ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১

সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ খাঁন
ডাকসুতে হামলার শিকার কারোও অবস্থাই ভালো নয়, ঢামেকের দাবি মিথ্যা
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৮:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 99

ডাকসুতে হামলার ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারো অবস্থাই এখনো ভালো নয় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক রাশেদ খান। তাদের সবারই অবস্থার অবনতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসাধীনদের অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা মনে করি, শুধু মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তুহিন ফারাবীকে বেডে নেওয়া হয়েছিল। তুহিন ফারাবীর সংকটাবস্থা এখনও কাটেনি। তার অবস্থা গুরুতর।

আমাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক এপিএম সোহেলের অবস্থা গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই অবনতি হয়। এর আগে তাকে চিকিৎসকরা সিটিস্ক্যান দিয়েছিল। তখন চিকিৎসকরা জানান তার অবস্থা ভালো আছে তেমন কিছু হয়নি। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) রাত দশটার দিকে জরুরিভাবে চিকিৎসকরা তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। পরে দ্রুত অপারেশন করা হয়।’

‘আমরা জানতে পেরেছি, সোহেলের মাথায় প্রচণ্ড রকমের আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। অপারেশনের মাধ্যমে যদি তার মাথার রক্ত অপসারণ করা না হতো তাহলে তার জীবননাশের হুমকি ছিল। সোহেল এখন আইসিইউতে আছেন। তার জ্ঞান কখনো আসছে, আবার জ্ঞান হারাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নুর মাঝেমধ্যে বমি করছেন। তার হাতে ও কোমরে প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। রাত্রে ঘুমাতে পারছেন না। সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলামের দুই চোখে প্রচণ্ড রকমের আঘাত করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর।

এছাড়া তার হাতেও কোমরে প্রচণ্ড রকমের আঘাত রয়েছে। সে ঘুমাতে পারছে না। কিছু খেতেও পারছে না বমি করে ফেলছে।’

রাশেদ বলেন, ‘সংগঠনের ঢাকা কলেজের যুগ্ম-আহবায়ক নাজমুল ইসলাম। তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা এখনও পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যথার যন্ত্রণায় সে ঠিকমত ঘুমাতে পারছে না।

আমাদের সহযোদ্ধা মেহেদী হাসান। তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে কিছু খাওয়ানো যাচ্ছে না। সে কথাও বলতে পারছে না। তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে।’

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক ফারুক হাসান। তার হাতের একটা শিরা আঘাতে ছিঁড়ে গেছে। তার বাম কানেও প্রচণ্ড আঘাত এর কারণে শুনতে পাচ্ছেন না। তার অবস্থারও দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে। ভিপি নুর এর ছোট ভাই আমিনুল ইসলামের অবস্থাও গুরুতর। সে এখনো পর্যন্ত কথা বলতে পারছে না। কাশতে গেলে তার রক্ত বমি হচ্ছে। তার অবস্থা অবনতির দিকে বলেও জানান রাশেদ।

এসময় ঢাবি প্রক্টর ড. গোলাম রব্বানীর ‘মদদে’ সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করা হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আসলে ঘটনায় জড়িত ছিল কারা? প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর মদদে সিসিটিভি ফুটেজ সরানো হয়েছে। অথচ হামলার সময় পাঁচবার ফোন করেও প্রক্টরকে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি ফোন রিসিভ করে গালাগালি শুরু করেন।

শুরুতেই তিনি যদি এসে ব্যবস্থা নিতেন, আমাদের ওপর এমন নির্মমভাবে হামলা করতে পারত না। আমরা এই দালাল দলকানা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বেই ডাকসুর ভিপি নুর ও তার সহযোগিদের ওপর হামলা হয়েছে দাবি করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রাশেদ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]