ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২

ব্রাহ্ম স্কুল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 528

উপমহাদেশে প্রথম দিকের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সে সময় শুরু হয়েছিল জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়। ১৬১ বছর আগে রাজা রামমোহন রায়ের ব্রাহ্ম সমাজের জন্য ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়। জগন্নাথ কলেজ এই নামেই বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে পরিচিত ছিল ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। ১৮৭২ সালে বালিয়াটির জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়। এ সময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ডিগ্রির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গ্রন্থাগারের বই-পুস্তক, জার্নাল ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করে। জগন্নাথ কলেজে আইএ, আইএসসি, বিএ (পাস) শ্রেণি ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু করা হলেও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয় জগন্নাথকে।
পুরনো ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবার এ কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ রফিকউদ্দিন (ভাষা শহীদ রফিক) আত্মত্যাগ করেন । ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় কো-এডুকেশন চালু করেন। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ কলেজের প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালে কলেজে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প ছিল। স্বাধীনতার পর ক্যাম্পাস থেকে একাধিক গণকবর আবিষ্কৃত হয়। শহীদদের স্মরণে বিশ^বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি’।
২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত ‘জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় আইন’ (২৮নং আইন) বলে কলেজটি জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। পূর্বতন জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সনদ লাভ করে। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ^বিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম খান। বিশ^বিদ্যালয়টি ১১.১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ^বিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগ এবং দুটি ইনস্টিটিউটে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয় ক্যাম্পাস।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]