ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২

২০১৯ সালে মৃত্যু ১১৭৫ জনের
বাড়ছে কর্মস্থলে শ্রমিক মৃত্যুর হার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 142

কর্মস্থলে শ্রমিক মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। বিদায় নিতে যাওয়া ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ১১৭৫ জন শ্রমিক নিহত হয়। এর মধ্যে ১১৬৮ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি পরিবহন সেক্টরে ৫০৮ জন শ্রমিক নিহত হয়। এ ছাড়া নির্মাণ খাতে ১৩১,
কৃষিখাতে ১১৬, দিনমজুর ৮৫ জন, মৎস্য শ্রমিক ও মৎস্য খাতে ৬২ জন, বিদ্যুৎ খাতে ৩৫ জন, অভিবাসী শ্রমিক ২৯ জন, প্লাস্টিক কারখানায় ২৪ জন, ইটভাঁটা শ্রমিক ২৩ জন, জাহাজ ভাঙা শিল্প শ্রমিক ১৪ জন, প্রস্তুতকারক কারখানায় ১২ জন, তৈরি পোশাক শিল্পে ছয়জন এবং অন্যান্য খাতে ১৩০ জন শ্রমিক নিহত হয়। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৬৫৯ জন শ্রমিক আহত হয়। এর মধ্যে ৬৪২ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী শ্রমিক। উল্লেখ্য ২০১৮ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১০২০ জন শ্রমিক নিহত হয় এবং ৪৮২ জন শ্রমিক আহত হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের উদ্যোগে ‘শোভন কাজ ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বিলস সেমিনার হলে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিলসের উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের সংবাদপত্রসমূহে ২০১৯ সালে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি পোশাক শিল্পে শোভন কাজসহ অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে সংগঠিত দুর্ঘটনা, সহিংসতা ও শ্রম আন্দোলন পরিস্থিতি উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক মো. জাফরুল হাসান। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমিরুল হক আমিন, বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান, বিলস পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিলসের ডিসেন্ট ওয়ার্ক ডেস্ক অফিসার ফারিবা তাবাসসুম এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেন বিলসের উপপরিচালক (তথ্য) মো. ইউসুফ আল মামুন এবং ইন্টার্ন অফিসার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষক মৌসুমি নিশাত শিমুল।
বিলসের তথ্যে জানানো হয়, ২০১৯ সালে শ্রমিকদের ওপর ১২৮৫টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনে কর্মক্ষেত্রে ৩২৯ শ্রমিক নিহত হয়। এর মধ্যে ২৮১ জন পুরুষ এবং ৪৮ জন নারী শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি ৫৭৭ জন অভিবাসী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পে ১২৫, পরিবহনে ১১৫, মৎস্য খাত ও মৎস্য শ্রমিক ৭৮, ইটভাঁটা ৬৭, গৃহ শ্রমিক ৫১,
কৃষিখাতে ৪৯ জন শ্রমিক নিহত হন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নির্যাতনে ৭৬৪ জন শ্রমিকের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে ৪২৩টি আন্দোলনের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩১টি আন্দোলনের ঘটনা ঘটে তৈরি পোশাক শিল্পে। এ ছাড়া পাট শিল্পে ৬৩, পরিবহন সেক্টরে ৬১, গণমাধ্যমে ২৬, কৃষিখাতে ১৮, হকার ১৭, নৌযান ১৫, সিটি করপোরেশন ৯, ট্যানারি ৯ এবং অন্যান্য খাতে ৬৪টি আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য ২০১৮ সালে ৩৩৪টি আন্দোলনের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দাবি আদায়, অধিকার আদায়, বকেয়া বেতন এবং ভাতা আদায়, লেঅফ ইত্যাদি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ হয়, তৈরি পোশাক শিল্পে ২০১৯ সালে সহিংসতায় হতাহত হয়েছে ১২৫ জন শ্রমিক, যার মধ্যে পুরুষ ৩৯ জন এবং নারী ৮৬ জন এবং এর মধ্যে ৩৮ জন নিহত, ৭৫ জন আহত, পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছে সাতজন। এতে বলা হয়, শিল্প বিরোধের ঘটনা ঘটেছে ১৩১টি এবং এই ঘটনায় ১৮৮ জন শ্রমিক হতাহতের ঘটনা ঘটে যার মধ্যে একজন পুরুষ শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত ১৮৭ জনের মধ্যে ১২৪ জন পুরুষ এবং ৬৩ জন নারী শ্রমিক। আরও উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারিতে নতুন মজুরি কাঠামোতে থাকা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পোশাক শিল্পে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। সাভার-আশুলিয়া এলাকার প্রায় ৫ হাজার ৮৪৫ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় যাদের মধ্যে নারী শ্রমিকও ছিল। চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের নাম অনলাইনে দিয়ে দেওয়ার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অন্য কোনো পোশাক কারখানায় কাজ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যায়।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, পোশাক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এবং টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি, জীবন ধারণের পরিবেশ, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও পরিবেশ, শ্রমিকের মর্যাদা এবং শোভন কাজ নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, গার্মেন্টসের সাব কন্ট্রাক্ট কারখানার শ্রমিকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। অনেক কারখানার অবকাঠামোগত পরিবর্তন হলেও ভেতরের কাজের পরিবেশের পরিবর্তন অনেকাংশে অপরিবর্তনীয়।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com