ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১০ জন মিলে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে নোমানের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 92

পাশের গ্রামের অর্ধেক এলাকায় অনেক দিন ধরেই বিদ্যুৎ নেই। গ্রামবাসীকে নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছিলেন ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ইলিয়াস নোমান। কিন্তু বিষয়টি ভালো ঠেকেনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে। এ কারণে রাস্তায় একা পেয়ে ১০ জন মিলে কুপিয়ে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শুধু তাই নয়, তার দুই পায়ের বিভিন্ন অংশেও কুপিয়ে মারাত্মক যখমও করা হয়। অন্যের ঘরে আলো জ্বালাতে গিয়ে এখন তার নিজের জীবনের আলোই নিভে যাওয়ার পথে।
নোমানের ঠিকানা এখন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতাল। নোমান পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। কিন্তু এই ঠিকাদারি করতে গিয়েই হাত হারাতে হলো তাকে। পঙ্গু হয়ে হাসপাতালের ২১৭ নম্বর বেডে কাতরাচ্ছেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ গফরগাঁওয়ের যশোরা ইউনিয়নের যশোরা গ্রামে। চিকিৎসাধীন নোমান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের চাচাত বোনের ছেলে।
নোমান জানান, তার পাশের গ্রাম খোদাবক্সপুর। গ্রামটির অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। তবে এই বিদ্যুতের নাম করে অনেক আগে তার গ্রামের কয়েকজন যুবক প্রায় ৩০টি পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছিল। কিন্তু তারা বিদ্যুতের সংযোগ দিতে পারেনি। পরে গ্রামবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেন। তাতে তিনি সহায়তা করছিলেন। এটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান তিনি।
২ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিবগঞ্জ বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে ঢিল আসতে থাকে। তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান এবং পড়ামাত্র ১০ জন যুবক ছুটে আসে। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ওই দলে রাকিব, আকিব, সুমন, ওয়াহিদ, ফয়সাল, মাহফুজসহ ১০ জন ছিল। তারা তাকে চাপাতি, রামদা, পাইপ, রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর নোমানকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আনা হয়। ঘটনার রাতেই অস্ত্রোপচার করে তার বা হাতটি ফেলে দেওয়া হয়।
এ হামলায় উপজেলার যশোরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সুমন নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ নোমানের। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেছিলেন। কিন্তু ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পুলিশ কাউকেই আটক করতে পারেনি। গফরগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবিব বলেন, আসামিদের ৯ জনই পলাতক। তবে সারোয়ার জাহান নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]