ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আজ
ক্যাসিনো কান্ডে রাঘব-বোয়ালের সঙ্গে আসছে চুনোপুঁটিদের নাম
স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 232

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ জুড়ে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। ২০০৩ সালে জাতিসংঘ এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি ক্যাসিনো কান্ডসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের দুর্নীতি প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আজকের এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দিনটি উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজন করছে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির।

এরই ধারাবাহিকতায় শুধু ক্যাসিনো কান্ড নয় কোনো দুর্নীতিবাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ক্যাসিনো কান্ডর অভিযোগে অনেক রুই-কাতলার সঙ্গে সামনে আসছে চুনোপুঁটিদের নামও। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রায় ১৮৭ জন অভিযুক্তের নাম এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে এসেছে।

রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (র‌্যাক) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা সম্রাট সুস্থ হলে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে ২২ হাজার ২৩৬টি। এ সময় সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, অনেকেই বলছেন এ অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু দুদক কাজ করছে। এরই মধ্যে ১৮৭ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুদক যাদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং অভিযুক্তদের আনন্দে থাকার কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি যিনিই করুন না কেন, তাকে দুদকের বারান্দায় আসতে হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে দুদকের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মামলায় শাস্তি হচ্ছে না। তার মানে আমাদেরও দুর্বলতা আছে। প্রতিটি মামলায় শাস্তি হওয়া উচিত। যেমন মানি লন্ডারিংয়ে দুদকের প্রতিটি মামলায় শাস্তি হয়েছে। দুদকের মামলায় ১৮০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। যেমন পুলিশের বহু জটিল মামলা বছরের পর বছর চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে না।

বেসিক ব্যাংক তদন্তের বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের কাছে চার্জশিট এসেছিল। কিন্তু সেখানে টাকা কোথায় পাচার হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকায় আমরা এগোতে পারিনি। তবে তদন্ত চলছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করা হচ্ছে, টাকা কোথায় গিয়েছে সে বিষয়ে জানতে। বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর নাম কেন চার্জশিটে ছিল না প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তিনি অপরাধ করেছেন কি করেননি, সে বিষয়ে আমরা এখনই কিছু বলতে পারছি না। তদন্ত চলছে। যদি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তার নাম আসে, তাহলে আপনাদের এ ধরনের প্রশ্ন আর করার প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকের টাকা কোথায় গেল, কীভাবে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এই তথ্য এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। মামলার চার্জশিটে তা উল্লেখ থাকবে। বেসিক ব্যাংকের মামলার চার্জশিট অনুমোদন চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেখানে টাকা কোথায় গেল সে তথ্য না থাকায় কমিশন চার্জশিট গ্রহণ করেনি।

এ সময় তিনি বলেন, বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার বিষয়টি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ বিষয়ে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। তাদের কাছ থেকে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, যাতে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে অবৈধ সম্পদের মালিক কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসকে সামনে রেখে দুদক চেয়ারমান বলেন, দুদকের ফাঁদ মামলার কারণে সরকারি অফিসে ঘুষের প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে আমরা মনে করছি। তবে ঘুষ লেনদেন হচ্ছে না, আমরা তা বলব না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে ঘুষের মাত্রা কমেছে।

মানি লন্ডারিং প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের মানি লন্ডারিং মামলায় শতভাগ শাস্তি হয়েছে। কিন্তু ২০১৫ সালে মানি লন্ডারিং মামলা দুদক থেকে নিয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং সিআইডিকে মামলা করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিআইডি মানি লন্ডারিং বিষয়ে ৬০-৭০টি মামলা করেছে, এনবিআর করেছে মাত্র এক থেকে দুটি। অথচ এনবিআরের সবচেয়ে বেশি মামলা করা উচিত। আমাদের ধারণা ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ক্যাপিটাল গুডস আনার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দায়িত্ব পাওয়ার পরেও মানি লন্ডারিংয়ে মামলা না করে আমরা তাদের নজরদারির মধ্যে রাখব।

তিনি বলেন, অবৈধ অর্থই কেবল মানি লন্ডারিং হচ্ছে, এটা প্রাইভেট সেক্টরে হোক আর সরকারিভাবে হোক তা মানি লন্ডারিং। কারণ হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ট্রেড বেইজড মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি টাকা পাচার হচ্ছে। কারণ এই পথে লিগ্যালি টাকা বিদেশে যাচ্ছে। অবৈধ সম্পদ কোথায় যাচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]