ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস
৩৬ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২:৫৫ পিএম আপডেট: ০৯.১২.২০১৯ ২:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 180

১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর হানাদার মুক্ত দিবস । ১৯৭১ সালের এই তারিখে একটানা ৩৬ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধে পর্যুদস্ত পাক হানাদার বাহিনীর ৫৩ জল্লাদ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে জেলা শক্রমুক্ত হয়। এ সংবাদে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার সবক‘টি থানা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। এ কারণেই হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মাদারীপুর শহরের এ.আর হাওলাদার জুট মিলের অভ্যন্তরে ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে রাখে।

৮ ডিসেম্বর দুপুরে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক আবদুল মতিনের ড্রাইভার আলাউদ্দিন কলাগাছিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সংবাদ পৌঁছে দেয় যে, ৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাক বাহিনী মাদারীপুরথেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাবে। এ সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান সদর উপজেলার ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত মহাসড়কের দু‘পাশে প্রায় ৪.কিমি ব্যাপী অবস্থান নেয়।

৯ ডিসেম্বর ভোর ৫টায় হানাদার বাহিনী গোলবারুদ, অস্ত্র ও কনভয়সহ তাদের বাঙালি দোসর রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে ঘটকচর ব্রিজ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ শুরু করে।

মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া খেয়ে হানাদার বাহিনী দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা একটি কনভয় থেকে নেমে কভার ফায়ার করতে করতে আরো দ্রুত সকল গাড়ি নিয়ে এগুতে থাকে। এ সময় হানাদার বাহিনীর ফেলে যাওয়া কনভয় থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে নেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বর্ষণে ভীত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে হানাদার ও তাদের দোসরদের একটি অংশ সমাদ্দার ব্রিজের দুইপাশে আগে থেকে তৈরি করা বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে পাল্টা গুলি ছুড়তে থাকে। অপর অংশ ২টি কনভয় ও একটি জীপসহ সমাদ্দার ব্রিজ পাড় হয়ে রাজৈর থানার টেকেরহাটের দিকে পালিয়ে যায়। তারা টেকেরহাট ফেরি পাড় হয়ে ফরিদপুর যাওয়ার সময় ছাগলছিড়া নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

এদিকে সমাদ্দার ব্রিজে ৯ ডিসেম্বর সারা দিন সারা রাত এবং ১০ ডিসেম্বর সারা দিন সম্মুখ যুদ্ধ চলে মুক্তিযোদ্ধা ও হানাদার বাহিনীর মধ্যে। তুমুল যুদ্ধের এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনীর গোলা-বারুদ স্তিমিত হয়ে আসলে ১০ ডিসেম্বর বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকযোগে পাক বাহিনীকে আত্মসর্পনের আহবান জানানো হয়।

এতে সাড়া দিয়ে হানাদার বাহিনী রাইফেলের মাথায় সাদা কাপড় উড়িয়ে বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে আসে এবং পাশের খাল থেকে পানি, গাড়ি থেকে শুকনো খাবার ও গোলা-বারুদ নিয়ে পুনরায় বাঙ্কারে ঢুকে গোলাগুলি শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে সন্ধ্যার আগেই হানাদার বাহিনীর মেজর আবদুল হামিদ খটক ও ক্যাপ্টেন সাঈদ ৩৭ পাকসেনা এবং ১৪ মুজাহিদসহ ৫৩ জল্লাদ নিয়ে খলিল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। মিত্র বাহিনী ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পাকি বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্যদিয়ে মাদারীপুর শক্রমুক্ত হয়।

এ সংবাদ মাদারীপুরে পৌঁছালে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল খলিল বাহিনী। যুদ্ধে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্ব কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। যুদ্ধে ২০ হানাদার নিহত হয়।

আত্মসমর্পনের পর মুক্তিযোদ্ধারা আত্মসমর্পনকারীদের অস্ত্রশস্ত্র কভার করে সারা রাত সমাদ্দার ব্রিজে অবরোধ করে রাখেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কলাগাছিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে। ১২ ডিসেম্বর তাদেরকে মাদারীপুরে এনে সাব-জেলে বন্দী করে রাখা হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]