ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে
সেলিমা আহমাদ শিল্পোদ্যোক্তা, সংসদ সদস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.১২.২০১৯ ১১:৫২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 108

সেলিমা আহমাদ মেরী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান শিল্পোদোক্তা। একদিকে তিনি ব্যবসায়ী। অন্যদিকে সংসদ সদস্য। নারী জাগরণ তথা নারীমুক্তি আন্দোলনেরও নেত্রী। তিনি নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংক জনতা ব্যাংক লিমিটেডেরও পরিচালক। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংক লিমিটেডেরও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে ব্যবসায়ে অনন্য অবদানের জন্য অসল বিজনেস ফর পিস পুরস্কার লাভ করেছেন। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে। কাজ করছেন নারীর ক্ষমতায়নেও।

নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া দিবসকে সামনে রেখে সময়ের আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তার আগামীর স্বপ্ন ও তা বাস্তবায়নের কথা। তৃণমূলে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে সেলিমা আহমাদ বলেন, তৃণমূলে নারীদের উন্নয়নে অনেক কাজ হচ্ছে। অনেক নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ জরুরি। ১শ নারীকে সেলাই মেশিন দিয়েছিলাম আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তাদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করতে একটা প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু আমি মনে করি, নারীর ক্ষমতায়নের জায়গায় আমাদের আরও কাজ করতে হবে।

সেই জায়গাটায় আমরা আগামী বছর আরও কাজ করব। আরেকটা বিষয় আমাদের হোমনা-তিতাসের যে আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ নেতারা যারা আছেন সবাইকে নিয়ে এই ডিসেম্বরে আমরা মুজিব বর্ষ ঘোষণা করব। মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে কিছু কাজ করব যেখানে থাকবে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং এলাকার যুবকদেরও খেলাধুলায় উৎসাহিত করে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি থেকে নিরুৎসাহিত করতে কাজ করব। আমাদের এলাকার অনেক নারী এখন সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছেন। তাদের কিভাবে সম্মানিত করা যায় মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করব। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে এলাকায় বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল স্থাপনেরও পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আলোকসজ্জা হবে। বিশেষ করে স্বাধীনতার মাস মার্চকে সবাই মিলে উদযাপন করব।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ তে নারী নেতৃত্ব এসেছে। ভবিষ্যতে কি এফবিসিসিআইয়ের  নারী নেতৃত্ব আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজিএমইএতে এখন যিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি অত্যন্ত যোগ্য, শিক্ষা, ব্যবসা, বাণিজ্যে এবং পোশাক শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি এ জায়গায় তার যোগ্যতার ভিত্তিতেই এসেছেন। এফবিসিসিআইয়ের ক্ষেত্রেও শুধু নারী নেতৃত্ব মনে করে কাউকে নিয়ে আসা হলে, তাহলে হবে না। তাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্কে শুধু না বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের এই সার্ক দেশগুলোর অর্থনীতি, রাজনীতি, দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক চুক্তিগুলো কী আছে সেগুলোর সব কিছু সম্পর্কে যার অভিজ্ঞতা আছে এ রকম জ্ঞানী এবং সুদক্ষ একজন নারী এফবিসিসিআইয়ের  নেতৃত্বে যদি আসে আমরা অবশ্যই তাকে স্বাগত জানাব।

নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের জটিলতা থেকে উত্তরণের বিষয়ে সেলিমা আহমাদ বলেন, ব্যাংক ঋণে আসলে কোনো জটিলতা নাই। একটা নীতিমালা আছে যে, নারী উদ্যোক্তারা জামানতবিহীন ঋণ পাবেন ২৫ লাখ টাকা। এখন নারী উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা সঠিক একটা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করবে, তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে তার যে অ্যাকাউন্টস রেকর্ড রয়েছে সেটা ব্যাংকে জমা দেবে। কারণ অ্যাকাউন্টিং রেকর্ডস যদি না দেয় তাহলে ব্যাংক কিভাবে বুঝবে তার ব্যবসায়িক পরিস্থিতি কেমন? অন্যদিকে ব্যাংককেও জেন্ডার ফ্রেন্ডলি আচরণ করতে হবে।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু একটা সার্কুলারে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক একটা ডেস্কের কথা বলা আছে। প্রতিটি ব্যাংক কি সেটি কার্যকর করছে? করছে না। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় গণমাধ্যমেরও কিছু দায়িত্ব আছে। তাদের উচিত প্রত্যেকটা ব্যাংকে এ বিষয়ে একটু খবর নেওয়ার। তারা আসলেই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ডেস্ক তৈরি করেছে কি না তা জানার। কারণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যদি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হয় তাহলে নারী উদ্যোক্তারা কিভাবে কাজ করবে? সুতরাং জটিলতা কিন্তু নেই। সরকারের অবস্থান খুবই পরিষ্কার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যে পরিবেশ তৈরি করেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আর কোনো প্রধানমন্ত্রী তা করেন নি। কোনো প্রধানমন্ত্রী সংসদে নারী উদ্যোক্তাদের কথা বলেননি। সুতরাং একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে নারী উদ্যোক্তাদের সমর্থন করছেন, তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা করছেন সেই দেশে নারী উদ্যোক্তাদের কোনো বাধা থাকার কথা না। এখন সময় আসছে নারী উদ্যোক্তাদের নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ব্যাংক ও সরকারি অফিসগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনে ব্যাপারে বলব তাদের আরও বাস্তবমুখী কাজ করতে হবে। এসএমই বোর্ডকে আরও সুসংহত করতে হবে। বোর্ডের ক্যাপাসিটি আরও বাড়াতে হবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের বোর্ডে আমি ছিলাম তাই এটা সম্পর্কে জানা আছে। আমি মনে করি এর পরিচালনা পর্ষদটাকে আরেকটু ঢেলে সাজাতে হবে এবং একটা রোডম্যাপও দরকার আছে যে আগামী পাঁচ বছরে ওরা আসলে কি করতে চায়। সেই ব্যাপারে যাতে করে তারা একটু পরিষ্কারভাবে কথা বলে। তা ছাড়া স্টেকহোল্ডার যারা আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা বাড়াতে হবে বলেও আমি মনে করি। কারণ আমার মনে হয়, তারা যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে তা নিজেরা নিজেরাই নিচ্ছে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে খুব একটা আলোচনা করছে না। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যত বেশি আলোচনায় বসবে, তাদের তত বেশি সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে বলে মনে হয়।

নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে স্বাচ্ছন্দে কাজ করছেন জানিয়ে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ বলেন, নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন কাজে সবাই সহযোগিতা করছেন। আওয়ামী লীগের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমার এলাকার সবাই জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যেভাবে দেখতে চায়, ঠিক সেভাবেই আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তা বাস্তবায়ন করতে কাজ করে।

শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে কাজ করে চলেছেন। আর আমরা যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আছি, বিশেষ করে আমার হোমনা-তিতাসের কথা বলতে পারি তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে জননেত্রীর যে দিকনির্দেশনা, তার যে ভাবনাগুলো আছে, চিন্তাগুলো আছে সেটা তারা তৃণমূলে জনগণের সঙ্গে এক হয়ে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সেখানকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়নে আমাকে সহযোগিতা করছে, বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ আমি তো তাদের সঙ্গে একই নৌকার মধ্যে আছি। আমি তাদের মাঝি হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে নির্দেশগুলো আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। সবাই এক সঙ্গে একতালে কাজ করছি এবং একবছরে আমরা বলতে পারি হোমনা-তিতাসের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। যেমন ওখানে স্কুল হয়েছে, মাঠ হয়েছে, রাস্তা হচ্ছে, রাস্তার অবকাঠামাগত উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা সব প্রকল্প হিসেবে দিয়ে দিয়েছি। সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকারকে দিয়েছি, আমাদের নিজস্ব কাবিখা, টিআর’ দিয়েছি।

সেলিমা আহমাদ বলেন, আমি বিশ্বাস করি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আমার এলাকার বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে যে উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল তা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ইতোমধ্যেই এর ছাপ চলে এসেছে। যেমন এলাকায় সন্ত্রাস কমে গেছে, চাঁদাবাজি কমে গেছে, নারী নির্যাতন কমে গেছে। পাশাপাশি সামাজিক যে কষ্টগুলো ছিল যে কষ্টগুলো মানুষ অনেক সময় মুখ ফুটে বলতে পারত না। তাও এখন সবাই বলতে পারছে। পেশিশক্তির অস্থিত্ব আমার এলাকায় নাই। আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। কেউ যদি অন্যায় করে সে যে দলেরই হোক তাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তার কোনো ক্ষমা নেই। দল-মত নির্বিশেষে অন্যায়কারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হয় তাহলে তার দল দেখা হচ্ছে না। সে সন্ত্রাসী মানেই সন্ত্রাসী। তার আর অন্য কোনো পরিচয় নেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সব সময় আছি।

সেলিমা আহমাদের স্বামী ব্যবসায়ী নেতা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ। তাদের দুই সন্তান আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ (নিটল) ও আবদুল মারিব আহমেদ (নিলয়)।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]