ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে সোনার হাসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 34

জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ৭ রান চাই, ৩ উইকেট হাতে থাকায় শ্রীলঙ্কার জয়টাকেই তখন সহজ দেখাচ্ছিল। শেষ ওভারে বল হাতে পাওয়া জাহানারা আলম যে হিমালয়সম চাপে ছিলেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশি পেসার তার অভিজ্ঞতার ঝুলি উজার করে দিলেন, চাপটাকে সামলালেন অসীম দক্ষতায়। মাত্র ৪ রান দিয়ে ফাইনালে রুদ্ধশ^াস লড়াইয়ে বাংলাদেশকে এনে দিলেন ২ রানের স্মরণীয় জয়।
এবারই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমসের ইভেন্ট তালিকায় যুক্ত হয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট। সেই প্রথমটা শেষে বাংলাদেশ শিবিরে সোনালি হাসি। শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে এই সাফল্যের প্রধান রূপকার জাহানারা। তবে
কৃতিত্বটা প্রাপ্য দলের সব বোলারেরই। একটু বেশিই প্রাপ্য অধিনায়ক সালমা খাতুন আর নাহিদা আক্তারের। ইনিংসের ১৮ আর ১৯তম ওভারে হাত ঘুরানো এই দুই বোলারই তো জিইয়ে রেখেছিলেন সোনা জয়ের সম্ভাবনা।
পোখারায় রোববারের ফাইনালে ব্যাটাররা ছিলেন নিজেদের ছায়া হয়ে। উইকেট ছিল কিছুটা ব্যাটিংবৈরী, আগের তিন ম্যাচে দাপট দেখানো সালমা ব্রিগেড তাতেই ব্যাট হাতে বিবর্ণ। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারানো টাইগ্রেসরা তুলতে পারে মাত্র ৯১ রান। বোলাররা ওই রানটাকেই জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ করেছেন। শ্রীলঙ্কাকে ৮৯ রানেই আটকে রাখেন তারা, মাতেন অপরাজিত থেকে সোনা জয়ের ইতিহাস
গড়ার আনন্দে।
স্বল্প পুঁজির কারণে বোলিংয়ের শুরুটা যেমন দরকার ছিল, ঠিক তেমনটাই পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নেন সালমা, পঞ্চম ওভারে নাহিদা। পরের ওভারে উইকেট শিকারির তালিকায় নাম তুলেন খাদিজা তুল কুবরা। ১৪ রানে ৩ উইকেট হারানো লঙ্কানরা রানআউটের খাঁড়ায় চতুর্থ উইকেট হারায় ৩০ রানে। এরপর ২৩ রানের দুটো জুটি, লঙ্কান অধিনায়ক হার্শিথা মাথভি আর লিথিনি অপ্সরা ম্যাচটাকে বাংলাদেশের লাগাম থেকে বেরই করে নিয়েছিলেন প্রায়।
দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে ৩৩ রান করা মাথভিকে
থামান জাহানারা। ২৫ রান করা অপ্সরা এরপরও লঙ্কানদের লক্ষ্যপথেই রেখেছিলেন। শেষ ওভারে গিয়ে রানআউট হন তিনি। জয়টা নাগালে পেয়ে যায় বাংলাদেশ। অথচ ১৭তম ওভার শেষেও জয়ের পাল্লাটা হেলে ছিল শ্রীলঙ্কার দিকে। ১৮ বলে দরকার ছিল ১৬ রান, হাতে ৫ উইকেট। ১৮তম ওভারে ৫ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন সালমা। নাহিদার করা ১৯তম ওভার থেকে লেগবাই সূত্রে চার রান পায় লঙ্কানরা। হারায় এক উইকেট। এরপর জাহানারার শেষ ওভারের ঝিলিক, দুই রানআউটের নাটকীয়তায় টাইগ্রেসদের সোনালি উৎসব।
এরপর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ পড়ে লঙ্কান বোলারদের তুপের মুখে। আয়েশা খাতুন তো ঠিকঠাক ব্যাটই চালাতে পারছিলেন না। আরেক ওপেনার মুর্শিদা খাতুন খেলছিলেন নিজের মতো করেই। কিন্তু ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এই ব্যাটার যখন বিদায় নেন বাংলাদেশের রান তখন ১৬। আয়েশাকে সঙ্গী করে রানটাকে ৩৬ পর্যন্ত নিয়ে যান সানজিদা ইসলাম (১৫)। এরপর এক ওভারেই সবকিছু এলোমেলো করে দেন উমিশা থিমাশিনি।
সপ্তম ওভারে বল হাতে তুলে নিয়ে এই অফস্পিনার প্রথম ডেলিভারিতেই ফেরান আয়েশাকে, পরের বলে সানজিদাকে। চতুর্থ বলে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফারজানা হককে বোল্ড করার পর ষষ্ঠ বলে সাজঘরের পথ দেখান রিতু মনিকে। থিমাশিনি এক ওভারে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার কীর্তি গড়েন, তাতে ১ উইকেটে ৩৬ থেকে চোখের পলকে ৫ উইকেটে ৩৬ বনে যায় বাংলাদেশের স্কোরকার্ডের চেহারা।
এরপরও সালমা খাতুনের দল অলআউট হয়নি, ৮ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯১ রান তুলেছে, সেটা নিগার সুলতানা আর ফাহিমা খাতুনের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের জন্য। ৩৮ বল খেলে দুটি চার আর একটি ছক্কায় দলের পুঁজিতে সর্বোচ্চ ২৯ রান জোগান দিয়ে অপরাজিত ছিলেন নিগার। ২১ বলে ১৫ রান করেন ফাহিমা। ৪ ওভারে ৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের সেরা বোলার ছিলেন থিমাশিনি। তবে তিনি নন, ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখা নাহিদা হয়েছেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]