ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৪ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০

কবিতা সংখ্যা  ১৮ কবির স্বকণ্ঠে কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

আমার ভেতরে তোমার বাস
রবীন্দ্রনাথ অধিকারী

আমার ভেতরে তোমার বাস সহবাস
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ প্রতিটি প্রহর, নির্ঝর
আমি যেনো সোনালি মর্গে চন্দন শোভিত অপচন লাশ,
আমদীঘি পাড়ে শ^াসহীন দাঁড়িয়ে থাকা মৃত্যুর ঘর;

তুমি আমার খেলাঘর আমৃত্যু হৃদ্যমান খেলার সাথী
ঘোর অমানিশার জ্যোৎস্নাহীন অবারিত রাতে
মৃত্যুময় স্রোতে তুমি অসম্ভবের অপরাগ বাতি
দেখা হয়, আবার দেখা হয় না কোনোদিন তোমার সাথে;

তুমি প্রিয়ংবদা, বলো, যতো গল্পকথা, প্রিয়কথা
বাতাসের সাথে অনিবার্ণ সূর্য-শিখার সাথে
আমি সব কথা শুনি নীরবে প্রতিবন্ধী শ্রোতার মত যথা অযথা
শুধু শুনি না তোমার গৃহীত গান সুধাময় নির্মল প্রাতে

সুতোর মতো সখ্যভাব প্রীতি-স্মৃতি ভালোবাসা তোমার জন্যে
আমাকে তুমি ডেকে যাও বারবার লুকিয়ে থাকা গহীন গভীর অরণ্যে।





সব বাড়ি ভুলে ছিলো
সোহরাব পাশা

তখন মৃত্যুর কোনো দীর্ঘ গল্প খোঁজেনি জীবন,

জংধরা কুটিল সময় পাখিদের তবু ছিলো
ফেরার গন্তব্য পত্রপল্লবের তাঁবু,

মানুষের আকাশ ছিলো না। পাথর নৈঃশব্দ্য চোখে
ওড়াউড়ির উজ্জ্বল উচ্ছ¡াস ছিলো না

একদিন পাতার আগুনে বৃক্ষছায়াও পুড়ে গেলো,
মেঘে ছিলো না বৃষ্টির কোলাজ, আগুনে ভেজার শব্দ
অবাধ সাঁতার ভুলে ছিলো সব নদী;

সব বাড়ি ভুলে ছিলো মানুষের ছায়া
ছায়ার নিবিড় দ্যুতি আর
চুম্বনের কোলাহল;

তবু কারো সোনার আঙুলে রাত্রির গোপনে ছিলো
গোলাপ ফোটানো ভোর, শাণিত রোদ্দুর গাঢ় তীব্র
অসামান্য সবুজ সুন্দর
অনেক রাত্রির শেষে ভোরের আকাশে
শুরু হলো রোদ্দুর ডানার প্রিয় গল্প




তৃষ্ণা আছে বলেই হেঁটে যাচ্ছি
বীরেন মুখার্জী

তৃষ্ণা আছে বলে হেঁটে যেতে হয় সরলরেখায়
সর্পিল কিংবা কণ্টকময় পথে কখনও
রাগী রোদ্দুর মাথায় নিয়ে ডুবে যেতে হয়
আত্মউদ্ধারে;
কড়া লিকারের চায়ের মতো নেশা জাগানো
বিকেলের রোদ্দুর সন্ধ্যার গায়ে ভেঙে পড়লেও
তাকিয়ে থাকতে হয় বিমোহিত দর্শক হয়ে
মায়াময় চোখের গভীরে।

এভাবে যাবতীয় সংস্কার উজিয়ে যারা পাঠ করেছে
প্রাচ্য-প্রতীচ্যের রহস্যময় মিথ একদিন;
সৌন্দর্যের বর্ণনায় প্রতœ-ইতিহাসের সঘন রহস্যে
ভরে তুলেছে যারা হৃদয়ের ফসিলÑ মহান তারা।

দেখো, যাবতীয় চঞ্চলতা সরিয়ে
   নিবিষ্ট হয়েছি পথে,
আর এই বিদগ্ধ ভ‚মিতলে জেগে উঠেছে ফের
জলের নহবত। বর্ষণমুখর রাতের বিভ্রমে
খুঁজে ফিরছি কেবলি মহুয়া মদ...

তৃষ্ণা আছে বলেই হেঁটে যাচ্ছি নিরন্তরÑ



পাখি মানুষের আরেক নাম
রহমান মুজিব

শিশিরে কিংবা কংক্রিটেÑ একটাই জীবনÑ ভাঙা আয়না
মেঘের আকাশে মেঘ, ভাঙনে দিনহীন দিনের ভ‚গোল

দূরগামী জাহাজের সাইরেনে যখন শোনা যায়
ব্যবচ্ছেদের সংগীত তখন নদী ডুবে যায় নদীতে
বেপরোয়া মানুষ আগুনে বুনন করে জ্যোৎস্না মুদ্রণ
আর এইসব ভাঙনের দিনে তার কররেখায় বেজে ওঠে
অনুগামী স্বপ্নের নামতা

মূলত পাখি মানুষের আরেক পৃথিবী, আরেক নাম
জন্মান্তর বুকে তার ইচ্ছের লিরিক্স, ওড়ার সংবিধান





বীভৎসতা ভোলা নির্মম বিবেক
রাহমান হাবিব

পরাধীনতার শেষ সূর্যটি কেমন ছিলো
হয়তো আজ আর কেউ তা জানে না

একটি ভ‚খÐকে কেড়ে নিতে
একটি মাতৃভাষার চিৎকার মুছে দিতে
কতো লক্ষ বুলেট বরাদ্দ পেয়েছিলো
কতো লাখ শ্লোগানের বুক ঝাঁজরা হয়েছিলো
কতো কতো প্রাণ মিশে গিয়েছিলো বধ্যভ‚মির মাটিতে
হয়তো আজ আর কেউ তা মনে রাখে না

মনে থাকে না আমার মায়ের ছেঁড়া কাপড়
কাপড় ধরে শকুনের উল্লাস
মনে থাকে না, সেদিন কতোটা কেঁদেছিলো শহীদের প্রিয়তমা
কতোটা শোকে-অনাহারে মৃত্যু হয়েছিলো জননীর

জাতির পিতার দরাজকণ্ঠ বরাবর অস্ত্র ধরেছিলো কারা,
কোন সে বিশ্বাসঘাতকেরা মেতে উঠেছিলো তাঁর বংশ নিধনে...

বীভৎসতা ভোলা কোন সে নির্মম বিবেকে আজ
ডুবে যেতে চায় আমাদের সংগ্রামী আঙিনা!




জ্যোৎস্না মুদ্রিত নারী
মাহফুজুর রহমান সৌরভ

বর্ণিলপ্রভায় সোনারঙ বিকেল শেষে
রাতের অবাধ্য জ্যোৎস্নাকে রেখে দিলাম
তোমার খোলা জানালার বাহুতে
পৃথিবীর দীর্ঘ উড়াল শেষে
ক্ষীণ আলোয় একটি জোনাকি পোকা
তোমার কামিজের অন্ধ ছায়াপথে ভুল ভ্রমণ!
আঙুলের মিহিন স্পর্শে পতঙ্গপ্রাণ ফিরে দিয়ে
অবশেষে লজ্জারাঙা মায়াবী নোঙর।

তোমার হাসির তরজমায়
ভোর হয় সূর্য হাসে
মুদ্রিত আলো রেখায় মন্ত্রমুগ্ধ হয় সোনার সংসার
দার্শনিক ভাবনায় আমি হেঁটে যাই
জ্যোৎস্না মুদ্রিত নারী আর আলোর মাখামাখি।





ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
জাহিদ আল হাসান

আসলে আপনি একটি শিশু খুঁজছিলেন।
এবং তাকে পেয়ে গেলেন।
ছয়মাস বয়সে তাকে হামাগুড়ি শেখালে সে
আপনার কাছে হাঁটতে শেখার আবদার করলো।

আপনি বললেন,
‘আমার ছাপহীন শরীরের প্রতিটি ভাঁজ তোমার হাঁটি হাঁটি পথ।’
একথা শুনে সে আপনার পা থেকে হাঁটা শুরু করলো।
হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে হাঁটতে
এক সময় আপনি দেখলেন শিশুটি আপনার মাথায় উঠে ডুগডুগি বাজাচ্ছে।

এটা দেখে আপনি বিরক্ত হলে সে বললো,
‘তোমার ছাপহীন শরীরের প্রতিটি ভাঁজ আমার হাঁটি হাঁটি পথ।’




মাঝির মুঠোয় নদী
কামাল আহসান

নোঙর ফেলেছে যে মাঝি সেও কি জানে গভীরতা?
শুধু জানে চরটা দখলে তার, বহুবার হয়েছিলো হাঁটা,
পা ফেলে দেখেছে পলিদের সরল গড়নÑ নজরের দম;
মলাটে বাঁধানো তরুণীর বই, ভেতরে স্বাচ্ছন্দ্য, মনোরম।

চুড়ির শব্দরা কতবার এসেছিলো কানে, ফিরে গেছে
গ্রাম ঘেঁষে যেতে যেতে নদীপথ বেয়েÑ গুণটানা রাতে;
পরোয়া হয়নি ঝুমকার ঝনঝনানি,
             বঁধুয়ার বিরহে যা নাচে।

এমন রাতের শুরু কতো গেছে নির্জন পদ্মার পাড়ে,
ভরা জোছনায় কতবার পড়েছে নজরেÑ
ফরযগোসল যাকে বলেÑ স্বামী আর স্ত্রীতে শেষরাতে।

কতো যুবতীর জানালারা ছিলো খোলা রাতভর,
কতোই রঙিন বাতাসে দুলেছে প্রিন্টহীন পর্দারা সব;
নির্ঘুম রাতেরা এসে চাতকের মতো তাকাতো মাঝির দিকে;
Ñ ঘুম বুঝি এ মাঝির নৌকা সবটুকু নিয়ে যায়!
অচেনা-অজানা সুদূরের কোন নগরে অথবা কোন গাঁয়।

কেউ তো ডাকেনি, ও মাঝি রাতের ছায়ায় চলে আয়!
সূর্যের থেকেও চাঁদের ছোঁয়ারা আসে গভীর মায়ায়Ñ
চোখজুড়ে জেগে থাকে সুখ, প্রণয়ের ভোর দেখা যায়।

কেউ তো বলেনি আজো বুকের মলাট খুলে, মাঝি আয়!
সাদাজলে ছড়াই জমিন আর রাতভর চাষ করি নদী,
পুরুষের চরজুড়ে ফলাই ফলন চাঁদঘুমে, খুব নিরালায়।


কর্পোরেট ভালোবাসা
তানভীর জাহান চৌধুরী

কতদিন ভেবে ভেবে সন্ধ্যা নামালাম
তবুও ভাবনায় তোমাকে না পেলাম
পরিবেশবাদীর মতো পৃথিবীর উষ্ণতা বোঝো
প্রেমিকের মতো হৃদয়ের উষ্ণতা বোঝো না
বকুলতলায় বসে পুকুরের স্থিরজল দেখো
জলের ভেতরের অস্থির জল দেখো না
যে পাখি ডানা রোদ্দুরে পোড়ে
তার জন্য পোড়ো না
যে প্রেম স্বেচ্ছায় ভেড়ে
তার জন্য তোমার মন ভেড়ে না
তাহলে তুমি কার জন্য পোড়ো কার জন্যই বা ভেড়ো
এক জনম ভালোবেসেও তোমাকে বুঝতে পারি না।

কত রাত কতভাবে গেলো
কত মানুষ এলো গেলো
কত আপথ পথ হয়ে গেলো
তবুও ভালোবেসে জীবন ভালোবাসা না পেলো।

একটা সময় ভালোবাসা ছিলো
চিংন্নি মেলায় তোমার জন্য রেশমি চুড়ি কেনা
রাতের উঠোনে গারো মেয়ের বাংলা গান শোনা
মধ্যরাতে চাঁদের বুড়িও হৃদয়ে তুলত বীণা
বাতাসের সাথে মিশে জোসনা
ভালোবাসার সীমানায় করতো আনাগোনা।

এত কিছুর পরেও তুমি আমার হলে না
ভেতরে ভেতরে বেড়ে ওঠে দারুণ যন্ত্রণা
সব মহলে প্রশ্ন ওঠে এখন ভালোবাসা কর্পোরেট কি না?




কবি
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী

অবশেষে মৃত্যুর মতোন হিম-শীতল চাদর জড়িয়ে
কবিতা লেখক হয়ে উঠলেন কবি।
সমুদ্র মন্থনে উদগীরিত বিষ!
যেভাবে ভক্ষণ করে নীলকণ্ঠ হয়েছিলেন শিব।



একজোড়া শহর
মাহফুজা অনন্যা

পৃথিবী রোদের ডালি কাঁধে নিয়ে উলুধ্বনি দিতে দিতে সকাল বউয়ের পায়ে এসে লুটিয়ে পড়ে রোদ পোহানোর বেলায় হুড খোলা রিকশায় খুব সংযত হয়ে বসার পরও ইচ্ছের অনবদ্য উষ্ণীয় সম্ভাষার বিপুল স্বাধীনতায় আমরা নিজেদেরকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিলাম, এখনও চোখ বুজে অনুবাদ করি সে স্বাধীনতা আর একবার স্বাধীন হওয়ার জন্য এখনও কাতর এ মন...
শীতের বাতাস ছুটে আসে বেগে, খুব কাছ থেকে ছুটে আসে একটি চেনা গন্ধ সদর দরজা পেরিয়ে পৌঁছে যায় ইন্দ্রিয়ের ছোট ছোট ঘরে, গন্ধ কিংবা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের পাঠ নেওয়ার জন্য আজও হৃদয়ে তোলপাড়, কী ভীষণ আয়োজন... রোদ উদযাপনের প্রথম প্রহরে আমাদের দুটি শহর অজান্তেই খুঁজেছিল একজোড়া ‘কামার্ত নগরের কামিজ’ ও তার নৈবেদ্যতা যার মায়া আজও পিছু টানে সারাক্ষণ...


সম্পর্ক
মহিউদ্দিন সরকার

চোখের জল ও আকাশের সম্পর্ক ছিল
বৃষ্টি সে অমীমাংসিত যোগসূত্রকে প্রকাশ করে,
আজকাল সম্পর্কের টানাপোড়েনে বৃষ্টিপাত ও অশ্রæপাত
পারমাণবিক চোখ নিয়ে গবেষণায় মাতে,
ইতিহাসের বিবর্তনে কান্নার শুরু ও শেষ নিয়ে
গ্রহ ও উপগ্রহগুলোও বলতে থাকে,
কান্না আজ পথে পথে উৎসবের মিছিলে;
কান্না আজ পালতোলা নাবিকের নায়ে নায়ে;
কান্না আজ প্রতিটি ঘরে ঘরে ভাত রান্নার
মাটির পাতিলে ফেনা তুলে;
মানুষের চোখ ক্রমাগত ঠোকরাচ্ছে কাক ও শকুন;
আর কান্না সে তো এক অচিন পাখি
আকাশ ও বৃষ্টিই তার শেষ সীমানা।


ঝুরঝুরে মাটির শরীরে
আদ্যনাথ ঘোষ

তোমার দীঘল চুলের বেণীতে রক্তজবা গুঁজে দেব ব’লে
রোদমাখা এক বুক তরতাজা রক্তের পোশাকে
পৃথিবীর পিঠ থেকে এক মুঠি নকশা তুলে
জীবনের সাথে জীবন মিশিয়ে
মায়ের কোল থেকে আদরের ¯œানঘরে
দিয়েছি আলোয় ভরা মন, নিমগ্ন ভালোবাসা,
প্রেমের ডাংগুলি মাঠ,
মমতার আকাশ, সবুজের খেতে-মাঠে
উষ্ণতার পরশ। এইসব প্রাণের শাপলা-শালুক
সবুজের সাথে রক্ত লালের দরদিয়া হাসি
অতসব ঝিকিমিকি আকাশের তারা, সূর্যের ঝলমল হাসি
অবাক বিস্ময়ে দেখতে দেখতে নতুন শস্য আর
নরম সকালের পথের ঠিকানায়
জ্বলজ্বল ক’রে জেগে আছি ঝুরঝুরে মাটির শরীরে।


ভেসে যাওয়ার উপাখ্যান
অদ্বৈত মারুত

তারপর কুটোগুলো ভাসতে থাকে
ভেসে যায় ঢেউয়ের ধাপে ধাপে
আলগা হতে থাকে কোমরের গিঁট।
কোষগুলো খসে যায়Ñ খসে যায়
ছিন্ন লাশের মতো ধীরে ধীরে
ভাসতে থাকে; ভেসে যায়Ñ
গাইয়ের বাটনের মতো লম্বা হয়ে।

পালকিতে নবপরিণীতা যায় গাঁয়ে
যেতে থাকে আট বেয়ারার কাঁধে।
বেয়ারা ওঠানামা করেÑ সঙ্গে সেও;
যেমন বাজারের মুদ্রাদর ওঠানামা করে
যেমন মাঝে মধ্যে সর্পিণী খামচে ধরে সাপের মুখ!

রাত বেড়ে যায়, বাড়তে থাকে আরও
গহিন অন্ধকারে বাড়ে পাখিদের নীরবতা
শিরীষ পাতা টুপ করে খসে যায়
জমাট বাঁধে ঘন অন্ধকারেÑ কুয়াশায়।
তারপর কুÐলী পাকেÑ পাক খেতে থাকে।
খেতে খেতে ভেসে যায়Ñ ভাসতে থাকে...
ভাসতে ভাসতে যেতে থাকে গহিন অন্ধকারে



প্রেমিক
রুমা পÐিত

রাতের প্রহরে গাছেদের কান্না,গাঁথা থাকে চুপিসারে
ওহে করাতি কতবা দাম তুমি দিতে পারো প্রহরের
কতটা ঘাম দেবে মাটিকে, মাটি যদি খোঁজে আরো জল?
কতবার পেয়েছো নিজেকে, দুপুরের মায়াবী নিঝুমে?
মনখারাপ রেখে গেছো ফুলে, ঝরা পাতা নিয়েছে আগুন।
তুমিও তৈরি ওহে করাতি, রেখে যাও কুঠারের ধার
ঝরে যাক ফোঁটা ফোঁটা রক্ত, ছেঁড়া ফুল পাতার নজরানা।

পাতাতে লেখা আমার হাসি, বুকে নিয়ে মরে গেছে গাছ
তাকে শীতের রাতে পুড়িয়ে, মেখেছি আরামের উষ্ণতা
তুমিও অনুসরণ করো, আমার নির্মম পদক্ষেপ
এসো হেঁটে যাই অনায়াসে, প্রেমিকের বুকের ওপর।

আমি শুধু তোমাকেই চাই
শারমিন সুলতানা রীনা

শুষ্ক মাটি চায় জলের নির্ভরতা
তাতানো শরীর চায় শীতল ছায়া
ধূসর প্রকৃতি চায় বৃক্ষের সান্নিধ্যে

আমি শুধু চেয়েছি, তোমার নিঃশ^াস

ফুল চায় সুবাস, পাখি চায় গান
মরু চায় প্লাবিত ধারা

আমি শুধু তোমাকেই চাই

স্বর্গ নরক বলে চিনি না কিছু
প্রথম ও শেষ বেলা জানি না তাও

রাতের চাঁদ চায় আলোর জ্যোতি
কাঁপানো শীত চায় রোদের প্রলয়

আমি শুধু তোমাকেই চাই

ভুলের শুদ্ধতায় আজো অজ্ঞান অবলা
অন্তহীন নক্ষত্রের অনন্ত জীবন।





আড়াল
অনু ইসলাম

প্রতিদিন আড়াল হচ্ছে যাপনের সৌন্দর্য

বিন্দু বিন্দু করে গড়ে তোলা যে জীবন
নক্ষত্রপতনের মতো নতজানু হয়ে ঝরে পড়ে!
পৃথিবীর পাতায় স্মৃতিও মুছে যায়
থাকে শুধু অন্ধকার; নতুন আলোর অধিক

যে চোখে সবুজের সংকেত আঁকা ছিলো
সে চোখও কখনো কখনো ধূসর হয়ে ওঠে
বাঁকা চাহনি ঘিরে থাকে জীবন সমগ্র
মূলত, সংসারও এক মায়া!
একা কিংবা যৌথযাপন সেও

মানুষ মূলত একাই হতে চায় সংগোপনে
বাকিটা রঙধনু!

রঙধনুও মুছে যায়Ñ




বন্ধু ইঁদুর
দীপংকর দীপক

ইঁদুর মানুষের শত্রæ
    কথাটা কতটুকু সত্য?
        তাহলে আমরা কী মানুষ নই?
জিজ্ঞাসা এক ধান কুড়ানি মেয়েরÑ

হ্যাঁ, আমরা মানুষ নইÑ
আমাদের ঘর নেই, জমি নেই
খাওয়া-পরার অধিকার নেই
আশা-বাঁচার স্বপ্ন নেই
    বলুন, তবে ক্যামনে মানুষ?

রাষ্ট্র, আমাদের কী দেবে? কী দিয়েছে?

এত বড় দেশ, এত এত জমি
এত এত খাবার, এত টাকা-কড়ি
কী পেয়েছি মোরা?

হ্যাঁ, পেয়েছি শুধু পরিচয়পত্র
তা ধুয়ে কি জল খাব?
বলুন, সবে!

আমি আবার বলছিÑ শুনুন, ধানক্ষেতে বিষ দেওয়া যাবে না
             পাতা যাবে না ফাঁদ
ইঁদুর আপনাদের শত্রæ হতে পারে; কিন্তু আমাদের বন্ধু বটে

তাই কথার অন্যথা হলে, আমরা সত্যিকারের ‘অমানুষ’ হয়ে উঠব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]