ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০ ১০ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ভাতা নয়, স্বীকৃতি চান মুক্তিযোদ্ধা রশিদ
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 29

মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন আব্দুর রশিদ। স্বাধীনতার পর রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা শহীদ আবু খাঁর মা টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ায় অভিমানে
স্বীকৃতি চাননি আব্দুর রশিদ। কিন্তু জীবনের ক্রান্তিলগ্নে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান এই বীর।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল হক তারার নেতৃত্বে নেত্রকোনার কলমাকান্দা, নাজিরপুর, বাইশদার, বড়াইল, নেত্রকোনা বিজয়সহ বিভিন্ন যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন আব্দুর রশিদ। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরের বাঘবেড় গ্রামে। বাবা-মৃত হাফিজ উদ্দিন, মাতা মৃত শহরের নেছা। পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও গ্রামবাসী তাকে একজন বঙ্গবন্ধুপ্রেমী হিসেবে চেনে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও এখনও প্রতিবছর ১৫ আগস্ট একা একা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাঘবেড় গ্রামে গিয়ে কথা হয় আব্দুর রশিদের সঙ্গে। সময়ের আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে রণাঙ্গনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।
আব্দুর রশিদ বলেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে ময়মনসিংহ শহরে আনসারের (সশস্ত্র) প্রশিক্ষণ নেই। ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী নির্বিচার গণহত্যা শুরু করলে পরের দিন আমাদের গ্রামে খবর পৌঁছে। এরপর আমরা আনসাররা ময়মনসিংহে জড়ো হই। পাকিস্তানি বাহিনী ট্রেনে করে ময়মনসিংহ যেন না আসতে পারে সে জন্য জেলা আনসার অফিসার মালেক সাহেব আমাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে প্রত্যেককে অস্ত্র ও গুলি দিয়ে কেওয়াটকালী এলাকায় রেলপথে পাহাড়ায় পাঠান। কয়েকদিন পর সেখান থেকে আমার ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি বাহিনী বিমান হামলা করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে অস্ত্র নিয়ে গৌরীপুর বাড়িতে আসি। এরপর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে প্রশিক্ষণ নিতে উচাখিলা এলাকার এক সেনা সদস্যর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে নেত্রকোনার রংরা বর্ডার দিয়ে ভারত চলে যাই।
আলাপচারিতায় জানা যায়, ভারত প্রবেশের পর ইয়ুথ ক্যাম্পে ইন্ডিয়ান আর্মি ক্যাপ্টেন চৌহানের দেখা হলে রশিদ সেখানে থেকে যান।
পর দিন নাজমুল হক তারার কোম্পানি তুরা ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে আসার খবর পেয়ে ক্যাপ্টেন চৌহানের অনুমতি নিয়ে তাদের দলে ঢুকে পড়েন রশিদ।
নেত্রকোনা সদর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কামন্ডার আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের কোম্পানি যখন ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে আসছিল তখন ভারতীয় আর্মি ক্যাপ্টেন চৌহান অস্ত্রসহ রশিদ ভাইকে আমাদের দলে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর রশিদ ভাই আমাদের সঙ্গে থেকে নেত্রকোনা অঞ্চলের সবগুলো যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন।
কথা প্রসঙ্গে রশিদ জানান, স্বাধীনতার পর সহযোদ্ধা শহীদ আবু খার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি টাকার অভাবে তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা হচ্ছে না। আমি বাড়ি এসে কিছু টাকা সংগ্রহ করে কয়েকদিন পর ওই বাড়িতে গিয়ে শুনি আবু খার মা মারা গেছেন। স্বাধীন দেশে শহীদের মা বিনা চিকিৎসায় মারা গেল সেই কষ্টে স্বীকৃতি চাইনি। মৃত্যুর আগে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নামের স্বীকৃতিটা দেখে যেতে চাই। আমার কোনো ভাতার দরকার নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]