ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মারমাদের ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ উৎসব, সেজেছে পাহাড়ি গ্রাম
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ৪:৩২ পিএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ৪:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 127

বান্দরবানে মারমা  সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষের পাহাড়ি পল্লীগুলো নতুন করে সেজেছে।

প্রতিবছরের মত এবারেও এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনে মধ্য দিয়ে বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায় ৩দিন ব্যাপী ধর্মীয় উৎসব পালন করবে।

আদিকাল থেকে তিন মাস ব্যাপী বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে।

কথিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে ওড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ বা উৎসর্গ করেন ভক্তরা।

বান্দরবানে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে- মঙ্গল শোভা রথযাত্রা। বিশাল আকৃতির ময়ূর তৈরি করে তার ওপর একটি বুদ্ধ মূর্তি স্থাপন করে রথটি টেনে পুরো শহর ঘুরিয়ে সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধধর্মের নর-নারীরা ভগবানের উদ্দেশে নগদ টাকা ও মোমবাতি জ্বালিয়ে পূজা করে বুদ্ধ মূর্তিকে।

রথের পিছনে যুবক-যুবতীরা তাদের ঐহিত্যবাহী গান গেয়ে ঢোল বাজিয়ে সকলকে উৎসাহ  দিয়ে থাকে। অনুষ্ঠানের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিতে তৈরি করা হয় ভয়ংকর আকৃতির পুতুল। আর নির্মিত পুতুলের ভিতরে মানুষ প্রবেশ করে নেচে  মানুষকে আনন্দ দেয় । সেইদিন রাতের এ রথযাত্রা দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে উপচে পড়া ভিড় জমে।

এদিকে এবারেও ওয়াগ্যোয়াই পোয়েকে ঘিরে ১৩ অক্টোবর রাতে বান্দরবানে বিভিন্ন পাড়ার গলিতে পিঠা তৈরির উৎসব আয়োজন করা হবে। এ সময় রাতে পাহাড়ি তরুণ-তরুণী সারিবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা তৈরি করে থাকে। পরের দিন ভোরে বিহারের নর-নারীরা সমবেত হয়ে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশে ছোয়েং (পিঠা আহার) দান করেন। পরে যা প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে বিতরণ করেন এ উৎসবে।

সাধারণ সম্পাদক কো কো চিং মার্মা বলেন,  ‘প্রতি বছরের মতো এবারও  ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে-কে সার্বজনীন করতে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমদিন ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় মারমা সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটির শুভ সূচনা হবে। ঐদিন  গৌতম বুদ্ধের উদ্দেশে আকাশে ফানুস ওড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৩ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় পুরাতন রাজবাড়ীর মাঠ থেকে মহারথ টেনে নিয়ে যাওয়া হবে বৌদ্ধ বিহারে, আর সোমবার মধ্যরাতে সাংগু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মারমা সম্প্রদায়ের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা উৎসব) ইতি টানা হবে।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার জানান, “নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নেই, তারপরও উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বান্দরবান ছাড়াও ৬টি উপজেলা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মারমা সম্প্রদায়ের সদস্যরা পালন করবে এই মহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]