ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৮ জুলাই ২০২০ ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৮ জুলাই ২০২০

ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু আর নেই
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৪.১২.২০১৯ ১২:৫৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 242

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু মারা গেছেন। জীবদ্দশায় তিনি বলতেন, ‘ভাষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার এই মহীয়সী নারী মঙ্গলবার রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
রওশন আরা বাচ্চুর মেয়ে তাহমিদা খাতুন জানান, তার মা দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তার কফিন নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর পশ্চিম মণিপুরের বাসায়। মরহুমার ভাইয়ের ছেলে জহির আহমেদ খান ডলার জানান, আজ বুধবার সকালে কুলাউড়ার গ্রামের বাড়িতে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আমতলায় পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা এই মহীয়সী নারীর জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার উছলাপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এএম আরেফ আলী ও মা মনিরুন্নেসা খাতুন। ১৯৪৭ সালে পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে তিনি মেট্রিক, ১৯৪৯ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স পাস করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি বিএড এবং ১৯৭৪ সালে ইতিহাসে এমএ করেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে রওশন আরা বাচ্চু গণতান্ত্রিক প্রগ্রেসিভ ফ্রন্টে যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইমেন স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের সদস্য নির্বাচিত হন। রওশন আরা বাচ্চু সর্বশেষ বিএড কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। অবসর নেন ২০০২ সালে। বিএড কলেজ ছাড়াও ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল, নজরুল একাডেমি, কাকলী হাই স্কুলসহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষকতা করেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠিত করা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলের ছাত্রীদের ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সুসংগঠিত করেন।
রওশন আরা বাচ্চুর পরিবার নানাভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দাদা আহমদ আলী পড়াশোনা করেন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্বে ছিলেন। চাচা ছিলেন কংগ্রেস পার্টির সদস্য। মা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ না করলেও তার দেশপ্রেমের অভাবনীয় চেতনা ছিল। রওশন আরা বাচ্চু জীবদ্দশায় বলেছিলেন, আমি আমার জীবনে যা কিছু করতে পেরেছি তার জন্য মায়ের অবদানই বেশি। যে যুগে আমি পড়াশোনা করেছি, তা যদি আমার মা না দেখতেন তাহলে হতোই না।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]