ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

তদন্তে ছাত্রলীগ পেল আবরার হত্যাকারীরা ছিল ‘মদ্যপ’
হল প্রশাসনের ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ১০:০৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 309

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, ছাত্রলীগের সেই নেতাকর্মীরা তখন ‘মাতাল’ ছিল বলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারের ওপর নির্যাতন কয়েক ঘণ্টা ধরে চললেও তখন হল প্রশাসনের ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই ছাত্র সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলছেন, দোষীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তারাও ওই ভিডিও ফুটেজ বিবেচনায় নিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সোমবার এ ঘটনায় বুয়েটের ১১ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

ইয়াজ আল রিয়াদ জানান, সেদিন রাতে (রোববার) যারা এ কাণ্ডটি ঘটিয়েছে তারা পূজায় গিয়েছিল। সেখানে তারা মদপান করেছিল। তারা সবাই মারাত্মক রকমের ড্রাঙ্ক ছিল। তাদের মধ্যে মানবিকতা বলে কিছুই ছিল না। সেখান থেকে এসে তারা একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আবরারকে তার ১০১১ নম্বর রুম থেকে ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে তার ওপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করেÑ যার পরিপ্রেক্ষিতে আবরারের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে। ইয়াজ আল রিয়াদের ভাষ্য মতে, আবরারকে নির্যাতনের ওই কক্ষে তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী থাকে। অন্যান্য রুমের কিছু লোক এই নির্যাতনে অংশ নিয়েছিল। নির্যাতনের সময় বাইরে থেকে কেউ চিৎকার-আর্তনাদ শোনার খবর জানা গেছে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি জানান, যখন কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে, তখন এগুলো বাইরে যায় না। তখন দরজা-জানালা বন্ধ থাকে বলে আমরা জানতে পেরেছি। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে আবরার মোবাইলে তার বন্ধু ও সহপাঠীদের সাহায্য চেয়ে সাড়া পাননি বলে এই ছাত্রলীগ নেতার দাবি।

তিনি বলেন, তদন্তে আরও পেয়েছি, ওই রাতে বার্সেলোনার খেলা ছিল। পূজা থেকে এসে আবরারকে শারীরিক নির্যাতনের পর তারা বার্সেলোনার খেলা দেখতে চলে গিয়েছিল। আবরার এই ফাঁকে তার এক বন্ধুকে ফোন করে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার বন্ধু তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি। সে এলে এমন একটি অপমৃত্যুর মতো ঘটনা নাও ঘটতে পারত। সোমবার আবরার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী প্রতিবাদ-সমালোচনার মুখে ইয়াজ আল রিয়াদের সঙ্গে সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারকে দিয়ে এ তদন্ত কমিটি করে ছাত্রলীগ। রিয়াদ জানান, কমিটি করার পর আমরা তৎক্ষণাৎ সেখানে যাই। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে যারা রয়েছেন সবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

দায় প্রশাসনের : হলের মধ্যে অন্য ছাত্রদের হাতে নির্যাতনে আবরারের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের ‘দায়িত্বহীনতা ও নির্লিপ্ততাকেও’ দায়ী করেছেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ। তিনি বলেন, হলের মধ্যে রাতভর কয়েক ঘণ্টা ধরে একটা ছাত্রকে নির্যাতন করা হলেও প্রশাসন কেন বিষয়টি জানতে পারল না? হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষকরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করলেন? এ ঘটনায় প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারেন না। তাছাড়া ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও মতপ্রকাশে ছাত্রলীগ বাধা হতে পারে না বলেও মত দেন তিনি।
রিয়াদ বলেন, ছাত্রলীগ কখনও কারও ব্যক্তিগত মতপ্রকাশে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। এমনটি করার অধিকারও নেই। যার যার মত তিনি প্রকাশ করবেন। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের কোনো কর্মীর কারও মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেউ যদি কারও মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অপকর্ম করে তাহলে ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]