ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৯ মে ২০২০ ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

ঢাকার ৫৯ এলাকায় পানি দূষিত- নিরাপদ পানি নিশ্চিত করুন
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 97

২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক আমাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যবিধি ও দরিদ্রতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ অনিরাপদ পানি পান করে। দেশের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৬ কোটি। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন আমলে নিলে প্রতীয়মান হয় যে দেশের অর্ধেক মানুষ অনিরাপদ পানি পান করে। রাজধানী ঢাকায় বাস করে প্রায় ২ কোটি মানুষ। তাদের পানীয় জল সরবরাহের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের। অথচ ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিও দূষণমুক্ত নয়। দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীর ৫৯টি এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এর আগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাষ্ট্রপক্ষের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে ঢাকার ২৯২টি অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৯টি এলাকার ১০টি জোনে পানি বেশি দূষিত বলে
প্রমাণ মিলেছে।
বাংলাদেশের মানুষ ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ নানা রকমের পানিবাহিত রোগের সঙ্গে পরিচিত। এসব রোগের প্রধান কারণ অনিরাপদ পানি। পানির অপর নাম জীবন। তবে তা হতে হবে বিশুদ্ধ পানি। এ জন্যই বিশুদ্ধ পানির জন্য আকুতি। অথচ নিরাপদ পানি সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের পানিই অনিরাপদ বলে প্রমাণ হয়েছে। যেখানে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সরবরাহেই এই হাল, সেখানে বেসরকারি উদ্যোগে সরবরাহ করা পানির কী দশা তা সহজেই অনুমেয়। কিছুদিন আগে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সংস্থাটি বলেছিল, ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক রাজধানীতে সরবরাহকৃত পানি ৯১ শতাংশ গ্রাহকই ফুটিয়ে পান করে। আর এই পানি ফোটানোর প্রক্রিয়ায় রাজধানীর বাসাবাড়িতে বছরে পোড়ে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার গ্যাস, যাতে ব্যয় হয় ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে প্রতিবেদনের সঙ্গে মতানৈক্য প্রকাশ করে ঢাকা ওয়াসার প্রধান বলেছিলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য ওয়াসার পানি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত।’ সেই ‘শতভাগ নিরাপদ’ সুপেয় পানির শরবত ওয়াসাপ্রধানকে খাওয়াতে ওয়াসা ভবনের সামনে সপরিবারে চলে এসেছিলেন জুরাইনের একজন বাসিন্দা। টিআইবির সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অপরিশুদ্ধ ওয়াসার পানি ফুটানো ছাড়া পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং এই পানি ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করা ছাড়া খাওয়ার অযোগ্য। জরিপে বলা হয়েছিল, ৯১ শতাংশ বাসাবাড়ির গ্রাহক সবসময়ই পানি ফুটিয়ে খেতে অভ্যস্ত। তখন ওয়াসার পক্ষ থেকে এ তথ্যে সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এখন খোদ ওয়াসার প্রতিবেদনেই নিশ্চিত হয়েছে অনিরাপদ পানির বিষয়টি। হাইকোর্টের নির্দেশে ওয়াসার পরীক্ষায়ই তাদের সরবরাহ করা ৫৯টি এলাকায় পানি দূষিত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর মানুষের কাছে নিরাপদ পানি দেওয়ার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। অথচ তাদের পানিই আজ অনিরাপদ বলে পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই তথ্য খুবই ভয়াবহ এবং আতঙ্কের। নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ পানি পান করার অধিকার সবার। আর এই পানি সরবরাহ করার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তাদের সচেতনতা এবং আন্তরিকতা ছাড়া সমস্যার সমাধান মিলবে না। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে ওয়াসাকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়েও নিরাপদ পানির বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পানির সরবরাহ পাইপ নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে, কোথাও লিকেজ শনাক্ত হলে তা দ্রæত মেরামত করতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিটি ভবনের পানির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার নিয়ম চালু করতে হবে। বিশুদ্ধ, নিরাপদ এবং সুপেয় পানির নিশ্চয়তা বিধান করতে হলে ওয়াসার পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই খাবার পানি সবার জন্য উপযোগী হয়ে উঠবে। শুধু পানি উৎপাদন পর্যায়ে নিজেদের না রেখে কীভাবে সবার মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা সম্ভব, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]