ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৯ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ইসলামে ভোটপ্রার্থীর গুণাবলি
মাওলানা মুনীরুল ইসলাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.০১.২০২০ ১২:৩৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 114


জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে যিনি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পদপ্রার্থী হন, তিনি যেন পুরো জাতির সামনে দুটি দাবি নিয়ে হাজির হন। প্রথমত যে কাজের জন্য তিনি পদপ্রার্থী হয়েছেন, নিজেকে তিনি সে কাজের পুরোপুরি যোগ্য বলে মনে করেন। দ্বিতীয়ত তিনি সম্পূর্র্ণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করবেন বলে ওয়াদা করেন। সুতরাং প্রকৃতই যদি তার এই দাবিতে সত্যবাদী হন, তার মধ্যে যদি যোগ্যতা থাকে এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জাতির সেবা করার প্রেরণা নিয়ে তিনি ভোটের মাঠে আসেন, তাহলে ভালো কথা।

তবে এ ক্ষেত্রে উত্তম হলো, নিজেই নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা না করা, বরং মুসলমানদের একটি সৎ ও যোগ্য দল কাউকে এ কাজের যোগ্য মনে করে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করা। কিন্তু যিনি যোগ্যতার মাপকাঠিতে প্রার্থী হওয়ার অনুপযুক্ত, তিনি যদি প্রার্থী হয়ে যান, তাহলে জাতির সঙ্গে ধোঁকাবাজ, ধান্ধাবাজ, বিশ্বাসঘাতক ও খেয়ানতকারী হিসেবে গণ্য হবেন। নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে দেশ ও জাতির জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবেন।

জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তার নির্বাচনি এলাকার ও সেখানে বসবাসকারী জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি সহায়তা ও অনুদান এসে থাকে। সুতরাং জনপ্রতিনিধি যদি আমানতদার না হয়, তাহলে জনগণ বঞ্চিত হবে, এলাকার কাঙ্খিত পর্যায়ের উন্নয়ন হবে না। তাই জনপ্রতিনিধির মধ্যে আমানতদারি থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেছেন যে তোমরা আমানতকে তার উপযুক্ত প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেবে। আর মানুষের মাঝে যখন কোনো বিষয়ে বিচার-ফয়সালা করবে, তখন অবশ্যই ইনসাফের ভিত্তিতে তা করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। আল্লাহ সব কিছু শোনেন ও দেখেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৫৮)

সুতরাং যে ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি হওয়ার আকাক্সক্ষা নিয়ে প্রার্থী হন, তার মধ্যে যদি পরকালের সামান্য ভয়ও থাকে, তাহলে তাকে নির্বাচনে আসার আগে গভীরভাবে চিন্তা করে বুঝতে হবে এই পদে নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে তার দায়িত্ব শুধু নিজের এবং পরিবার-পরিজন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর তার নির্বাচনি এলাকার আওতাধীন সবার ভালো-মন্দ তার দায়িত্বে অর্পিত হয়। ইহ ও পরকালে তাকে এই দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তাকে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টিকে জমিনে ক্ষমতাসীন করেন, তখন তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে মৌলিক চারটি কাজ অবশ্যই করতে হবে ১. সমাজে নামাজ চালু করা। ২. জাকাত ঠিকভাবে আদায় ও বণ্টন করা। ৩. সৎকাজ চালু করা এবং ৪. মন্দ কাজ তথা পাপের কাজ বন্ধ করা।

যারা নির্বাচিত হয়ে উপরিউক্ত চারটি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ ও সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন এবং কোনোরকম অন্যায়, পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতি করবেন না, তারা অসীম মর্যাদার সঙ্গে জান্নাতের অধিবাসী হবেন। সঠিকভাবে আল্লাহ ও রাসুলের কথামতো সামাজিক দায়িত্ব পালন করা মসজিদের ইমামতির চেয়েও মূল্যবান ও মর্যাদাপূর্ণ। কেউ যদি ক্ষমতা পেয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, দুর্নীতি করে, পক্ষপাতিত্ব করে জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে, সমাজে আল্লাহ-রাসুলবিরোধী কাজ করে, সমাজ-রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকে পাপের আখড়ায় পরিণত করে, সে ব্যক্তি বা তার দলই শুধু আল্লাহর গজবে নিপতিত হবে না, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রকেও আল্লাহর গজব ও আজাবে নিমজ্জিত করে ফেলবেন। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণেই রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দাফন-কাফনের চেয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের নেতা নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে হজরত আবু বকরকে (রা.) ইসলামের প্রধান খলিফা নির্বাচিত করেছিলেন।

আর সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে প্রতিনিধিদের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে বাইয়াত বা শপথ প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত হবে। জনগণের এই অধিকার প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা বা জনপ্রতিনিধি হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তরাধিকারী হিসেবে মতৈক্যের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর মদিনার মসজিদে সমবেত সবার উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে আপনাদের ওপর কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে যতক্ষণ আমি আল্লাহ তায়ালাকে মেনে চলি, ততক্ষণ আমাকে মেনে চলবেন। আর যখনই আমি আল্লাহকে অমান্য করব, আমার আনুগত্য করা আর আপনাদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে না।’ একই মূলনীতি তুলে ধরে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ফারুক (রা.) বলেছিলেন, ‘আমি সঠিক কাজ করব, আমাকে সাহায্য করুন। যখন আমার ভুল হবে, আমাকে সংশোধন করে দিন।’ আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]