ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বন্যা শেষ হলেও গাইবান্ধায় দুর্ভোগের হয়নি শেষ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 226


বন্যার পানি নেমে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু এখনও ত্রিশ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা সেই ভয়াবহ বন্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে ক্ষতিগ্রস্ত পুল, কালভার্ট, সড়ক ও ব্রিজ। বাঁধভাঙ্গা বানের পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, বাঁধ ও বেড়িবাঁধ পড়ে আছে তেমনই। অনেক এলাকাতে এখনও শুরু হয়নি কোনও ধরনের সংস্কার কাজ।

বন্যার প্রায় দুই মাস পেরুলেও এখনও ক্ষত নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধার গ্রামীণ জনপদের মানুষ। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সেতু ও সড়ক এখনও মেরামতের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় জরুরি প্রয়োজনে দুর্ভোগের মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের। সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বশীলরা বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামেগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সা¤প্রতিক বন্যায় গাইবান্ধার সাত উপজেলা এবং তিনটি পৌরসভার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানিতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের যেতে হয় বিকল্প পথ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব সেতু ও সড়ক এখনও মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার গ্রামীণ জনপদের মানুষ।

কিছু এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে বাঁশ, কাঠ কিংবা ড্রাম ব্যবহার করে কোনও রকমে জোড়াতালি দিয়ে সাঁকো, সেতু বা ভাসমান সেতু নির্মাণ করে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ পুন:স্থাপন করা হলেও ওইসব সাঁকো, সেতু বা ভাসমান সেতুগুলোও এখন নড়বড়ে ও ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেয়া হলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো পুর্ণনির্মানের উদ্যোগ এখানো চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যেকার টানাপোড়নের কারণেই রাস্তাসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পুল, কালভার্ট, বেড়িবাঁধ বা ব্রিজের মতো অবকাঠামো সংস্কারের কাজে গতি নেই। সড়ক ও সেতু সংস্কার করে দ্রæত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

সরোজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে ত্রিমোহনী ব্রিজ হয়ে সাঘাটা উপজেলার সাথে যোগাযোগের এই সড়কে ৩টি ব্রিজসহ ৫টি স্থান ভেঙ্গে গেছে। ওইসব ভাঙ্গা জায়গায় কাঠের বা বাঁশের সাঁকো দিয়ে যোগাযোগ পুন:স্থাপন করা হলেও সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে হেঁটে চলা ছাড়া এপথে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের পোড়াগ্রাম এলাকায় গাইবান্ধা-সাঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কিছু অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলার সাথে এই সড়ক দিয়ে বাস ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাটি গ্রাম, পশ্চিম রাঘরপুর, ভুতমারা, ফুটানির বাজার, রামনগর, দলদলিয়া, ময়মন্তপুর, মানিকগঞ্জ, বুরুঙ্গী, কানিপাড়া, গাছাবাড়ীসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রাখালবুরুজ, তেতুলতলি, সোনাইডাঙ্গা, তালুক সোনাইডাঙ্গা, চর সোনাইডাঙ্গা, নাকই, মধুরাপুর, নারায়নপুর গ্রামসহ ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার বেশক’টি গ্রামের কাঁচাপাকা রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় এসব এলাকায় যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সম্পুর্নভাবে বাঁধের ক্ষতি হয়েছে ১.৫ কিলোমিটার, আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৯৭.৫ কিলোমিটার। কাঁচা ও পাকারাস্তার সম্পুর্ন ক্ষতি হয়েছে ২২ কিলোমিটার, আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৮শ’ ৩৩ কিলোমিটার। এছাড়াও ৩৯টি কালভার্টের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এসব সড়ক মেরামত বা সংস্কার কাজ কবে নাগাদ শুরু হয়ে কবে শেষ হবে এবং কবে নাগাদ মানুষের দুর্ভোগ কমবে, তা বলতে পারছেন না কেউ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, প্রকল্প তৈরি হয়ে গেছে; কেউ কেউ বলছেন, টাকা বরাদ্দ হয়ে গেছে, কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। এমন আশ্বাসেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের।

সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়ারেছ প্রধান জানান, ‘মানুষের চলাচলের জন্য গ্রামবাসী মিলে নিজেদের চেষ্টায় স্বেচ্ছাশ্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে বাঁশ, কাঠ দিয়ে সেতু বানিয়ে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ পুন:স্থাপন করা হয়েছে। সড়ক সংস্কার বা মেরামতের জন্য এখনো সরকরিভাবে কোন বরাদ্ধ আসেনি।’

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম জানান, ‘বন্যায় শুধু সাঘাটা উপজেলায় ১শ’ ১৭টি পাকা রাস্তার ৫০ কিলোমিটার ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া ১০টি ব্রিজের সংযোগ সড়ক সম্পুর্নভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের তালিকা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে।’

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া জানান, ‘মানুষ যাতে কোন কষ্ট না পায় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দসহ বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত গতিতে কাজ করে মানুষের দুর্দশা লাঘব করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই কনস্টাকশনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]