ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

তীরন্দাজি-ক্রিকেটে সোনালি উৎসব
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১২.২০১৯ ১২:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 109

নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যভেদ করলেন রোমান সানা-ইতি খাতুনরা। তাতে সকালের আকাশটা ভরে গেল সোনালি আভায়। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তীরন্দাজিতে রঙটা উজ্জ্বল হলো আরও। এক এক করে এলো ৬টি সোনা! ভর দুপুরে সোনালি রঙেই নারী ক্রিকেটারদের ইতিহাস গড়ার উৎসব। কিছু হতাশা, কিছু আক্ষেপ ছিল, তবে সেগুলো ছাপিয়ে নেপালে চলমান ত্রয়োদশ এসএ গেমসে গৌরব আর কীর্তিতে এখন অবধি নিজেদের সেরা দিনটাই পেল বাংলাদেশ।

নেপালে চলমান দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমসের এবারের আসরে পদক জয়ের উৎসব শুরু দ্বিতীয় দিনে। ওইদিনই বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দিয়েছিলেন দিপু চাকমা। তৃতীয় দিনটা ছিল সোনায় মোড়ানো। কারাতে থেকে দেশকে তিনটি সোনা উপহার দিয়েছিলেন আল আমিন, প্রিয়া আর অন্তরা। এরপর হঠাৎই খেই হারিয়ে ফেলা। চতুর্থ, পঞ্চম আর ষষ্ঠ দিনে সঙ্গী হয়েছে রাশি রাশি হতাশা। শনিবার সপ্তম দিনে ফের সোনালি উৎসব, ভারোত্তোলন আর ফেন্সিং থেকে এলো তিনটি সোনা। গত আসরের সাফল্যকে ছাপিয়ে লেখা হলো বিদেশের মাটিতে সেরা গেমস কাটানোর রেকর্ড।

১৯৯৫ সালে মাদ্রাজ এসএ গেমসে ৭টি সোনার পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। নেপালে এবার সপ্তম দিনেই সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলে লাল-সবুজ শিবির। রোববার সকালে আরচ্যারির দলগত রিকার্ভ ইভেন্টে সোনা জয়ের মধ্য দিয়ে লেখা হয় নতুন ইতিহাস। এরপর সোনার পদকের ঝুলিটাকে সমৃদ্ধ করে সামনে এগিয়ে চলা। এদিন আরচ্যারিতে নিষ্পত্তি হওয়া ছয়টি ইভেন্টের প্রতিটিতেই সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। গত সাত দিনে সবমিলে পাওয়া সাত সোনার উৎসব এক দিনেই দ্বিগুণ করে ফেলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অর্থাৎ পদক তালিকায় ইতোমধ্যে ১৪টি সোনা জমা হয়ে গেছে বাংলাদেশের পাশে।

১৯৯৩ আসরের ১১ সোনার রেকর্ড পেছনে পড়ে গেছে। তৈরি হয়েছে ২০১০ সালে ঢাকায় জেতা ১৮টি সোনা জয়ের রেকর্ডটাও ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

আরচ্যারির আরও চারটি ইভেন্ট বাকি, সবগুলোর ফাইনালেই আছেন বাংলাদেশের তীরন্দাজরা। নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারের গেমসে ভারতীয় তীরন্দাজরা না থাকায় পদক জয়ের দৌড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরাই ফেবারিট। ফেবারিটের মতোই রোববার পোখারায় আরচ্যারি গ্রাউন্ডে পারফর্ম করেছেন রোমান-তামিমুলরা। সকালে রিকার্ভ ইভেন্ট থেকে তিনটি সোনার পদক পায় বাংলাদেশ। দুপুরে তিনটি সোনা ধরা দেয় কম্পাউন্ড ইভেন্ট থেকে। কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত বিভাগে ভুটানকে ২২৫-২১৪ স্কোরে হারিয়ে সোনার পদক জিতে নেয় অসীম কুমার দাস, সোহেল রানা আর মোহাম্মদ আশিকুজ্জামানে গড়া বাংলাদেশ।

মেয়েদের দলগত কম্পাউন্ডে শ্রীলঙ্কাকে ২২৬-২১৫ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জয়ের উৎসবে মাতে সুস্মিতা বণিক, শ্যামলী রায় ও সোমা বিশ্বাসকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল। কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈতেও দাপট অব্যাহত রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জুয়েল রানা-রোকসানা আক্তার জুটি স্বাগতিক নেপালের জুটিকে হারান ১৪৮-১৪০ ব্যবধানে। সকালে রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের সোনা দিয়ে শুরু হয়েছিল সাফল্যযাত্রা। রোমান সানা, তামিমুল ইসলাম ও হাকিম মোহাম্মদ রুবেলে গড়া বাংলাদেশ জেতে সোনা। এরপর মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে সোনা এনে দেন ইতি খাতুন, মেহনাজ আক্তার আর বিউটি রায় ত্রয়ী। ভুটানের জুটিকে হারিয়ে রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্ট থেকে সোনা আসে রোমান আর ইতির হাত ধরে।

এরই মাঝে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ২ রানে হারিয়ে এসএ গেমসে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হওয়া মেয়েদের ক্রিকেটে সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। সোনা জয়ের লড়াইয়ে আজ নামবে ছেলেদের ক্রিকেট দলও। সেখানেও প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের মহড়ায় রোববার এ দলটির কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে শান্ত-সৌম্যহীন বাংলাদেশ। তবে ওই হারে তেমন কোনো হতাশা নেই। কিন্তু ফুটবলে নেপালের কাছে অলিখিত সেমিফাইনালে হেরে হতাশার সাগরে ডুবেছে বাংলাদেশ। সোনা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন নিয়ে নেপালে যাওয়া জামাল-জীবনদের ফিরতে হচ্ছে ব্রোঞ্জ পাওয়ার সান্ত¡না নিয়ে।

এদিকে রোববার ফেন্সিংয়ের দুটো ইভেন্টে সোনা হাতছাড়া করার হতাশাও সঙ্গী হয়েছে। ছেলেদের দলীয় ইপি আর সাবরেÑ দুটোতেই রুপা পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই বিভাগেই ভারতের কাছে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ভারতের কাছে হেরে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের দলগত ইভেন্টেও রুপা পেয়েছে বাংলাদেশ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]