ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

প্রথমে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিক্রি করা হবে
পেঁয়াজ বেচতে জেলা প্রশাসনকে মাঠে নামাচ্ছে সরকার
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১২.২০১৯ ১২:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 111

জাহাজে করে পেঁয়াজ উড়িয়ে এনেও সরকার দাম কমাতে পারেনি। টিসিবির মাধ্যমে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ, তাতেও কাজ হচ্ছে না। এবার পেঁয়াজ বিক্রি করতে জেলা প্রশাসনকে মাঠে নামাচ্ছে  সরকার। টিসিবির পাশাপাশি একেবারে উপজেলা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি করার জন্য সব জেল প্রশাসককে রোববার চিঠি দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। প্রাথমিকভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় বিক্রি করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলাতেই এ কার্যক্রম শুরু হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে টিসিবি সূত্রে জানা গেছে। শুরুতে ঢাকায় ৫০টি ট্রাকসেল এবং প্রতিটি বিভাগে ও বড় কয়েকটি জেলায় বিক্রি করা হলেও সেগুলো বাড়িয়ে ঢাকায় ৭০টি ট্রাকসেল এবং সব জেলায় বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি। তবে পেঁয়াজের সরবরাহ বা চাহিদামাফিক সব জেলায় পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর রোববার এসব তথ্য জানান।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পর পাশের দেশ ভারতেও পেঁয়াজ ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। গত শনি ও রোববার ব্যাঙ্গালুরুর খুচরা বাজারে দুশ’ রুপি কেজিতে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আমদানি) একেএম আলী আহাদ খান রোববার সময়ের আলোকে জানান, মূলত পেঁয়াজের বাজারে দ্রæত দাম কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রথমে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা এবং উপজেলায় বিক্রি করা হবে। এজন্য রোববারই সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে।

কীভাবে এবং কোন পন্থায় বিক্রি করা হবে পেঁয়াজে বিষয়ে তিনি জানান, এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের মাধ্যমে যেসব পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে সে পেঁয়াজ টিসিবির পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। তবে পেঁয়াজ বিক্রি করবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে বাছাই করে খন্ডকালীন ডিলার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। তারাই বিক্রি করবেন পেঁয়াজ, জেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

তিনি জানান, প্রতি জেলায় প্রতিদিন ১০ টন করে পেঁয়াজ দেওয়া হবে। তবে এ পেঁয়াজ টিসিবির মতো ৪৫ টাকায় নয়, বিক্রি করা হবে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কেবল তাদের আমদানি মূল্য রাখবে এর সঙ্গে যেসব ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিক্রি করা হবে তাদের জন্য কমিশন থাকবে কেজিতে ৪-৫ টাকা। বাজার যত দিন স্বাভাবিক না হবে তত দিন এ কার্যক্রম চলবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩৪ হাজার টন। গত ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে ৮ লাখ ১০ হাজার টন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত হুট করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত আরও আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার টন। এ সময় পর্যন্ত সব মিলিয়ে দেশে মোট পেঁয়াজের সরবরাহ হয়েছে ৩২ লাখ ২৬ হাজার টন। অথচ বছরে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা মাত্র ২৪ লাখ টন। ফলে উদ্বৃত্ত থাকার কথা কমপক্ষে ৮ লাখ ২৬ হাজার টন পেঁয়াজ। এই পণ্যটির ৩০ শতাংশ হারে ৭ লাখ টন পেঁয়াজ পচেও যায়, এরপরও বাজারে থাকার কথা ৭৬ হাজার টন পেঁয়াজ।

এরপরও গত ৫ ডিসেম্বর ৪ হাজার ১৫৯ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। এর মধ্যে টেকনাফ হয়ে এসেছে ১ হাজার ২২৯ এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হয়ে এসেছে ২ হাজার ৯৩২ টন। বৃহস্পতিবার দেশে আসা আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ২২৭, চীন থেকে ৩৮৪, মিসর থেকে ৮৪ এবং তুরস্ক থেকে ২ হাজার ৫০০ টন এসেছে। তাছাড়া গত শনিবার এসেছে আরও ২ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ। কিন্তু দেশে এত পেঁয়াজ থাকার পরও দাম কমছে না।

ভারতেও পেঁয়াজের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ : গত মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বাজারে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হাঁকিয়েছিল পেঁয়াজ। এর মাসখানেক পরও বাজারে নতুনের সঙ্গে আমদানির পেঁয়াজ মিললেও দাম কমার লক্ষণ নেই। এখনও দুশ’র ওপর দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি। বাংলাদেশের মতো এবার পাশের দেশ ভারতেও ডাবল সেঞ্চুরির কোটা পার করেছে পেঁয়াজ। গত শনি ও রোববার ব্যাঙ্গালুরুর খুচরা বাজারে দুশ’ রুপি কেজিতে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, পাইকারি বাজারে প্রতি কুইন্টাল (১০০ কেজি) পেঁয়াজ ৫ হাজার ৫০০ থেকে ১৪ হাজার রুপিতে বিক্রি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। ভারতে প্রতিবছর চাহিদা রয়েছে ১৫০ লাখ টন পেঁয়াজের। সেখানে ২০ দশমিক ১৯ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এক কর্ণাটক রাজ্যেই। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও বন্যায় এ বছর প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট দেখা দেয় সারা দেশেই। এ কারণে তুরস্ক, মিসর ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় মোদি সরকার।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]