ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

কৃষি
নবীগঞ্জে ড্রাগন ফল চাষের সফল উদাহরণ মশিউর
কামরুল হাসান হবিগঞ্জ
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১২.২০১৯ ১২:২২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 102

মাটি ও আবহাওয়া চাষের উপযোগী হওয়ায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ। বাজারে দাম ও চাহিদা থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ ফলের চাষ। অল্প সময়ে ও স্বল্প পুঁজিতে ড্রাগন ফল চাষ করে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে কৃষি অধিদফতর। ড্রাগন চাষে সাফল্য পেয়েছেন মশিউর রহমান নামের এক চাষি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পানিউমদা গ্রামের পাহাড়ে ভবানি চা-বাগানের অবস্থান। আর পাহাড়ের পাদদেশে এই চা বাগানের একাংশেই প্রায় এক একর জমিতে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগানের মালিক মশিউর রহমান। এখন এলাকার অনেকেই এ ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ড্রাগন চাষ সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষ আগে তেমন পরিচিত ছিলেন না। বেশ কয়েক বছর আগেও বিদেশ থেকে ড্রাগন ফল আমদানি করা হতো। দেশের বড় বড় সুপারশপগুলোয় বেশি দামে ড্রাগন ফল বিক্রি হতো। দেশের বেশকিছু উৎসাহী ব্যক্তি থাইল্যান্ড থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। এতে তারা সফল হন।

২০১০ সালের দিকে এদেশে সর্ব প্রথম ড্রাগন ফলের চাষ শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন ফলের চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন বাগানের ম্যানেজার বিনয় চন্দ্র বর্মন জানান, বাগানের মালিক মশিউর রহমান এক বছর আগে চা-বাগানের এক একর জমিতে শুরু করেন ড্রাগন চাষের কর্মপরিকল্পনা। প্রথমে সিমেন্ট দিয়ে প্রায় ৫০০ পিলার তৈরি করেন। পরে গর্ত করে পিলারগুলোকে দাঁড় করিয়ে ১টি পিলারের চারপাশে চারটি করে ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। এভাবে প্রায় ২ হাজার চারা রোপণ করেন তিনি। এতে পরিচর্যাসহ সব মিলে ব্যয় হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রথম মৌসুমেই দেড় লক্ষাধিক টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এখন পরিচর্যা ছাড়া কোনো ব্যয় নেই, শুধু আয়ের পালা। কোনো ব্যয় ছাড়া সামনে আরও তিনগুণ বেশি ফল বিক্রি করে টাকা আয়ের আশা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মাকসুদুল আলম জানান, রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় ড্রাগন ফল চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। এ উপজেলার বেশ কয়েকটি ড্রাগনের বাগান তৈরি হয়েছে। এই ড্রাগন বাগানগুলো দেখে কৃষকরা ফলটি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক তমিজ উদ্দিন খান বলেন, আমাদের দেশে ড্রাগন ফল সম্ভাবনাময় একটি ফল। ফলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। ফলটিতে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন-সি আছে। ক্যানসারসহ অনেক জটিল রোগের প্রতিরোধক হিসেবে ড্রাগন ফলটি কাজ করে।

যেসব জমি পূর্ণ সূর্যলোক পায়, বর্ষায় পানি উঠে না বা স্যাঁতসেঁতে থাকে না, এমন জায়গায় ড্রাগন ফলের চাষ করা সহজ। বাগান করার মাত্র ৯ মাসের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এক একটি ফলের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। তবে ৪-৫ বছরের একটির পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে এক কেজি পর্যন্ত ওজনের ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে বছরে ৮০ কেজি পর্যন্ত ফলন হতে পারে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]