ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৯ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রুম্পা হত্যা মামলা, প্রেমিক সৈকত চার দিনের রিমান্ডে
বিচ্ছেদের বিরোধে হত্যা শেষে ছাদ থেকে লাশ ফেলে দেওয়া হতে পারে
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১২.২০১৯ ১২:২০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 56

রাজধানীর স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা হত্যা মামলায় গ্রেফতার প্রেমিক আব্দুর রহমান সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন। মামলার আবেদনে বলা হয়, ৪ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে রুম্পাকে আসামি সৈকতসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা হত্যা করে ভবনের ছাদ থেকে লাশ ফেলে দেয়। এদিকে রোববারও রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিগগিরই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। এ ছাড়া জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানায় তারা।
আদালত সূত্র জানায়, রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে আসামি সৈকতকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের রমনা জোনাল টিমের
পরিদর্শক শাহ মো. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। এ সময় তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদ জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, নিহত রুম্পা স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকের ছাত্রী ছিলেন। আসামি সৈকতও একই বিশ^বিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র ছিল। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় ও পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ঘটনার দিন ৪ ডিসেম্বর বিকাল ৪টার দিকে নিহতের সঙ্গে আসামির স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে রাস্তায় দেখা হয়। তখন তিনি রুম্পাকে কোনো কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন। তখন তাদের মধ্যে এ নিয়ে বাকবিতÐা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৪ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১১টার দিকে রুম্পাকে ওই আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা হত্যা করে লাশ ৬৪/৪ সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডস্থ বাসার সামনে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। তাই মামলার তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত আবশ্যক।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার এসআই মাহমুদুর রহমান ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ। অপরদিকে আসামি পক্ষে মো. আব্দুল হামিদ ভুইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। আর এই আসামির বাবা গত সপ্তাহে মারা গেছেন। তার ১৫ দিন আগে তার এক চাচা মারা গেছেন। এই মানসিক অবস্থায় একজন ব্যক্তি কী করে হত্যা করতে পারে। আর রুম্পার যন্ত্রণায় আসামি আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে দিয়েছে। তাই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। শনিবার রাতে সৈকতকে আটক করে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে রমনা থানায় করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে অজ্ঞাত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন। সুরতহালে পুলিশ গুরুতর কিছু ইনজুরি পায়। সংগৃহীত আলামত ফরেনসিকে পাঠায়। ওই ঘটনার পরদিন রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে। ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ড. সোহেল মাহমুদ জানান, নিহত তরুণীর হাত, পা, কোমরসহ শরীরের কয়েক জায়গায় ভাঙা ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]