ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ইমরুল-ওয়ালটনেই স্বরূপে চট্টগ্রাম
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 65

দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন, খেলেছেন ৭৮ রানের অনিন্দ্যসুন্দর এক ইনিংস। নিজের করে নিয়েছেন ম্যাচসেরার খেতাব। মোহাম্মদ নাঈম শেখের মুখে তবু হাসি নেই, সেখানে বিষণ্নতার ছাপটাই স্পষ্ট। তার অমন পরফরম্যান্সও যে রংপুর রেঞ্জার্সকে জেতাতে পারেনি। টানা দ্বিতীয় হার দেখেছে তারা, অন্যদিকে তাদের ৬ উইকেটে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফেরার ম্যাচে দলটিকে স্বরূপে ফিরিয়েছেন ইমরুল কায়েস আর চাদউইক ওয়ালটন।
বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে জিতেছিল চট্টগ্রাম। মোহাম্মদ মিঠুনের দুর্ধর্ষ ব্যাটিং সেদিন মøান হয়ে গিয়েছিল ইমরুল আর ওয়ালটন ঝড়ে। এই যুগলের ব্যাটে এদিন মিঠুনের মতো মøান হয়ে গেলেন নাঈম। চট্টগ্রামকে প্রথম জয় এনে দেওয়ার দিনে রান তাড়ায় হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ইমরুল, অপরাজিত থেকে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছিলেন ওয়ালটন। এদিন হলো উল্টো, ওয়ালটন পেলেন হাফসেঞ্চুরি, দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন ইমরুল।
বৃহস্পতিবার খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ইমরুল-ওয়ালটন ছিলেন ব্যর্থ, চট্টগ্রামও হেরেছিল অসহায় আত্মসমর্পণ করে। শনিবার স্বরূপে ফিরেছে দলটি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে বোলিং নিয়ে রংপুরকে ১৫৭ রানে বেঁধে রাখে তারা। ১০ বল অব্যবহৃত রেখেই ওই রান টপকে যায় মাহমুদউল্লাহর দল। যদিও চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা চট্টগ্রাম দলপতি এদিন ব্যাট হাতে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে বল হাতে সফলই ছিলেন। ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে জহুরুল ইসলামকে নিজের শিকার বানান এই অফস্পিনার।
জহুরুলের (৬) মতো ব্যর্থ ছিলেন রংপুরের দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ আর টম অ্যাবেল। এরপরও দলটির রানের চাকা ছুটেছে দারুণ গতিতে। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা নাঈম তখন চারÑছক্কার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছিলেন। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর নাঈমের ব্যাটে ওই আগ্রাসী ভাবটা আর ছিল না। অন্য সতীর্থদের সঙ্গে দলপতি নবির (১২ বলে ২১) বিদায়ের প্রভাবই হয়তো পড়েছিল এই তরুণের ব্যাটিংয়ে। পরের ২৮ বল থেকে ২৬ রান নিতে পেয়েছেন তিনি, ছিল না কোনো বাউন্ডারি। ৫৪ বলে ৭৪ রান করার পথে যে ৬টি চার আর ৩টি ছক্কা এই বাঁহাতি হাঁকিয়েছেন, তা হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার মধ্যেই।
শুরুর ছন্দটা শেষতক ধরে রাখতে পারলে নাঈমের ব্যক্তিগত ঝুলিটা নিশ্চিতই আরও সমৃদ্ধ দেখাত। সমৃদ্ধ হতো রংপুরের পুঁজিটাও। সেক্ষেত্রে হয়তো টানা দ্বিতীয় হার দেখতে হতো না দলটিকে। নাঈমের মুখে তাই হাসি নেই, যেটা দেখা গেল ইমরুল-ওয়ালটনদের মুখে। রান তাড়ায় এদিন আভিষ্কা ফার্নান্দোর সঙ্গে মিলে চট্টগ্রামকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন ওয়ালটন। ২টি চার আর ৩টি ছক্কায় ২৩ বলে ৩৭ রান করে ফার্নান্দো যখন আউট হন, ততক্ষণে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান হয়ে গেছে। এরপর ইমরুল-ওয়ালটনের ৫১ রানের জুটি। ম্যাচে রংপুরের জয়ের আশা আর চট্টগ্রামের হারের সামান্য শঙ্কাটুকুও উধাও।
৪টি চার আর ৩টি ছক্কায় ৩৪ বলে ৫০ রান করেছেন ওয়ালটন। এই ক্যারিবিয়ান ফেরার পরই উইকেটে আসেন মাহমুদউল্লাহ। তাকে সঙ্গী করে দলকে অনায়াস জয়ের পথে টেনে নিতে থাকেন ইমরুল। দলীয় ১৩৯ রানে মাহমুদউল্লাহ আর ১৫৫ রানে নাসির হোসেন সাজঘরে ফিরলেও দলকে পথেই রাখেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে যখন জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সুসম্পন্ন, এই বাঁহাতি তখন ৪৪ রানে অপরাজিত। ৩৩ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছিলেন ৩টি চার আর ২টি ছক্কায়।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]