ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৪ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০

‌‘ভেদাভেদ ভুলে আমাদের সম-মানুষ হওয়া প্রয়োজন’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২০, ৭:৪৭ পিএম আপডেট: ১৩.০১.২০২০ ৮:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 67

ছবি সময়ের আলো

ছবি সময়ের আলো

সমাজে কিছু মানুষ পিছিয়ে আছে, কেউ পিছিয়ে থাকে আবার কাউকে পিছিয়ে রাখা হয়। যে সমাজপদ্ধতির দ্বারা মানুষকে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। সেই লক্ষ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেককে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘এডাব’ আয়োজিত সম-নাগরিকত্ব শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন তিনি। এডাব চেয়ারপারসন জয়ন্ত অধিকারীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডাব পরিচালক একেএম জসীম উদ্দিন।

খলীকুজ্জমান বলেন, হরিজন সম্প্রদায়, দলিত শ্রেনী, তৃতীয় লিঙ্গ, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠি ও উচু-নিচু শ্রেনীর যে ভেদাভেদ সমাজে বিদ্যমান তার থেকে আমাদের উত্তরণ প্রয়োজন। এখন আমাদের সম-মানুষ হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের সংবিধান, স্বাধীনতার ষোষণাপত্র, আওয়ামীলীগ দলীয় নীতি সহ বর্তমান সরকারের ২০০৮, ২০১৫ এর নির্বাচনী ইশতেহারে সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ, কল্যাণ রাষ্ট্র, অসম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, গণতান্দ্রিক দেশ গঠনের কথা বলা হয়েছে। বৈষম্য দূরীকরণে সরকার নানা সিদ্ধান্ত নিলেও বিভিন্ন কারনে তার বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হয় না, অনেক সময় তা আলোর মুখ দেখে না।

ছবি সময়ের আলো

ছবি সময়ের আলো

তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক পর্যায়ে বাস্তবায়নে গাফিলতি হলে তার জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সমস্যার কথা সম্মিলিতভাবে বলতে হবে ও যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে।

বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, ধর্মের নামে সমাজে নারীদের দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। কিছু মানুষ নারীর সম্পত্তিতে সম অধিকারের বেলায় ধর্মের দোহাই দিয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, পরলোকের বিষয় নির্ধারণ করবেন সৃষ্টিকর্তা, রাষ্ট্রের সেবিষয়ে ভাবার প্রয়োজন নাই। শুধু বাংলাদেশে নয় বরং পৃথিবীব্যাপী এক ধরণের অসমতা ও সুপ্রিমেসি বিরাজ করছে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই দৃষ্টিভঙ্গি ও অসমতা দূর করতে হবে।

কালচারাল এন্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বাঁধন আরেং বলেন , দেশে বসবাসরত বিভিন্ন পাহাড়ী জাতির ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষা করা জরুরী। কিছু পাহাড়ী ভাষায় বই লেখা হলেও তা পাঠদানের জন্য কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যায়নি। এসব বিষয়গুলোর সমাধান না হলে সম-নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।

এডাব এর সাবেক ভাইস-চেয়ারপারসন মাজেদা শওকত আলী বলেন, এখনও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হয়নি; কাজেই আমাদের আরো অনেক কাজ করতে হবে।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহন করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দলিত নারী ফোরামের সভাপতি মণিরানী, বাংলাদেশ দলিত নারী ফোরামের সদস্য-সচিব তামান্না সিং বাড়াইক, ইনষ্টিটিউট অব এনভায়রণমেন্ট ডেভেলপমেন্টের (আইইডি) প্রতিনিধি হরেন্দ্রনাথ নাথ সিংহ, সচেতন হিজড়া সংঘের সভাপতি ইভান আহমেদ কথা, হরিজন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পান্নালাল বাঁশফোর, হরিজন ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি গজন লাল, এডাব নারায়নগঞ্জ জেলাশাখার সভাপতি প্রদিপ কুমার দাস, এডাব ঢাকা মহানগরের সদস্য-সচিব কাজী বেবী।

বৈঠকে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলকে একসাথে কাজ করার জন্য আহবান জানানো হয়।


 




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]