ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ট্রলি ব্যাগে যুবকের খন্ডিত লাশের পরিচয় উদঘাটন, গ্রেফতার-৪
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:০৩ পিএম আপডেট: ৩০.১০.২০১৯ ৩:৩৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1189

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র ব্রীজের কাছে রেখে যাওয়া সেই ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যুবকের খন্ডিত লাশের পরিচয় ও হত্যারহস্য উদঘাটনের দাবি করেছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন। এটা তাঁর জীবনের ‘সেরা ডিটেকশন’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রেমঘটিত কারণে অথবা বোনকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় ভাইদের হিংসার বলি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’


বুধবার সকালে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স দরবার হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। পুলিশ সুপার জানান, নিহত ব্যক্তির নাম বকুল (২৮)। সে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা গ্রামের ময়েজউদ্দিনের ছেলে। সে প্রতিবেশি বাবুল মিয়ার কন্যা গার্মেন্টসকর্মী সাবিনা আক্তারকে (১৮) ভালোবাসতো অথবা সাবিনাকে প্রায়শ উত্ত্যক্ত করতো। পরবর্তীতে জনৈক আবু সিদ্দিকের সাথে সাবিনার বিয়ে হয়ে যাবার পরও বকুল তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এরই জেরে সাবিনার দুই ভাই মো. ফারুক মিয়া (২৫) ও মো. হৃদয় মিয়া (২০) এবং ভাই বউ ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (২২) নিয়ে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার বাঘের বাজার বানিয়ারচালায় (জনৈক লিটন ডালীর ভাড়া বাসার ভাড়াটিয়া) বকুলকে হত্যার পর পলিথিনে মুড়িয়ে দু’টি ট্রলি ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে চারজনই ময়মনসিংহে এসে পাটগোদাম ব্রহ্মপুত্র নদের ব্রীজের পাশে একটি লাল ট্রলি ব্যাগ রেখে যায়। অন্য ব্যাগটি নিয়ে সাবিনা ও মৌসুমী কুড়িগ্রাম (মৌসুমী কুড়িগ্রাম জেলার কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়া গ্রামের মোজাফর আলীর কন্যা) চলে যায়। সেখানে দু’টি পৃথক স্থানে খন্ডিত দেহ ফেলে তারা গাজীপুরের বানিয়ারচালায় ফিরে আসে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সহোদর তিন ভাই-বোন ও এক ভাই বউকে গ্রেফতার করা হয়। এরা চারজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন জানান, গত ২১ অক্টোবর কে বা কারা ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র ব্রীজের কাছে একটি লাল ট্রলি ব্যাগ রেখে যায়। ব্যাগের সাইজ ও ওজন সন্দেহজনক হওয়ায় ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল টিম এসে ব্যাগটি খুলে হাত-পা ও মাথাবিহীন একটি ধর (দেহ) উদ্ধার করে। খবরটি চাউর হলে সর্বত্রই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সদর উপজেলায় একটি পা উদ্ধারের খবর জানায়। পরদিন দশ কিলোমিটার দুরে কুড়িগ্রামের রাজাপুরে একটি ব্যাগে কাটা পা, দু’টি হাত ও ভ্যানেটি ব্যাগে একটি চিরকুটসহ মাথা পাওয়া যাওয়ার কথা জানান। ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্রই ভীতির সঞ্চার করে। ময়মনসিংহের পুলিশ বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করে। সিসি ক্যামেরার ছবি ও চিরকুটের সূত্র ধরে ময়মনসিংহের ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, এসআই আক্রাম ও জুয়েলসহ ডিবি পুলিশ নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও গাজীপুরের বানিয়ারচালায় অভিযান চালিয়ে মো. ফারুক মিয়া ও তার ভাই হৃদয় মিয়া, বোন সাবিনা আক্তার এবং ভাই বউ মৌসুমী আক্তারকে গ্রেফতার করে। তাদের দেখানো মতে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার সুতারপাড় থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি (গার্মেন্টসে ব্যবহৃত), মোবাইল ফোন, একটি ব্যাগ ও এক টুকরো ইট (হত্যাকান্ডে- ব্যবহৃত) আলামত হিসেবে উদ্ধার করে।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এটা তার জীবনের ‘সেরা ডিটেকশন’। এটি একটি অসাধারণ ঘটনা। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাবে না। তবে হত্যাকান্ডের সাথে সাবিনা ও বকুলের প্রেমঘটিত ব্যাপার অথবা সাবিনাকে উত্ত্যক্ত করার বিষয় মূল কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত বকুলের নামে তিনটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।





এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]