ই-পেপার রোববার ২৬ জানুয়ারি ২০২০ ১২ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২৬ জানুয়ারি ২০২০

মাদকের মারণ থাবা মুন্সীগঞ্জে
রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়
প্রকাশ: সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 81

মাদকের মারণ থাবা এখন আমাদের জন্য বড় ব্যাধি। এ থেকে সহসা মুক্তি পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। মাদক নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করছেন প্রতিনিয়ত। ঘোষণা করেছেন ‘জিরো টলারেন্স’। সর্বত্র সতর্ক দৃষ্টি রাখার তাগিদ দিচ্ছেন বারবার। তারপরও মাদকের চিত্রের আশাব্যঞ্জক উন্নতি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি না। আমাদের দেশে জঙ্গি উত্থান নিয়ে দেশবাসী যখন চরম উৎকণ্ঠায় ছিল, দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলার পর হতাশা নিমজ্জিত দেশবাসীকে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ‚মিকা দেশবাসীর কাছে প্রশংসা পেয়েছে। আর বিদেশে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের ভ‚মিকা রোল মডেল হয়ে আছে। অথচ সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেন? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর চিত্র। যারা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করবে তাদের মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। অর্থাৎ মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘শর্ষের মধ্যে ভ‚ত’ এ আপ্তবাক্য অকাট্য।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ মরণ নেশায় ছেয়ে গেছে নদীবেষ্টিত জেলা মুন্সীগঞ্জ। জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন যৌন উত্তেজক নেশার ট্যাবলেট ইয়াবার ছোবলে আক্রান্ত। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করাও এই নেশার জালে জড়িয়ে আছে। কথিত রঙিন নেশার আবর্তে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন যুবসমাজ। এ নিয়ে এ এলাকার অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। স্থানীয়রা বলছে, মুন্সীগঞ্জ শহরের নতুনগাঁও, নয়াগাঁও, মীরকাদিম, লৌহজংয়ের মাওয়া, মেদেনীমন্ডল, মাহমুদপট্টি, মিস্ত্রিপাড়া, জশলদিয়া, কুমারবগি, হলদিয়া, গোয়ালিমান্দ্রা, শ্রীনগর, সিরাদিখানসহ প্রায় সব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা সহজলভ্য। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে কঠোর অভিযান থাকলেও বর্তমান তা অনেকটা শিথিল। ফলে আবার বেড়ে গেছে মাদকের জমজমাট বেচাকেনা। মুন্সীগঞ্জের বেশিরভাগ উপার্জনক্ষম পুরুষরা বিদেশে থাকেন। শিশু-কিশোরদের শক্ত অভিভাবক না থাকাতে ওইসব পরিবার সন্তানদের কন্ট্রোল করতে পারছে না। ফলে উচ্ছন্নে যাচ্ছে তরুণসমাজ।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেছেন, উন্নয়নের এই সময় মাদক বিস্তারে সব ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষায় সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাবসহ স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। পুলিশের অভিযানের ফলে এখানকার মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে গেছে।
জেলা প্রশাসক বলছেন, মাদকের তৎপরতা এখানেও রয়েছে। এ জন্য মাদকবিরোধী অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের মেদেনীমন্ডল আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, বর্তমানে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের মাঝে বিস্তার লাভ করছে। যেকোনো উপায়ে মাদক প্রতিরোধ করতে হবে।
আমরা শুরুতে বলেছি, যারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করবে তদের মধ্যে রয়েছে বিস্তর উন্নাসিকতা। তারা সবাই বিষয়টিকে জিরো টলারেন্সে নিয়েছে তা আমরা বিশ^াস করি না। দৈনিক সময়ের আলোর এ প্রতিবেদনের পাশাপাশি আরেকটি সংবাদে বলা হয়েছেÑ মাদকের ইন্সপেক্টর হেলালের এত সম্পত্তি? ভাইয়ের নামে চালায় মদের বার। এ থেকে বাঁচার জন্য নিজ ভাইকে অস্বীকার, স্ত্রীর নামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। অল্পদিনে কোটিপতি বনে যাওয়া এই কর্মকর্তাকে ঢাকা থেকে যশোরে বদলি করা হলেও তিনি থাকেন মাসের ২৫ দিন ঢাকায়। তার ব্যাপারে দুদক অনুসন্ধান করছে।
আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব নয়। কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘জিরো টলারেন্স’ ব্যর্থ হতে পারে না। আমাদের প্রথমেই মনে রাখতে হবে, যারা মাদক গ্রহণ করে তারা আমাদের সন্তান। তারা পথভ্রষ্ট মানে আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। তা যেমন জাতির জন্য ক্ষতিকর, তেমনি প্রতি পরিবারের জন্য হতাশাজনক। আমরা মুন্সীগঞ্জের যে চিত্রের কথা বলেছি তা কিন্তু সারা দেশের চিত্র। আমরা মাদকের মারণ থাবা থেকে মুক্তি চাই। তার জন্য সংশ্লিষ্টদের যা কিছু করা দরকার তাই করতে হবে। আমরা আমাদের আগামী সন্তানদের এভাবে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। এ দায়ভার কেউ এড়াতে পারি না। রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]