ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৪ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০

জাবির ৫০ বছর
বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত
জাকির হোসেন জীবন, জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০, ৫:১১ পিএম আপডেট: ১২.০১.২০২০ ৫:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 94

ছবি সময়ের আলো

ছবি সময়ের আলো

দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ' ১২জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর পেরিয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে। রোববার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০ টায় আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে এক বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়।

এরপর বেলা সাড়ে এগারোটায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বেলা আড়াইটায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য প্রদর্শনী, বিকেল পাঁচটায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যে সাতটায় ‘নকশীকাঁথা ব্যান্ডের’ সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

প্রসঙ্গত, তৎকালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে উচ্চা শিক্ষার প্রয়োজন মিটাতে জনগনের দাবির মুখে ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন সরকার এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার পূর্ব নাম জাহাঙ্গীরনগরের সঙ্গে মিলিয়ে ঢাকার অদূরে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর রিয়ার আ্যাডমিরাল এস এম আহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

" style=

পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়। তবে ২০০০ সাল থেকে এ দিনটিকে ‘ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মুক্তিযুদ্ধের পরে পুরোদমে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ক্রমে বিভাগের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের প্রথম নৃবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রথম ব্যাচে ৪ টি বিভাগে ১৫০ জন ছাত্র  নিয়ে চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বর্তমানে ৩৪ টি বিভাগ ও ৩ টি ইনস্টিটিউটে সর্বমোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, প্রখ্যাত অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, লেখক হায়াত্‍ মামুদ, লেখক হুমায়ুন আজাদ, নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি মোহাম্মদ রফিক, অধ্যাপক মুস্তাফা নূরুল ইসলাম, আবু রুশদ মতিনউদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ইতিহাসবিদ বজলুর রহমান খান, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আনু মুহাম্মদ প্রমুখ।

১৯৭০  সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত কবি সৈয়দ আলী আহাসান, লোকসাহিত্যবিদ মজহারুল ইসলাম, লেখক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আ ফ ম কামাল উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েস, আলাউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন,  ড. শরীফ এনামুল কবির,  অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

বাংলাদেশের স্বায়ত্বশাসিত প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছাত্রসংখ্যায় এটি ক্ষুদ্রতম। কিন্তু বিভিন্ন জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। এরশাদ সরকারের আমলে শিক্ষা আন্দোলন ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৮ সালে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মানিক ও তার সঙ্গীরা সাধারণ  শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হয়। এই আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন বলে পরিচিত। এছাড়া বিভিন্ন সময় বেতন ও ডাইনিং চার্জ বৃদ্ধি বন্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ  বিভিন্ন দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো কে আন্দোলন করতে দেখা যায়।

বিদ্যায়তনিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড উল্লেখযোগ্য। মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এছাড়া উয়ারী ও বটেশ্বরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননকার্য, দেশীয় নাট্যচর্চায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অবদান, বিদ্যায়তনিক নৃবিজ্ঞান চর্চায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের পথপ্রদর্শন সুবিদিত।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]