ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১

বাহক ধরা পড়লেও মূল হোতারা অধরা
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ৩১.১২.২০১৯ ১২:৪০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 68

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিমানবন্দরগুলোয় প্রায়ই ধরা পড়ছে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণের চালান।
তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে শনিবার সবচেয়ে বড় স্বর্ণের চোরাচালান ৬৪ কেজি ধরা পড়েছে। এসব চোরাচালানের সঙ্গে বড় বড় চক্র যেমন জড়িত তেমনি এয়ারলাইন্সের কর্মীরাও জড়িত। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে শুধু ‘বহনকারীরা’ ধরা পড়লেও সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে চোরাচালান চক্রের মূল হোতারা। বাংলাদেশ স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এমন মন্তব্য করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং ঢাকা কাস্টম হাউস সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, অনেক সময় বিমানবন্দর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বহু স্বর্ণ জব্দ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য হয়ে বিভিন্ন দেশ ঘুরে এসব স্বর্ণ এ দেশে আনা হলেও মূলত তা সীমান্ত পেরিয়ে চলে যাচ্ছে পাশের দেশগুলোয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের ব্যাপক চাহিদা ও শুল্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির নীতিমালার শিথিলতার সুযোগে উদ্বেগজনক হারে স্বর্ণ চোরাচালান চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে চোরাইপথে কমপক্ষে ২৮০ কেজি স্বর্ণ পাচার হয়েছে কলকাতার বড় বাজার এলাকায়। বাংলাদেশ থেকে এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচারের কারণ খুঁজতে গিয়ে সে দেশের গোয়েন্দারা জানতে পারেনÑ বাংলাদেশে ১ কেজি স্বণের দাম ২৭ লাখ টাকা যা ভারতের বাজারে ৩০ লাখ রুপি। একদিকে টাকা থেকে রুপির বিনিময় মূল্য বেশি, অন্যদিকে অঙ্কের হিসাবেও কেজিপ্রতি প্রায় ৩ লাখ রুপি লাভ থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট চোরাকারবারিরা।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের এক তথ্যে জানা যায়, দেশে বছরে ২০ থেকে ৪০ টন স্বর্ণ প্রয়োজন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই পূরণ হয় অবৈধভাবে আসা স্বর্ণ দিয়ে। দেশে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজারের মতো। তবে বৈধ ব্যবসায়ী মাত্র ৩২ হাজার। ঢাকা শহরে স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে লাইসেন্স আছে মাত্র ৮০৩ প্রতিষ্ঠানের। এত দিন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় প্রায় ৯০ ভাগ স্বর্ণ এসেছে অবৈধভাবে। তবে গত মার্চ মাসে স্বর্ণ আমদানির ডিলার নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদন আহŸান করে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালের জুন থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত শাহজালালে প্রায় সাড়ে ৬০০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের এক তথ্যে দেখা যায়, ২০১০ থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৫৭০ কেজির বেশি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে।
সূত্র জানায়, চোরাই হিসেবে আটক স্বর্ণ নিলামে বিক্রির বিধান থাকলেও মামলার আলামত হিসেবে আইনি বেড়াজালে আটকা থাকে বিপুল স্বর্ণ। যার কারণে কোন সমাধানে যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ ছাড়া যেসব স্বর্ণের বিপরীতে করা মামলার নিষ্পত্তি হয় এবং ভল্টে রাখা স্বর্ণ যদি আদালতের মাধ্যমে সরকারের অনুক‚লে জব্দ করা হয়Ñ সেসব স্বর্ণ নিলাম করা হয়। তবে যেসব স্বর্ণের বার ‘বিস্কুট’ আকারে আসে সেগুলো বিশুদ্ধ স্বর্ণ মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে রিজার্ভে দেখাতে ভল্টে রেখে দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরনো এক তথ্যে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে বিভিন্ন সময় চোরাইপথে আসা জব্দকৃত স্বর্ণের বার জমা রয়েছে ২ হাজার ১৩১ কেজি ৫৫৪ গ্রাম ৫৪০ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে আটক স্বর্ণালঙ্কারের মজুদের পরিমাণ ৮৪৫ কেজি ৮২৬ গ্রাম ৬৬৩ মিলিগ্রাম। এসব স্বর্ণের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়াধীন স্বর্ণের বারের পরিমাণ ২ হাজার ১১১ কেজি ৮০ গ্রাম ৮৪০ মিলিগ্রাম এবং স্বর্ণালঙ্কার ৮১৯ কেজি ২৮১ গ্রাম ১৯৩ মিলিগ্রাম।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্য অপরাধের মামলায় আসামিদের গ্রেফতার ও শাস্তির নজির থাকলেও স্বর্ণ চোরাচালানে এমন নজির খুবই কম। মাঝেমধ্যে স্বর্ণ বহনকারীদের আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হয় না। বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণ পাচারের অর্ধশতাধিক মামলা প্রায় ধামাচাপা পড়ে আছে। অধিকাংশ মামলারই অগ্রগতি শূন্যের কোটায়। কোনো কোনো মামলা ঝুলে আছে বছরের পর বছর। তদন্তের নামে বিভিন্ন সংস্থার হাতবদল হলেও শেষ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ায় যেতেই সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও কিছু রাজনীতিবিদ সিন্ডিকেট স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। যার কারণে মূল হোতারা চিহ্নিত হলেও তারা সব সময় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৬৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার : মামলা হলেও গ্রেফতার নেই
অন্যদিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার জব্দকৃত ৬৮ কেজি স্বর্ণ টেম্পার গøাস ও বিমানের যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আনা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলা হলেও রোববার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. সোলাইমান সাঈফ বলেন, আমদানি কার্গো থেকে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের ৬৪০ পিস (৬৪ কেজি) স্বর্ণবার জব্দ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভ‚ঁইয়া শনিবার রাতে বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টেম্পার গøাস-এয়ারক্রাফটের যন্ত্রাংশ হিসেবে সেগুলো আমদানি করা হয়েছিল। স্বর্ণগুলো ‘ফিউচার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’ এর নামে আমদানি করা হয়েছে। তবে যে দুই আমদানিকারকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তারাই প্রকৃত আমদানিকারক কি না সে বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, যে ৩টি বাক্সে স্বর্ণ ছিল সেগুলোর ৩টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ‘টেম্পার গøাস’ হিসেবে আর একটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ‘এয়ারক্রাফটের পার্টস’ হিসেবে। গত ৩-৪ বছরের মধ্যে এটিই স্বর্ণের সবচেয়ে বড় চালান।
আইজিপির উদ্দেশে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের যে সংস্থা ভালোভাবে তদন্ত করতে পারবে, তাদের দিয়েই যেন এখানে তদন্ত করা হয়। এর পেছনে যারাই জড়িত আছে তাদের না ধরলে এটা বন্ধ হবে না। ব্রিফিংকালে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার ও শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালকসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]