ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২

রংপুরে ঐতিহ্যের নিদর্শন কেরামতিয়া মসজিদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 291

রংপুরের জেলা শহরের মূল কেন্দ্র কাচারি বাজার থেকে মাত্র ১০০ গজ দক্ষিণে রংপুর কোর্ট। কোর্টের চত্বর পেরিয়ে সামনে এগুলেই মুন্সিপাড়ার বিশাল মাঠের সামনে চোখে পড়বে বিশাল আকৃতির একটি পুরনো মসজিদ। মোগল স্থাপত্যরীতির সঙ্গে বঙ্গীয় রীতির মিশেলে নির্মিত মসজিদের স্থাপত্য ও আভিজাত্য যে কারও নজর কেড়ে নেয়। সমতলভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট। এর রয়েছে তিনটি গোলাকার গম্বুজ। আটকোনা ড্রামের আকৃতির ওপর ভর করে নির্মিত হয়েছে এসব। প্রতিটি গম্বুজের নিচের অংশে রয়েছে মারলন অলঙ্কার এবং ভেতরে দিকে মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে প্রস্ফূটিত পদ্মফুলের ওপর কলসমেটিক ফিনিয়াল চূড়া। এর প্রতিটি কোণে অষ্টভুজাকৃতির স্তম্ভ বিদ্যমান। গম্বুজগুলো কুইন্স ও পেনডেন্টি খিলানের আর্চের ওপর ভর করে সুকৌশলে নির্মিত। এ ছাড়া নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে খিলানাকৃতি ও প্যানেলের অলঙ্কারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যান্ডের উপস্থিতিও শোভা পাচ্ছে।
মসজিদটি আয়তাকারে ৪২ী১৩ ফুট। এর পূর্ব ও পশ্চিম দেওয়ালের প্রশস্ততা ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালের প্রশস্ততা ২ ফুট ১০ ইঞ্চি। ভেতরের দিকে মেহরাব, খিলান ও প্রধান ফটকের উভয়পাশে অষ্টকোণাকৃতির স্তম্ভেরও সন্নিবেশ দেখা যায়। স্তম্ভগুলোর ওপরের অংশ বিভিন্ন লতাপাতার কারুকাজ শোভিত। এগুলোর নিচের দিকটা কিছুটা কলসের মতো এবং ছাদের কিনারায় বাহারি অলঙ্করণ লক্ষ করা যায়। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে মেহরাব ও খিলানের অভ্যন্তরীণ অংশের উপরিভাগে মারলন অলঙ্করণের সঙ্গে লতাপাতা জড়ানো ফুলের নকশা দিয়ে সুশোভিত করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালে দরজার আকৃতি লক্ষ্য করা যায়। ধারণা করা হয়, এগুলো আলো-বাতাস আসা-যাওয়ার ভেন্টিলেটর হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। মসজিদে প্রবেশপথের কাঠামোগুলোর কিছু অংশ মসজিদের মূল দেওয়ালে এবং বর্ধিত অংশেও দেখা যায়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ভারতের জৈনপুর থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলাম প্রচারের জন্য বাংলাদেশের রংপুরে আগমন করেছিলেন বিখ্যাত সুফি ও দরবেশ মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী (রহ.)। তার উদ্যোগে ও প্রচেষ্টায় রংপুর ও আশপাশে অনেক স্থানে গড়ে ওঠে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও সেবাকেন্দ্র। সে ধারাবাহিকতায় রংপুর কাচারি বাজারের অদূরে নির্মাণ করা হয় এই মসজিদ ও মাদ্রাসা। তার নামানুসারেই তার প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদের নাম রাখা হয় কারামতিয়া মসজিদ। তবে স্থানীয় উচ্চারণে কেরামতিয়া মসজিদ নামেই প্রসিদ্ধ। ১২ জুন, ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে (১৮ মহররম, ১২১৫ হিজরি) ভারতের জৈনপুরে জন্মগ্রহণকারী এই মহান সাধক ৩০ মে, ১৮৭৩ সঙ্গে পরলোক গমন করেন। ইন্তেকালের পর এই মসজিদের সামনেই তাকে সমাহিত করা হয়।
পরবর্তীতে মসজিদের সম্প্রসারণ করা হলে মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী (রহ.)-এর মাজারটিও মসজিদের মূল অবকাঠামোর ভেতরে চলে আসে। বর্তমানে মসজিদের পূর্ব দিকে বারান্দার একটু আগ দিয়ে একটি দেওয়ালঘেরা কক্ষের ভেতরে তার ও তার সহধর্মিণীর কবর অবস্থিত। মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করার জন্য প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে আসেন। শুক্রবার এই মসজিদে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। তিনতলা এই মসজিদের ভেতরে কয়েক হাজার মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের জন্যও নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা রয়েছে এই মসজিদে।
ষ রেজাউল রেজা





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]