ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ‘হ্যালো পার্টি’
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৯.২০১৯ ১০:২২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 97

কত রকম প্রতারণার শিকার হতে হয় এ দেশের মানুষের, তার ইয়ত্তা নেই। আগে প্রতারণার রকমফের ছিল এক রকম। কোর্ট-কাচারি থেকে আরম্ভ করে আত্মীয় পরিচয়, হাসপাতালে অন্য রোগী দেখিয়ে প্রতারণার নজির রয়েছে। ব্যাংক প্রতারণা তো হরহামেশাই ঘটছে। জমির জাল দলিল নিয়ে এদেশে সহজ প্রক্রিয়ায় প্রতারণা হয়ে থাকে, যা পরবর্তীতে ধরা পড়ে জেল খাটার ঘটনা তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। নানা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার প্রতারণা এখনও বহমান।
কিন্তু দেশ যতই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ততই প্রতারণার পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। ইন্টারনেটের যুগে এসেও মানুষ সহজ প্রতারণার কবল থেকে মুক্তি পায়নি। যে নিজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে দুনিয়ার হালহকিকত সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা রাখে, তারপরও সে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে কে বা কারা গ্রাহককে জানায়, আপনি লটারিতে এক কোটি টাকা পেয়েছেন। তা প্রসেস করতে উল্লিখিত নাম্বারে হাজার বিশেক টাকা পাঠান, আমরা সব ঠিকঠাক করে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। আপনি সাত-পাঁচ না বুঝে, কিছুটা লোভে তাড়িত হয়ে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার পর আর কোনোদিন ওই ফোন খোলা পাননি। এক তথ্য বলছে, এভাবে প্রতারণার শিকার লাখের ওপর। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে প্রতারণার এক অভিনব কৌশল চালু হয়েছে, যা গ্রাহককে প্রতারিত করার জন্য খুব সহজ। কারণ এ প্রতারক শ্রেণি সরাসরি মোবাইল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে এই অপকর্ম করে থাকে।
অথবা আপনার কোনো নিকটাত্মীয়ও জড়িত থাকে। যারা আপনার সরলতাটুকু সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সে আপনাকে ফোন করেÑহ্যালো, আমি বিকাশ থেকে বলছি। আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টের কিছু সমস্যা রয়েছে। সেটি ঠিক করতে আপনার পিন নম্বর প্রয়োজন। এমন অনেক অনিবার্য কথা দিয়ে শুরু করে পরে কৌশলে হাতিয়ে নেয় বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন। এরপর অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা উধাও।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অভিনব এ রকম প্রতারণার চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ইতোমধ্যে প্রতারণার নামকরণও করা হয়েছে, ‘হ্যালো পার্টি’। বলা হয়েছে, হ্যালো পার্টির সদস্যদের এক ফোনেই সর্বনাশ হতে পারে যে কারও। কেউ বুঝতেই পারবে না যে, তিনি প্রতারিত হচ্ছেন। চক্রটি এতটাই ধুরন্ধর যে, ভিকটিমের বিশ^াস অর্জন করতে মন্ত্রীর কণ্ঠ নকল করেও শোনাবে। হ্যালো পার্টির একজন সদস্য প্রথমেই টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে যেকোনো মোবাইল কোম্পানির পরিচয়ে ফোন দিয়ে বলবে, আপনি তাদের কোম্পানির এক লটারিতে একটি দামি গাড়ি পেয়েছেন। টার্গেটকৃত ব্যক্তি তা বিশ^াস করলে এরপর তারা সেই গাড়ির চার্জ, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স ট্যাক্স ও ভ্যাটের নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবে। তারপর ওই ফোন নাম্বার বন্ধ। বিষয়টি গোপন থাকলেও জুনে তা প্রকাশ পায় এক প্রতারণা মামলার মধ্য দিয়ে। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি সন্ধান পায় এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে বাবা, মা, ভাই, বোন, জামাই, বৌ, শ^শুর ও ছেলে জড়িত। কারও কারও পুরো পরিবারই এই চক্রটির সঙ্গে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল। সিআইডি বলছে, চক্রটি এতটাই চালাক যে তাদের গ্রেফতার করতে গেলে সতর্ক হয়ে যায়। সবাই গা ঢাকা দেয়। পরিবারের সদস্যরা কোনো তথ্য দিতে চায় না। এরা একটি সিন্ডিকেট। এরা উঠতি বয়সের তরুণ।
আমাদের প্রশ্ন, কেন এই প্রতারক চক্রকে ধরা যাবে না? আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক বড় বড় প্রতারককে আইনের আওতায় নিয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দিয়েছে। সেখানে এ চক্রটি কি খুব জটিল? আমাদের তা মনে হয় না। প্রতারকদের প্রমাণ তো মোবাইল কোম্পানির কাছেই রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এ রকম ছিঁচকে প্রতারকদের শনাক্ত অসম্ভব নয়। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা যথেষ্ট কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম বলে আমরা বিশ^াস করি। নব্য হ্যালো পার্টির প্রতারকদের দ্বারা আর কেউ যাতে প্রতারিত না হয় সে বিষয়ে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে আন্তরিক হবে বলে বিশ^াস রাখছি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]