নামের এক কৃষক বলেন, আমরা সাত ভাই, একজন বাদে সবার ভিটা নদে গেছে। যে ঘর এখনো আছে সেও এখন ঘর ভেঙ্গে ফেলার চিন্তা করছে। একই অবস্থা স্থানীয় সোহেল মিয়া, এমদাদ মাষ্টারসহ আরও অনেকের। তারা সবাই বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব। 

উজান কশিয়ার চর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিজুরনুর খোকা বলেন, এলাকার অনেক মানুষ নদের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দ্রুত সরকারের কাছে এর প্রতিকার চাই।  

গেল দুই বছর আগে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড উজান কাশিয়ার চর এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে উদ্যোগ নিলেও এ বছর জিও ব্যাগসহ ভাঙতে শুরু করেছে বলে জানান উজান কাশিয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান রানা। তিনি বলেন, আমরা এলাকায় স্থায়ী বাঁধ চাই, ভাঙন রোধে দ্রুত উদ্যোগ চাই।

ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের জন্য অপরিকল্পিতভাবে নদ খনন করাকে দায়ী করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিল বলেন, ভাঙনের খবর পেয়ে ইতোমধ্যে আমরা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনের জন্য প্রধান কারণ হল অপরিকল্পিতভাবে ব্রহ্মপুত্র নদী খনন করা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। বালু তোলার ফলে সৃষ্ট গর্তের কারণে পানির স্রোত বাড়ায় ভাঙন বাড়ছে। সবার আগে আমাদেরকে অপরিকল্পিতভাবে নদ খনন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ঠেকাতে হবে। বিষয়গুলো জানিয়ে সময় সময় চিঠি দিয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।  
তিনি আরও বলেন, গৌরীপুরের উজানকাশিয়ার চর, খোদাবক্সপুর, মরিচারচর, উজানের দিকে অষ্টাধর, ছাপরকান্দাসহ কিছু এলাকা ভাঙছে।  যে জায়গাগুলোতে ভাঙছে সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খোঁজ খবর নিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপনারা জানেন ব্রহ্মপুত্র নদের খনন কাজ চলছে নদী খননের ফলে কয়েকটি স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ এর সাথে কথা হয়েছে যাতে গ্রামগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সময়ের আলো/আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ব্রহ্মপুত্র নদ   নদী ভাঙন-নিঃস্ব শতাধিক পরিবার   ময়মনসিংহ  




https://www.shomoyeralo.com/ad/1698385080Google-News-Update.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close