ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১

যেসব কর্ম জাহান্নামে নিতে পারে
মাওলানা মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ৩০.১২.২০১৯ ১২:২৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 469

মৃত্যুর পর মানুষ ফের জীবিত হবে পরকালে। পরকালে হাশরের মাঠে মানুষের চূড়ান্ত বিচার হবে। বিচারের ফলাফল অনুসারে সবাইকে দুই অংশে ভাগ করা হবে। এক অংশ হবে জান্নাতি। অন্য অংশ জাহান্নামি। (কিছু লোক অবশ্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আরাফ তথা জান্নাত-জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানেও অবস্থান করবে।) জান্নাতিরা অনন্তকাল আরাম-আয়েসে বসবাস করবেন। আর যারা জাহান্নামি হবে তাদের মধ্যে আবার দুই শ্রেণি থাকবে। এক শ্রেণি সেখানে চিরকাল দুঃখ-কষ্টে থাকবে। তারা হলো কাফের-মুশরিকরা। যারা দুনিয়াতে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে নাই বা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশিদার করেছে।

আরেক শ্রেণি জাহান্নামে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করবে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে জাহান্নাম থেকে  মুক্ত হয়ে জান্নাতে আসতে পারবে। তারা হলো ওইসব লোক যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান থাকা অবস্থায় মারা গেছে কিন্তু এমন কিছু কাজ করে গেছে যেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময় তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। এই শ্রেণির লোকদের সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরা হলো।

হারাম খাদ্য ভক্ষণকারী : পৃথিবীতে হালাল ও হারাম সব ধরনের জিনিসই রয়েছে। তবে বান্দার কর্তব্য সবসময় হালাল সন্ধান করা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা। হারাম জিনিস দ্বারা শরীর পূর্ণ করলে তা জান্নাতে যাবে না। কারণ জান্নাতে হারামের কোনো স্থান নেই। জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা লালিত-পালিত হয়েছে, তা (নির্ধারিত শাস্তি ভোগ না করা পর্যন্ত) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বায়হাকি : ৫৫২০)

অন্যের সম্পদ আত্মসাৎকারী : আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কসম করে কোনো মুসলমানের সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করে দেন এবং জান্নাত হারাম করেন। এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদিও সামান্য কোনো জিনিস হয়? তিনি বললেন, যদিও পিপুল গাছের একটি ছোট ডাল হোক না কেন।’ (মুসলিম : ১৯৬)

আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী : আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা জরুরি। অনেক সময় তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয়ে আত্মীয়দের ভেতর মনোমালিন্য হয়, এটা মোটেও কাম্য নয়। এর পরিণাম অনেক ভয়াবহ। হজরত জুবাইর বিন মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি (নির্ধারিত শাস্তি ভোগ না করা পর্যন্ত) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি : ৫৫২৫)

প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী : প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করতে বলে ইসলাম। কখনই তাদের মনে যেন কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অত্যাচার থেকে প্রতিবেশীরা নিরাপদ নয়, সে (নির্ধারিত শাস্তি ভোগ না করা পর্যন্ত) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম : ৬৬)

খোঁটাদানকারী ও মদপানকারী : দান করে দানগ্রহীতাকে খোঁটা দেওয়া বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, মা-বাবার সঙ্গে বেয়াদবি করা ও মদপান ইত্যাদি মানুষকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যায়। হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘উপকার করে খোঁটা দানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান, সর্বদা মদপানকারী এই তিন শ্রেণির মানুষ (নির্ধারিত শাস্তি ভোগ না করা পর্যন্ত) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (নাসায়ি : ৫৫৭৭)

গর্ব ও অহঙ্কারী : অহঙ্কার করার অধিকার কেবল আল্লাহর রয়েছে। কোনো মানুষ অহঙ্কার করতে পারে না। অহঙ্কারের পরিণাম অশুভ। হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম : ১৩১)

দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে ইলম অর্জনকারী : ইলম হচ্ছে আমলের উপায়। এটাকে পার্থিব স্বার্থে কখনই ব্যবহার না করা। যদি কোনো ব্যক্তি দুনিয়াবি স্বার্থে দ্বীনি ইলম শিক্ষা করে তবে তার পরিণাম জাহান্নাম। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ইলম দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয় সেই ইলম যে ব্যক্তি দুনিয়াবি কোনো স্বার্থ-সম্পদ হাসিলের উদ্দেশে শিক্ষা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।’ (আবু দাউদ : ৩১৭৯)

নবীজির নাফরমানকারী : হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার সব উম্মত জান্নাতে যাবে, কিন্তু সে ব্যক্তি নয়, যে (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করেছে। সাহাবিরা আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কে অস্বীকার করেছে? নবীজি বললেন, যে আমার আনুগত্য করে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানি করে, সে (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করেছে।’ (বুখারি : ৬৭৩৭)

ওয়ারিসকে বঞ্চিতকারী : কোনো ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ কীভাবে উত্তরসূরিদের মাঝে বণ্টন হবে কোরআনে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সবাইকে যার যার হক বুঝিয়ে দেওয়া শরীয়তের নির্দেশ। কাউকে ঠকানো বা কম দেওয়া খুবই নিন্দনীয় কাজ। কেউ এমন করলে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওয়ারিসকে তার প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের অংশ থেকে বঞ্চিত করবেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২৬৯৪)
লোক দেখানোর জন্য সৎ কাজকারী : আবু হুরাইরা (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম একজন শহীদকে ডাকা হবে।

অতঃপর একজন কারিকে। তারপর একজন দানশীল ব্যক্তিকে হাজির করা হবে। প্রত্যেককে তার কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অতঃপর শহীদকে বাহাদুর খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে জিহাদ করার অপরাধে, কারিকে বড় কারির খ্যাতি লাভের জন্য কেরাত শেখার অপরাধে এবং দানশীলকে বড় দাতা উপাধি লাভের নিয়তে দান-সদকা করার অপরাধে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম : ৩৫২৭)






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]