ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৪ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০

মুজিব শতবর্ষ হবে বিদ্যুতের সেবা বর্ষ
ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগকে স্বাগত
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৬.০১.২০২০ ১১:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 7

আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি অপরিহার্য সেবাব্যবস্থা। শুধু ঘরবাড়ি আলোকিত করার জন্যই নয়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া শিল্প, কৃষি, সেবামূলক উৎপাদনসহ সব ধরনের উন্নয়নই স্থবির হয়ে যায়। পৃথিবীতে যেসব দেশ উন্নতিসাধন করেছে তারা এ জন্য সবার আগে গুরুত্ব দিয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে। এ খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার ফলেই তাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছে। বিদ্যুতের অপরিহার্যতা সম্পর্কে সচেতন বর্তমান সরকার। আওয়ামী লীগ বর্তমানে টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছে।
২০০৯ সালে প্রথমবার যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন দেশে ছিল তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কট। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজর দেন দেশের বিদ্যুৎ খাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়। চলতি বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং আগামী বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। এ উপলক্ষে সরকার গ্রহণ করেছে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা। সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় মুজিব শতবর্ষকে বিদ্যুতের সেবা বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। সময়ের আলোর প্রতিবেদন বলছে, এরই ধারাবাহিকতায় গ্রাহকসেবায় ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবার উত্তরবঙ্গের ৫ লাখ গ্রাহককে স্মার্ট প্রি-পেইড কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালের মধ্যেই ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত হবে এসব গ্রাহকের। চায়না কোম্পানি সেনজেন স্টার এবং বাংলাদেশের কোম্পানি অকুলিন টেক এ লক্ষ্যে ৪১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প স্বাক্ষর করেছে। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎসেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগোল। ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।
বর্তমান সরকারের হাত ধরে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা একশ ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। কয়লা, গ্যাস, তেল, ডুয়েল ফুয়েলের পাশাপাশি চলছে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ। সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। আর বর্তমানে তা ২৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। মাত্র দশ বছরে এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে সরকারের একটি বিরল অর্জন, বড় সাফল্য। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় একদিকে যেমন বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন তেমনিভাবে গ্রাহককে আধুনিক সেবা প্রদানের দিকটিও সামনে আসছে।
একসময় বিদ্যুতের অভাবে স্থবির হয়ে ছিল আমাদের উন্নয়ন। বিদ্যুতের অভাবে আমাদের শিল্প-কারখানা পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারত না। বর্তমানে সে অবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। মানুষ এখন নিরবছিন্ন বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে লোকসান কমানোরও উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বিদ্যুৎ চুরি এবং সিস্টেম লস কমানোর জন্যই স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার। প্রি-পেইড বা স্মার্ট এই মিটার সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। এই মিটার ব্যবহারে যেমন গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় তেমনি রোধ হয় অযাচিত দুর্ঘটনাও।
সঠিক ও পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বিলও তুলনামূলকভাবে কম হয়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ লাখ গ্রাহককে স্মার্ট মিটার দেওয়ার যে উদ্যোগ তাতে করে বিদ্যুতের অপচয় ও সিস্টেম লস কমবে এবং গ্রাহকরাও সাশ্রয়ী হবে। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার যে উদ্যোগÑ আমরা তাকে স্বাগত জানাই। সঙ্গে এও মনে করি, মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগের সেবার মানও বাড়বে। ইতঃপূর্বে প্রি-পেইড গ্রাহকদের ভুয়া বিলের হয়রানির যে অভিযোগ ছিল, নতুন গ্রাহকরা এ থেকে মুক্ত থাকবে। তাদের সব ভোগান্তি দূর হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতের শৃঙ্খলা আরও জোরদার করতে সরকারকে কঠোর হতে হবে। গ্রাহক ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ কোনোভাবেই যেন ভেস্তে না যায়, সেদিকেও সজাগ থাকতে হবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]